বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে উপজীব্য করে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন পরিচালক সোহেল রানা বয়াতি। দুই বছর পার হওয়ার পর সিনেমার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্মাতার কন্ঠে ঝরে পড়লো হতাশা...

৭ই মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগুনঝড়া ভাষণ পূর্ব বাংলার মানুষকে করে তুলেছিলো অধিকার সচেতন আর মানুষের রক্তে বইছিলো স্বাধীনতার তুমুল আবেগ। ২০২১ সালে এসেও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সেই আবেগ আজও অক্ষুণ্ণ- রেসকোর্স ময়দানের সেই ভাষণ এখনো আমাদের শক্তি।  ২০১৭ সালের অক্টোবরে ইউনেসকো ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে এই ভাষণকে  স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশে শিল্পের নানান মাধ্যমে ৭ই মার্চের ভাষণ উঠে এলেও, পরিপূর্ণ সিনেমার অভাব রয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরেই। ২০১৯ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এই ভাষণ কে উপজীব্য করে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন সোহেল রানা বয়াতি। প্রথম আলোর সাথে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন,

“তরুণ প্রজন্মের আমরা যাঁরা আছি, এখন ভিজ্যুয়াল অনেক কিছুই দেখতে চাই। আমার মনে হয়েছে, এই বিষয় নিয়ে তো চমৎকার কাজ করা যায়। বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ তো কোনো ব্যক্তি কিংবা দলের নয়, এটি সবার। দেশের জন্য এই ভাষণ সব সময়ই সমসাময়িক ও প্রাসঙ্গিক।"

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শিমুল খান মোশন পিকচার্সের ব্যানারে ঘোষিত এই সিনেমার পোস্টার দেখা গিয়েছিলো সেই বছর। দুই বছর পার হওয়ার পর সিনেমার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্মাতার কন্ঠে ঝরে পড়ে হতাশা। ‘একদিন এই প্রাণের চলচ্চিত্রটি নিজের টাকায় বানাবো। হয়তো সময় লাগবে কিন্তু মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবো। শুধু অর্থের জন্যই কাজটা আটকে আছে।’- এমনটাই জানান নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতি। 

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

কিন্ত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শিমুল খান মোশন পিকচার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয় ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্যমতে, নির্মাতা পেশাদার নন বলেই ঝুলে আছে সিনেমার কাজ। এজন্য অর্থ লগ্নি করা থেকে বিরত আছেন তারা। অন্যদিকে, এই ব্যাপারে নির্মাতার বক্তব্য হচ্ছে, তিনি যাদের ভরসায় মাঠে নেমেছিলেন, তারা তাকে একা ফেলে পালিয়েছেন। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রভাবই হচ্ছে এই সিনেমার প্লট। ১৯৭১ থেকে বর্তমান- সেই ভাষণের তাৎপর্য কতটুকু আর কিরকম-সেটিই পরিক্ষা করা হবে এই সিনেমায়। ১৯৭১, ১৯৭৫ এবং ২০১৭- এই তিন সময় হচ্ছে সিনেমার পটভূমি। দুই বছর ধরে চিত্রনাট্য লেখার কাজ চললেও সিনেমার কাজ এখন পুরোপুরি থেমে আছে। জানা গেছে, ছবিটি নির্মাণ ঘোষণার পরই আজিজুল হাকিম, আশিষ কুমার লৌহসহ বেশ ক’জন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীর সঙ্গে ছবিটি সম্পর্কে প্রায় চূড়ান্ত আলাপ করেছেন নির্মাতা-প্রযোজক।

২০২০ সালের ৭ মার্চ ছবিটি মুক্তির কথা থাকলেও মাঝপথে আটকে গেছে সিনেমার কাজ। শুরুতে তুমুল উৎসাহে চিত্রনাট্য, কাস্টিং ও লোকেশন নিয়ে কাজ চললেও প্রযোজক পিছিয়ে পড়ায় থেমে যায় সিনেমার কাজ। নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতির ভাষ্যমতে- “সিনেমাটার সকল প্রিপারেশন চূড়ান্ত ছিলো। যারা বিনিয়োগ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন তারা বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে সরে গেছেন। প্রস্তাব নিয়ে গেলেই সবাই ধরে নেয় লস প্রজেক্ট! অথচ আমার সিনেমার বাজেট খুবই কম। এই যদি হয় পরিস্থিতি, তাহলে আর কি বলবো। সেজন্যই মনে হচ্ছে, এই ছবি নিজের টাকাতেই বানাবো। হোক সেটা ১০ বছর পর।”

সেলাই জীবনের পোস্টার

দুই বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের এক আড্ডায় এই সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা মাথায় আসে ‘টিয়ার গপ্পো’ কিংবা ‘সেলাই জীবন’ ফিকশন দিয়ে প্রশংসিত নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতির মাথায়। ছবিটি নির্মাণের জন্য এখনো কোনো সংগঠন, প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয় এগিয়ে আসেনি। এদিকে চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য হাজার কোটি টাকা বাজেটের খবরও শোনা যাচ্ছে, মুজিববর্ষকে ঘিরে রয়েছে বিচিত্র সব আয়োজন। সবকিছু মিলিয়ে হতাশ হলেও নির্মাতা জোর কণ্ঠে জানান, 'এই সিনেমা আমি বানাবোই। কে পাশে থাকলো আর থাকলো না এটা এখন আমার বিবেচ্য নয়। আমি সিনেমাটা বানাতে চাই, যে কোনও ভাবেই। হোক একটু বিলম্ব।’


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা