জাপানি গ্রেট ফিল্মমেকার আকিরা কুরোসাওয়া বলেছিলেন, ‘আমি স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই সত্যজিতের অভাব পূরণে যথার্থ এক মানুষকে পাঠানোর জন্য। আমি শুধু বলতে চাই, আব্বাস কিয়ারোস্তামির ফিল্মগুলো দেখুন।’

আমরা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অনেক কিছুই লক্ষ্য করি না যতক্ষন পর্যন্ত না সেই দৃশ্যটি ফ্রেমে বন্দী করা হয়। সিনেমা দিয়ে ফ্রেমবন্দী কবিতা লেখার অদ্ভূত ক্ষমতা ছিলো মানুষটার। তার হাত ধরে ইরানী চলচ্চিত্রাঙ্গনে নবতরঙ্গ এসেছিলো। যার নির্মাণশৈলী ছিলো সৌন্দর্য আর শৈল্পিকতায় মোড়ানো। নান্দনিক সিনেমার ধারক ও বাহক তিনি। সমসাময়িক ইরানী কবিতার প্রভাব তার সিনেমায় খুব সহজেই লক্ষ্যণীয়। 

আধুনিক চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম ‘ওটার’ বলা হয় তাকে। এ ধরণের মানুষগুলোকে ‘ওয়ান অফ এ কাইন্ড’ও বলা যায়। সিনেমার প্রায় সবকিছুই নিজেই তৈরি করতেন। রচনা, পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, সঙ্গীত ও শব্দ সংযোগ সবকিছুতেই তার একচ্ছত্র প্রভাব ছিলো। এর পাশাপাশি কবিতা, চিত্রশিল্প এবং গ্রাফিক ডিজাইনেও ছিলেন সিদ্ধহস্ত।

মায়েস্ট্রো সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিলেন জাপানি গ্রেট ফিল্মমেকার আকিরা কুরোসাওয়া। তার সিনেমা দেখবার পর কুরোসাওয়া বলেছিলেন, ‘আমি স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই সত্যজিতের অভাব পূরণে যথার্থ এক মানুষকে পাঠানোর জন্য। আমি শুধু বলতে চাই, তার ফিল্মগুলো দেখুন।’

অথচ এই মানুষটা চিত্রকলার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফেল করে যোগ দিয়েছিলেন ট্রাফিক পুলিশের চাকরিতে। তবে দমে যাননি। চেষ্টা চালিয়ে যান, যার ফলে কিছুদিন পর আবার পরীক্ষা দিয়ে চিত্রকলায় উত্তীর্ণ হন। সত্যজিতের সাথে অবশ্য আর আরেকটা জায়গায় মিল আছে। তারা দুজনাই পেশাজীবন শুরু করেছিলেন অঙ্কনবিদ ও শিশুতোষ গ্রন্থ ও সাময়িকীর প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে।

নিজের চেষ্টায় গড়ে তোলেন ইন্সটিটিউট ফর দ্য ইন্টেলেকচুয়াল ডেভেলপমেন্ট অফ চিলড্রেন অ্যান্ড ফর অ্যাডাল্টস। সংক্ষেপে যাকে বলা হয় কানুন। ১৯৭০ সালে এই কানুনেই নির্মীত হয় তার প্রথম সিনেমা- ১২ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র ব্রেড এন্ড অ্যালি। নিউ রিয়ালিজম বা নব্য বাস্তবতাবাদী এই শর্টফিল্মের গল্প এগিয়েছে দোকান থেকে রুটি কিনে হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরতে থাকা এক শিশুর সাথে রাস্তায় একটি কুকুরের মোকাবেলা নিয়ে। এক পর্যায়ে এই কানুনই হয়ে ওঠে ইরানের একটি অগ্রগামী চলচ্চিত্র স্টুডিও।

তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য নির্মাণ হচ্ছে দ্য ট্রাভেলার বা মুসাফির। ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া মুসাফিরের ঘটনাপ্রবাহ ছিলো ইরানের ছোট্ট শহরের ঝামেলা সৃষ্টিকারী এক ১০ বছরের শিশুকে নিয়ে। সে তেহরানে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা দেখতে বদ্ধপরিকর। এজন্য বন্ধু ও প্রতিবেশিদের সাথে ছল-চাতুরী করে এবং বিভিন্ন এডভেঞ্চারের পর অবশেষে খেলা শুরুর আগে তেহরান স্টেডিয়ামে পৌঁছুতে সক্ষম হয় সে।

দ্য ট্রাভেলার

সিনেমাটিতে ছেলেটির দৃঢ়সংকল্প এবং তার কাজের প্রভাবকে উপেক্ষা করে বিশেষভাবে তার আশেপাশের মানুষজন, বিশেষ করে নিকটাত্মীয়দের ওপর তার ঔদাসীন্য ফুটে উঠেছিলো। এটি ছিলো মানুষের ব্যবহার এবং ভুল-শুদ্ধের ভারসাম্য নিয়ে একটি পরীক্ষা। বাস্তবতাবাদ, ডাইজেটিক সরলতা, জটিল নির্মাণ শৈলির এবং ভৌত বা আধ্যাত্মিক অভিযাত্রার প্রি মুগ্ধতা- এই বিষয়গুলোতে তার দক্ষতা এই সিনেমার মাধ্যমে আরও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।

তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য নির্মাণ হচ্ছে দ্য রিপোর্টার, যা ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায়। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন রাজস্ব কর্মকর্তাকে নিয়ে এগিয়েছে এই সিনেমার কাহিনী, এতে আরেকটি বিষয়ের উপর বেশ দক্ষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো, আর সেটা হচ্ছে আত্মহত্যা।

দ্য রিপোর্টার

১৯৮৭ সালে ‘হোয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম?’ নির্মাণের মাধ্যমে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। এই সিনেমার কাহিনী অতিরিক্ত রকমের সহজ-সরল। মূল চরিত্র একটি আট বছর বয়সের স্কুল ছাত্র যাকে তার বন্ধুর নোটখাতা ফিরিয়ে দিতে হবে। স্কুল থেকে ভুলে সে এটা নিয়ে এসেছে এবং আগামী কালের স্কুলের আগে ফেরত দিতে না পারলে তার বন্ধু বাড়ির কাজ করতে পারবে না এবং তাকে স্কুল থেকে বের করেও দেয়া হতে পারে। বন্ধুর বাড়ি পাশের গ্রামে, কিন্তু বাড়িটি সে চেনে না। 

হোয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম?

একেক জনের কাছে জিজ্ঞেস করে সে খাতা নিয়ে বাড়িটি খুঁজতে থাকে। এতে ইরানের গ্রাম্য মানুষের বিশ্বাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বারংবার ইরানের গ্রাম্য দৃশ্য তুলে ধরা এবং সহজ-সরল বাস্তবতা এই সিনেমার মূল বৈশিষ্ট্য। এছাড়া সিনেমাটি নির্মীত হয়েছে পুরোপুরি একজন বালকের দৃষ্টিকোণ থেকে, শিশুতোষ অনেক সিনেমায় যেমন বড়দের প্রভাব ফুটে উঠে এতে তেমনটা হয়নি।

চলচ্চিত্র সমালোচকরা হোয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম? (১৯৮২), অ্যান্ড লাইফ গোস অন (১৯৯২) এবং থ্রু দ্য অলিভ ট্রিস (১৯৯৪) সিনেমা তিনটিকে কোক ট্রিলজি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ সবগুলো সিনেমায় উত্তর ইরানের কোকের নামক একটি গ্রামকে কেন্দ্র করে। সিনেমাগুলোর ভিত্তি ১৯৯০ সালের মনজিল-রুদবার ভূমিকম্প যাতে ৪০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলো। তিনি জীবন, মরণ, পরিবর্তন এবং সন্ততি এই থিমগুলোর মাধ্যমে তিনটি সিনেমাকে যুক্ত করেছেন।

সমালোচকরা কোক ট্রিলজি বা কোকের ত্রয়ীর নির্মাণ পদ্ধতিকে ডায়াগ্রামাটিক্যাল অর্থাৎ জ্যাতিমিক আকৃতিমূলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেমন, সিনেমায় দেখানো গ্রামের দৃশ্যগুলোকে আঁকাবাঁকা পথ এবং জীবন ও পৃথিবীর বিভিন্ন শক্তির জ্যামিতি বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট। অ্যান্ড লাইফ গোস অন (১৯৯২) এর আঁকাবাঁকা পথের ফ্ল্যাশব্যাক দৃশ্যটি দর্শকদেরকে তার আগের সিনেমা হোয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম? (১৯৮৭) এর কথা মনে করিয়ে দেয় যা ভূমিকম্পের আগে ধারণ করা হয়েছিলো। এর সাথে আবার সম্পর্ক রয়েছে থ্রু দি অলিভ ট্রিস (১৯৯৪) এর একটি দৃশ্যের যা ভূমিকম্প পরবর্তী পুনর্নির্মাণ দেখায়।

১৯৯০ সালের তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ ক্লোজ-আপ। সত্য ঘটনা অবলম্বনে হওয়া এই সিনেমাতে দেখা যায় একজন ছদ্মবেশী চলচ্চিত্রকার একটি পরিবারের কাছে নিজেকে মোহসেন মাখমালবফ নামে পরিচয় দেয় এবং বলে তার পরবর্তী সিনেমায় এই পরিবারের সদস্যদের দিয়ে অভিনয় করাবেন। একসময় বুঝতে পেরে পরিবারটি তাকে চুরি-ডাকাতির দায়ে অভিযুক্ত করে। কিন্তু ছদ্মবেশী হোসেন সাবজিয়ান  দাবী করেন ছদ্মবেশ ধারণের কারণ অনেক জটিল। আধা প্রামাণ্য আধা কল্পিত এই সিনেমায় সাবজিয়ানের মাখমালবফের ছদ্মবেশ ধারণের পেছনে নৈতিক দায়বদ্ধতা যাচাই করে দেখা হয় এবং তার সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক দক্ষতা বা নৈপুণ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এই সিনেমাটি মার্টিন স্করসেসি, কুয়েন্টিন টারান্টিনোর মতো বিখ্যাত পরিচালকের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

ক্লোজ-আপ

খুব সম্ভবত তার সেরা কাজটি হচ্ছে টেস্ট অফ চেরি। ১৯৯৭ সালে ‘টেস্ট অব চেরি’ সিনেমার জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘পাম দ’ওর’ পুরস্কার জিতেছিলেন। তিনি একমাত্র ইরানি, যিনি চলচ্চিত্রের এই সম্মানজনক পুরস্কার লাভ করেছিলেন। টেস্ট অফ চেরির গল্পটা বাদি নামের এক মধ্যবয়স্ক ইরানী লোকের। যিনি তেহরানের আশেপাশে গাড়ি চালিযজিন একজন মানুষ খুঁজছেন যে তাকে একটি কাজ করে দিতে পারবে। বিনিময়ে তাকে অনেক অর্থ দেবেন।

কিছুদূর সিনেমটি দেখবার পর একসময় বোঝা যায় সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো, তাকে সমাধিস্থ করা। তিনি সেই রাতেই আত্মহত্যা করবেন এবং মারা যাওয়ার পর তাকে সমাধিস্থ করার জন্যই কাউকে খুঁজছেন।  ইতিমধ্যে এক পাহাড়ী বিরানভূমিতে তিনি নিজের কবর খুঁড়ে ফেলেছেন। তার মানে ঐ ব্যক্তির কাজ হবে কেবল ভোরে এসে তাকে মাটি চাপা দিয়ে যাওয়া। তিনি অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে এই কবরেই শুয়ে থাকবেন। একসময় মারা যাবেন। আর ভোরে এসে তাকে ঐ ব্যক্তি মাটি চাপা দিয়ে যাবে। কবরের পাশে কথামতো অর্থ-কড়ি সহ তার গাড়ি থাকবে। মাটি চাপা দেয়ার পর ঐ ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে চলে যাবে। এই হচ্ছে বাদির প্ল্যান।

ইতিমধ্যে এক পাহাড়ী বিরানভূমিতে তিনি নিজের কবর খুঁড়ে ফেলেছেন। তার মানে ঐ ব্যক্তির কাজ হবে কেবল ভোরে এসে তাকে মাটি চাপা দিয়ে যাওয়া। তিনি অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে এই কবরেই শুয়ে থাকবেন। একসময় মারা যাবেন। আর ভোরে এসে তাকে ঐ ব্যক্তি মাটি চাপা দিয়ে যাবে। কবরের পাশে কথামতো অর্থ-কড়ি সহ তার গাড়ি থাকবে। মাটি চাপা দেয়ার পর ঐ ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে চলে যাবে। 

ঘুরতে ঘুরতে বাদি তিন জনের দেখা পান। প্রথম জন, কুর্দি সৈনিক যে কবর দেখা মাত্রই দৌড়ে পালায়। সে মনে করেছিল লোকটি পাগল হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ব্যক্তি ইরানী মাদ্রাসার এক আফগান ছাত্র। ইসলাম ধর্মে আত্মহত্যা নিষেধ এই ছাত্র তাকে সে কথা বোঝানোর চেষ্টা করে। তৃতীয় জন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স্ক অধ্যাপক। এই অধ্যাপক তাকে আত্মহত্যা করতে নিরুৎসাহিত করে। এই ব্যক্তি বলে, সে নিজেও একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। বেঁচে যাওয়ার পর সে বুঝেছিল জীবন অনেক মূল্যবান। সে আত্মহত্যার জন্য বেরিয়েছিল খুব ভোরে লম্বা এক দড়ি নিয়ে। তারপর সে উঠে পড়ে চেরী গাছে দড়ি বাঁধতে।

কৌতুহলবশত সে খেয়ে ফেলে একটি চেরি ফল তারপর আরেকটি তারপর আরো একটি এভাবে সকাল হয়ে যায় সুমিষ্ট ফল খেতে খেতে। সকালে স্কুলগামী বাচ্চারা আসে চেরি গাছের নিচে, তাকে বলে গাছটি ঝাকিয়ে দিতে। বৃষ্টির মত চেরি পড়তে থাকে তখন, বাচ্চারা খুশি হয় পেটপুরে খায়। তারপর সে লোক ভাবে শুধুমাত্র চেরী খাওয়ার জন্য হলেও পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যায়! তারপর তার স্ত্রীর জন্য সে কিছু চেরি নিয়ে বাসায় ফিরে যায়। অধ্যাপকের এই ঘটনা শুনে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে যায় বাদি। তারপরের ব্যাপারটুকু বুঝতে হলে দেখতে হবে সিনেমাটি। এটা নৈতিকতা, আত্মহত্যার যৌক্তিকতা ও বৈধতা এবং দয়ার প্রকৃতি নিয়ে দারুণ এক উপাখ্যান। 

টেস্ট অফ চেরি 

তার প্রতিটা নির্মাণ কৌশলেও কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকতো। যেমন কাব্যিক চিত্রনাট্য, রূপক গল্প, রাজনৈতিক এবং দার্শনিক চিন্তাধারার প্রতিফলন। শিশু চরিত্রের প্রাধান্য, প্রামাণ্য চিত্রের মত সিনেমাটোগ্রাফি, প্রত্যন্ত এলাকা বেছে নিতেন শুটিং এর জন্য। গাড়ি নিয়ে একটা ফ্যাসিনেশন লক্ষ্য করা যেত তার সিনেমায়। বিশেষ করে গাড়ির ভেতর কথোপকথন। বেশিরভাগ সময়েই গাড়ির ভেতর রাখা একটি ক্যামেরা রেখে দিতেন। এরপর সেটা দিয়ে ধারণ করতেন চালক এবং যাত্রীর কথোপকথন।  

সুদীর্ঘ চল্লিশ বছরের ক্যারিয়ারে চল্লিশটিরও বেশি প্রামাণ্য, স্বল্প ও পূর্ণদৈর্ঘ চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। দুইবারের অস্কারজয়ী ইরানী পরিচালক আসগর ফারহাদিও তার কাজের ভক্ত। বিশ্ব সিনেমার স্বনামধন্য এক নক্ষত্র তিনি। যিনি সত্যিকার অর্থেই গত চার দশকের বেশি সময় ধরে রাজত্ব করে গেছেন বিশ্ব সিনেমাজুড়ে।  তার জন্যই আজ ইরানি সিনেমা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। যে নির্মাতাদের জন্য সিনেমার প্রতি অদম্য ভালোবাসা এবং আগ্রহ তৈরি হয়েছে আমার, তার মধ্যে তিনি তাই অন্যতম। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা