#NotJustACadburyAd শিরোনামের এ বিজ্ঞাপনে উঠে এসেছে প্রত্যেক পাড়া-মহল্লার সেসব দোকানের কথা, যারা এখনও লড়াই করছে বেঁচে থাকার জন্যে। করোনাকালের লোকসান থেকে বাঁচার জন্যে যে সংগ্রাম তাদের, সেটাকেই মূলত ক্যাডবেরি স্বীকৃতি দিয়েছে 'বলিউড বাদশাহ' শাহরুখ খানের মাধ্যমে। পাশাপাশি, প্রযুক্তিকেও চমৎকারভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এ উদ্যোগে...

মাদকের মামলায় সন্তান আটক কিংবা নিজের আবাসস্থলে মাদকের সন্ধানে পুলিশের তল্লাশি... বিভিন্ন ঘটনার মিলিত পরিপ্রেক্ষিতে শাহরুখ খানের সাম্প্রতিক সময় যে মোটেও ভালো যাচ্ছে না, তা খুব ভালোভাবেই দৃশ্যমান। এই খারাপ সময়ের টালমাটাল ডামাডোলে নাজেহাল হতে হতে তিনি আচমকা আবার এলেন আলোচনার শিরোনামে। তবে স্বস্তির বিষয় এটাই, এবার ইতিবাচকভাবেই আলোচনার শিরোনামে এসেছেন তিনি। 'ক্যাডবেরি'র জন্যে করা একটি বিজ্ঞাপনে তিনি এমন এক প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছেন, যা এরইমধ্যে আলোড়ন তুলেছে সবখানে। 

আমরা সবাই-ই জানি, মহামারীর সাথে গত দেড়-দুই বছর ধরেই যুঝছে উপমহাদেশের মানুষজন৷ তৃনমূল পর্যায় থেকে শুরু করে রথীমহারথী...মহামারীর ভয়াল গ্রাস এড়াতে পারেনি কেউই। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থাও ভয়ঙ্কর। লকডাউন অনেকের ব্যবসাতেই নামিয়েছে ধ্বস। নিয়মিতই আমরা খবরে দেখেছি, একের পর এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পাততাড়ি গুটিয়ে মূলস্রোত থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন বহু মানু্ষ। মহামারীর পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাও তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছে খানিকটা। যা পারেনি স্থানীয় দোকানদারেরা। যাদের খুঁটির জোর অতটা নেই। যাদের ট্যাঁকের অবস্থাও তথৈবচ। ক্যাডবেরি'র এই বিজ্ঞাপন মূলত তাদের জন্যেই। 

#NotJustACadburyAd শিরোনামের এ বিজ্ঞাপনে উঠে এসেছে প্রত্যেক পাড়া-মহল্লার সেসব দোকানের কথা, যারা এখনও লড়াই করছে বেঁচে থাকার জন্যে। করোনাকালের লোকসান থেকে বাঁচার জন্যে যে সংগ্রাম তাদের, সেটাকেই মূলত ক্যাডবেরি স্বীকৃতি দিয়েছে 'বলিউড বাদশাহ' শাহরুখ খানের মাধ্যমে। যে শাহরুখ খানের মুখে সবাই বড় বড় ব্রান্ডের নাম শুনেই অভ্যস্থ, সেই তিনিই যখন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার স্থানীয় দোকানগুলোকে প্রমোট করছিলেন, তখন খানিকটা চমকেই উঠতে হয়েছে যেন। গ্লোবাল ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর যখন রিজিওনাল ব্রান্ডের বার্তাবাহক হন, তখন খানিকটা চমকে ওঠা বোধহয় স্বাভাবিকও। 

প্রান্তিক মানুষজনই ছিলো এ বিজ্ঞাপনের উপজীব্য! 

এখানে ক্যাডবেরি এক চমৎকারিত্বও করেছে। যেহেতু শাহরুখ খানের পক্ষে ভারতের সব প্রদেশের, সব এলাকার, সব মহল্লার সব দোকানের নাম বলা সম্ভব না, তাই তারা মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে শাহরুখ খানের ভয়েস ও ফেস'কে ব্যবহার করেছে ভারতের সব জায়গার সব দোকানের নামকে শাহরুখ খানের মুখ দিয়ে বলাবার জন্যে। যাতে করে মনে হবে, শাহরুখ খানই ঐ স্থানীয় দোকানের নাম বলছে। ঐ দোকানকে প্রমোট করছে। যদিও এভাবেও সব দোকানকে কাভার করা সম্ভব ছিলো না ক্যাডবেরির পক্ষে। তাই তারা তাদের বিজ্ঞাপনে কাস্টোমাইজেশন এর ব্যবহারও রেখেছে, যেখানে চাইলে যে কেউ নিজের দোকানকে ভার্চুয়ালি প্রমোট করতে পারবেন শাহরুখ খানের মাধ্যমে। যাতে করে কারো দোকানের নাম বাদ যাওয়ার শঙ্কা থাকবে না। কেউ বৈষম্যের স্বীকার হবেন না। 

মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে কিং খান এর কন্ঠ ও চেহারাকেও ব্যবহার করা হয়েছে অভিনব এ বিজ্ঞাপনে!  

ক্যাডবেরির এই অভিনব উদ্যোগে স্থানীয় তৃণমূল ব্যবসায়ীরা যে যারপরনাই আনন্দিত, তা বলাই বাহুল্য। এই অসহায় মানুষদের কথা ভাবার জন্যে নেটিজেনরাও প্রবল উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন 'ক্যাডবেরি'র প্রতি। পাশাপাশি প্রশংসার জোয়ার বইছে শাহরুখ খানকে নিয়েও। এরকম দুর্দান্ত এক কাজের ফ্রন্টফেস যে তিনিই, সেটি মানুষকে আরো মুগ্ধ করেছে। হয়তো এ বিজ্ঞাপন প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জীবনে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না৷ কিন্তু কেউ যে তাদের স্বীকৃতি দিলেন, তাদের দুঃখে সমব্যথী হলেন, এই বিষয়টি  অনেককেই খানিকটা হলেও স্বান্তনা দিচ্ছে। এই অস্বস্তির সময়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। 

এই বিজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে আসা প্রশংসার বরাতে শাহরুখ খান সাম্প্রতিক কিছু বিপর্যয়ের দুঃখস্মৃতি খানিকটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন, সে আশা রইলো। পাশাপাশি শ্রদ্ধা রইলো 'ক্যাডবেরি'র প্রতিও। মার্কেটিং পলিসি হোক আর যা-ই হোক, অন্ততপক্ষে তারা যে এই জৌলুশহীন মানুষদের কথা ভেবেছেন, তাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন, সেজন্যে বড়সড় ধন্যবাদ অবশ্যই প্রাপ্য তাদের। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা