২০০৫ সাল। মিসির আলী সিরিজের আলোচিত উপন্যাস 'বৃহন্নলা' অবলম্বনে নাটক নির্মান করেন এক তরুণ নাট্য নির্মাতা। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার পরিচালনায় মুগ্ধ হয়ে মিসির আলী সিরিজের জনপ্রিয় উপন্যাস 'মিসির আলীর চশমা' তাকে উপহার দেন, যেটা ছিল তার অনেক বড় পাওনা। তার লেখা চিত্রনাট্য 'গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প'টি পুনে ফিল্ম ইন্সিটিউট পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত দশকে নাটক নির্মাণে যে কয়েকজন তরুন সম্ভাবনার জোয়ার এনেছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি নন্দিত নাট্যনির্মাতা অনিমেষ আইচ।

প্রথম নাটক 'কুফা' প্রচলিত ধারার নাটক না হওয়ায় কোন চ্যানেলই প্রচার করতে রাজি হচ্ছিল না। বছর পার হয়ে গেল। অবশেষে সেই সময়ে এগিয়ে আসে এনটিভি। এভাবেই দেশীয় নাটকে আবির্ভাব ঘটলো এক মেধাবী নির্মাতার। নাটক প্রচারের পর সর্বমহলে প্রশংসা, প্রথম নাটকের মাধ্যমেই অর্জন করে নিয়েছিলেন মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার। একে একে নির্মাণ করেন 'চোর এসে বই পড়েছিল', 'হাটকুঁড়া', 'মধু ময়রা', 'প্রেম ও ঘামের গল্প', 'পুনরাবৃত্তি', 'গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প', 'অজ্ঞাতনামা', 'নদীর নাম নয়নতারা', 'নিষাদ', 'তুমি আমার মা', 'কাঁটা', 'অপরিচিত', 'নয়টার সংবাদ', 'ভূতের ছানা', 'মানুষ বদল', 'চিনি খোর থেকে হলুদ', 'শুনতে কি পাও', 'মায়াবতী'সহ অসংখ্য নাটক।

নাট্যজগতের ইতিহাসে অন্যতম স্বনামধন্য নির্মাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানেও তিনি নাটক নির্মাণে ব্যস্ত। বর্তমান তরুন তুর্কিদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী হিসেবে পরিচিত অ্যালেন শুভ্র তার আবিষ্কার। অভিনয়েও দেখিয়েছেন নিজের প্রতিভা, মেজবাউর রহমান সুমনের 'তারপরও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে' ও 'ফেরার কোন পথ নেই থাকে না কোন কালে'-তে খল চরিত্রে অভিনয় করে বেশ সুনাম অর্জন করেন। অমিত আশরাফের 'উধাও' ছবিতেও অভিনয় করেন। নাটক নির্মাণের আগে শিল্প নির্দেশকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের ছবি 'গেরিলা'র শিল্প নির্দেশক ছিলেন তিনি।

ছবি- দ্য ডেইলি স্টার

বর্ণিল ক্যারিয়ারে শিল্প নির্দেশনায় 'গেরিলা' ছবির জন্য পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার, সেরা পরিচালক হিসেবে মোট চারবার পেয়েছেন মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

শিল্প নির্দেশনা, নাটক নির্মাণ, অভিনয়ের পর নিজের নামের সাথে যুক্ত করলেন নতুন পরিচয় চলচ্চিত্র পরিচালক। এই মাধ্যমে এসে বেশ জটিলতায় পড়েছিলেন। প্রথম সিনেমা পরিচালনার ঘোষনা দেন ২০১১ সালে, দুই বাংলার দেশবিভাগকে কেন্দ্র করে ছবি 'কাঁটাতার'। কিন্তু ঘোষনাই থেকে যায়, কাজ আর হয় না। ঐ বছরেই শহীদুল জহীরের গল্প অবলম্বনে নির্মাণে হাত দেন 'না- মানুষ' ছবিতে। কিন্তু এইখানেও দূর্ভাগ্য, প্রযোজকের অনিচ্ছা ও বিভিন্ন জটিলতায় ছবিটির কাজ আজও শেষ হয় নি।

ছবি- দ্য ডেইলি স্টার

দুই দুটি ছবি নির্মাণের ব্যর্থতার পর মাহফুজ আহমেদ ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় নির্মান করলেন 'জিরো ডিগ্রী'। মুক্তির আগে বেশ আলোচনায় থাকা এই ছবিটি এক শ্রেণীর দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছিল, ছবিটি ৪টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। তবে তার ভক্তরা একটু হতাশই হয়েছিলেন ছবিটি দেখে। পরের ছবি 'ভয়ংকর সুন্দর', মুক্তির আগে বেশ আলোচিত হওয়া স্বত্ত্বেও দর্শকদের হতাশ করে। তবে দর্শকরা কিছু শ্রুতিমধুর গান পেয়েছিল। সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে নিয়মিত থাকবেন। প্রত্যাশা রইলো তিনি নাটক নির্মাণের মতো চলচ্চিত্র নির্মাণেও সফল হবেন। আর নাটক নির্মাণেও ফিরে আসুক সেই চিরচেনা ভাব, এই আশা রাখি।

আজ এই স্বনামধন্য নির্মাতার জন্মদিন, শুভকামনা রইলো। শুভ জন্মদিন, অনিমেষ আইচ!


ট্যাগঃ

শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা