তৌকীর আহমেদের নতুন চলচ্চিত্র স্ফুলিঙ্গ প্রেক্ষাগৃহে আসছে। মাত্র ২৩ দিনে এই সিনেমার শ্যুটিং শেষ করে এর মাঝেই ‘টক অব দ্য টাউন’ হয়েছে এই চলচ্চিত্রটি। তৌকীর আহমেদের সিনেমা নিয়ে দর্শকদের মাঝে আগ্রহ থাকে সবসময়ই। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি। কিন্তু কোন দিকগুলো দর্শকদের আকর্ষণ করছে বেশি? আসুন আজ আলোচনা করা যাক কোন ৫টি কারণে দর্শক ‘স্ফুলিঙ্গ’ দেখবেন!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার ৫০ বছরকে ট্রিবিউট দেয়া

এই বছরটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি বছর। বিগত বছর ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী আর এই বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্রে সেটি উদযাপনের রেশমাত্র ছিল না। অথচ সংস্কৃতিতে বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার প্রভাব অনস্বীকার্য। তৌকীর আহমেদের মতো মেধাবী পরিচালক সে ভুলটি করেন নি। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ট্রিবিউট দিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন, যেখানে উঠে আসবে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের নির্যাস। আর সে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দিবেন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তির বছরে। সেভাবেই শুরু হলো স্ফুলিঙ্গের গল্প। আধুনিক এক গল্পে কীভাবে উঠে আসলো স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু! জানতে হলে দেখতে হবে স্ফুলিঙ্গ।

স্টার সিনেপ্লেক্সের শিডিউল

তৌকীর আহমেদের ট্র্যাকরেকর্ড

তৌকীর আহমেদ। অভিনেতা হিসেবে যিনি অর্জন করেছেন অনেক কিছুই। কিন্তু পরিচালক হিসেবে তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন বারবার। জয়যাত্রা, দারুচিনি দ্বীপ, রুপকথার গল্প দিয়ে তিনি পরিচালনা শুরুর প্রথম দশকেই জাত চিনিয়েছেন। পরিচালনার দ্বিতীয় দশকে এসে অজ্ঞাতনামা দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী দর্শককে করেছেন মন্ত্রমুগ্ধ। হালদা, ফাগুন হাওয়ায় আবারও বুঝিয়েছেন যে তিনি ‘গুড ফিল্ম’ বানাতে পারদর্শী। তাই তিনি যখন ‘স্ফুলিঙ্গ’ ঘোষণা দিলেন, স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের প্রত্যাশা আকাশ ছুঁয়েছে। স্ফুলিঙ্গ সিনেমার ট্রেইলার, গান দেখে সে ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়েছে। গল্পটা আধুনিক হলেও পরিচালক তৌকীর আহমেদ তার নির্দেশনার দক্ষতায় তুলে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও শোষণের বিরুদ্ধে এক অনবদ্য সঙ্গীতময় প্রতিবাদ।

মাল্টিস্টারার কাস্টিং

বাংলা সিনেমায় একাধিক স্টারদের নিয়ে কাজ করার প্রবণতা খুবই কম। অনেকেই ইগো প্রবলেম হ্যান্ডেল করতে না পেরে পিছু হটেন। কেউবা শুরু করেও শেষ করতে পারেন না। কিন্তু তৌকীর আহমেদ খুব ভালোভাবেই জানেন কীভাবে তার স্টারদের হ্যান্ডেল করতে হয়। তাই পরী মনি, মম, শ্যামল মাওলাকে নিয়ে তিনি একসাথে কাজ করতে পেরেছেন। এছাড়াও তৌকীর বরবাবরের মতোই দক্ষ অভিনেতাদের জড়ো করেন তার সিনেমার জন্য। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। রওনক হাসান, হাসনাত রিপন, শহীদুল আলম সাচ্চু, মামুনুর রশীদসহ আরও অনেকে। এত সব অভিনেতার সাথে যুক্ত হয়েছেন সিনেমার সঙ্গীত পরিচালক পিন্টু ঘোষও। তাই দারুণ একটা মাল্টিস্টারার সিনেমা হয়েই আসছে স্ফুলিঙ্গ।

স্ফুলিঙ্গের অভিনয়শিল্পীরা

সিনেমায় ব্যান্ডের গান

বাংলা সিনেমায় ব্যান্ডের গান ব্যবহার একেবারেই যে করা হতো না এমনটা নয়। কিন্তু সে ট্রেন্ড অনেকটাই স্তিমিত। ব্যবহার করা হলেও দেখা যেত আগের কোন হিট ব্যান্ডের গানই সিনেমায় নতুন করে দেখানো হয়েছে। সেখানে স্ফুলিঙ্গ-তে তৌকীর আহমেদ ও সঙ্গীত পরিচালক পিন্টু ঘোষ পুরোদস্তুর ব্যান্ডের গানই নিয়ে এলেন। সিনেমায় শেষ কবে ব্যান্ডদল দেখানো হয়েছে ও ব্যান্ডের গান শোনানো হয়েছে সেটা মনে করতেই বেশ সময় লেগে যাবার কথা। পিন্টু ঘোষের সঙ্গীতায়োজনে ‘তোমার নামে’ গানটি ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে দর্শকদের মাঝে। সেখানে দেখা যায় ব্যান্ড দল এই গানটি পারফর্ম করছে হাজারো মানুষের সামনে। এই গানটি ছাড়াও স্ফুলিঙ্গ সিনেমার অন্য আরেকটি গানও হয়েছে দর্শকপ্রিয়। সিনেমায় শ্রুতিমধুর গানের সঙ্কটকে তৌকীর আর পিন্টু ঘোষ যেভাবে দূর করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। এই গানগুলো সিনেমাহলের বড় পর্দায় দেখার আবেদনই হবে অন্যরকম।

পলিটিক্যাল সিনেমার প্রয়োজনীয়তা

আমাদের দেশে সিনেমা হয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় সিনেমা হয় কয়টি? ঘুরেফিরে সে পারিবারিক প্রেমের গল্পে আটকে থাকা আমাদের সিনেমাতে এক ঝলক মুক্তির বাতাস নিয়ে আসছে স্ফুলিঙ্গ। পলিটিক্যাল সিনেমার প্রয়োজনীয়তা একটি দেশে অনেক, বাংলাদেশে তো আরও বেশি। আমাদের বর্তমান প্রজন্ম যদি বই থেকে, সিনেমা থেকে দেশের ইতিহাস জানতে না পারে; জানতে না পারে দেশের রাজনৈতিক অস্তিত্ব, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই একটা প্রজন্ম রাজনীতি সচেতন না হয়েই বড় হবে। তাই তৌকীর আহমেদ সে দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। স্ফুলিঙ্গ দিয়ে তিনি দেখাবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আধুনিক প্রজন্মের তরুণদের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। শোষণের বিরুদ্ধে একবার জাগ্রত বাঙালি যেন আবারও যেকোনো শোষণের বিরুদ্ধে জেগে ওঠে, সে বার্তাই যেন জানান দিতে চাচ্ছেন পরিচালক তার এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।

একটি চলচ্চিত্র যখন দেশের কথা বলতে চায়, দশের কথা বলতে চায়, বলতে চায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রাসঙ্গিকতার কথা আর সেটিকে উপস্থাপন করা হয় আধুনিক সময়কে মাথায় রেখে, দারুণ সঙ্গীতায়োজন ও নির্দেশনায়; তখন সে চলচ্চিত্রটি না দেখে উপায় থাকে না। স্ফুলিঙ্গ তেমনই একটি চলচ্চিত্র। বিনোদনের পাশাপাশি দর্শকদের ভাবনার রসদ যোগাবে, এমন চলচ্চিত্রকেই তো আমাদের উৎসাহ দেয়া দরকার।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা