'দ্য ফ্যামিলি ম্যান টু' এর নয় এপিসোডের মধ্যে মাত্র চার এপিসোডে অল্প কয়েকটা দৃশ্যে এসেই বাজিমাত করেছেন তিনি। ক্রাইসিস মোমেন্টগুলোতে দুর্দান্ত সব ক্লু দিয়ে তিনি পুরো উপমহাদেশেই বইয়ে দিয়েছেন 'চেল্লাম ঝড়।'

আমরা যারা ফেলুদার গল্প-উপন্যাস পড়েছি, আমরা জানি, ফেলুদার বুদ্ধিতে যখন ঘাটতি পড়তো, তখন তিনি এক বিশেষ মানুষের শরণাপন্ন হতেন। সেই মানুষটির নাম সিধু জ্যাঠা। ইহজগতের এমন কোনো বিষয় নেই, যা তার নখদর্পনে নেই। আবার যদি শার্লক হোমসের দিকে তাকাই, দেখবো, মাঝেমধ্যে তিনিও দিকশূন্য হয়ে গেলে ছুটতেন তার বড়ভাই মাইক্রফট হোমসের কাছে। এই সিধু জ্যাঠা অথবা মাইক্রফট হোমস, তাদের চরিত্রের ব্যপ্তি খুব বেশি না হলেও চরিত্রের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের জন্যে তারা ক্রমশই ঢুকে পড়েছেন আমাদের অলিন্দের নিভৃততম প্রকোষ্ঠে। এরপর পাকাপোক্তভাবে আসন গেড়েছেন সেখানে। 

ঠিক এমন এক বিষয়ই লক্ষ্য করি, হালের ব্লকবাস্টার সিরিজ 'দ্য ফ্যামিলি ম্যান' এর দ্বিতীয় সিজনে। এই সিজন থেকে যদি একমাত্র প্রাপ্তি কিছু হয়, সেটা অবশ্যই- চেল্লাম স্যার। নিজের ভাষায় যিনি 'ওল্ড ডগ। 'টাস্ক' এর টপ এজেন্ট শ্রীকান্ত তিওয়ারির ভাষায় যিনি- প্যারানয়েড। যারা 'দ্য ফ্যামিলি ম্যান' এর প্রথম সিজন দেখেছি, আমাদের কাছে মনে হয়েছিলো, শ্রীকান্ত তিওয়ারি অলরাউন্ডার। কিন্তু দ্বিতীয় সিজনে এসে তার অতিমানবীয় অবয়বকে খানিকটা মানবীয় করা হয়েছে। এই সিজনে আমরা দেখি, মাঝেমধ্যে তিনিও বুদ্ধির সংকটে পড়েন। এই সংকটের সময়গুলোতে তিনি ফোন করেন রহস্যময় চেল্লাম স্যারকে, পুরো সিরিজে যে মানুষটির স্ক্রিনটাইম খুব একটা বেশি না। তবে স্ক্রিনটাইম কম হলেও,  দুর্দান্ত ক্রাইসিস মোমেন্টগুলোতেই তিনি খেল দেখিয়েছেন তার। আর এভাবেই দর্শকের হৃদয়ে ঢুকে গিয়েছে এই চরিত্র৷ 

চেল্লাম স্যার! 

এরপরই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। হেন কোনো মিম পোস্ট নেই, যেখানে এই মানুষটিকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করা হয়নি। কখনো তাকে তান্ত্রিক বানানো হচ্ছে। কখনো বানানো হচ্ছে গুগল। কখনো তুলনা দেয়া হচ্ছে সিধু জ্যাঠার সাথে৷ 'মানি হেইস্ট' এর সাথে মিলিয়ে তাকে বলা হচ্ছে ভারতের 'প্রফেসর'ও। প্রথম প্রথম শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মিম, ট্রল সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন রকম মহলেও।  উত্তর প্রদেশের পুলিশেরাও যেমন সম্প্রতি 'চেল্লাম স্যার'কে ব্যবহার করে  বানিয়েছে সামাজিক সতর্কতামূলক কিছু পোস্টার! 

উত্তর প্রদেশের পুলিশের সামাজিক সচেতনতামূলক পোস্টারেও আছেন চেল্লাম স্যার! 

'চেল্লাম স্যার' চরিত্রে অভিনয় করা উদয়াভানু মহেশ্বরীকে এর আগে 'কাবালি', 'সিরিয়াস মেন', 'মাদ্রাস ক্যাফে'র মতন সিনেমাগুলোতে দেখা গিয়েছিলো, ছোটখাটো বিভিন্ন চরিত্রে। সেগুলোতে খুব একটা দাগ কাটতে না পারলেও, 'দ্য ফ্যামিলি ম্যান টু' এর নয় এপিসোডের মধ্যে চার এপিসোডে এসেই বাজিমাত করলেন। এখন পুরো উপমহাদেশেই বইছে 'চেল্লাম ঝড়।'

বিভিন্ন কোম্পানি যেমন তাদের প্রচার-প্রসার এর কাজে ব্যবহার করছেন চেল্লাম স্যার এর বিভিন্ন স্টিল ইমেজ,  তেমনি টুইটারেও বইছে চেল্লাম তাণ্ডব৷ টুইটারে #ChellamSir এর যথেচ্ছাচারে এই হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং হয়ে গিয়েছে৷ মানুষজন ক্রমশই এই হ্যাশট্যাগে একের পর এক মিম বানিয়ে শেয়ার করছে টুইটারে৷ যতটা জনপ্রিয়তা চেল্লাম স্যার পাচ্ছেন, এতটা জনপ্রিয়তা মনোজ ও সামান্থাও পেয়েছেন কী না সন্দেহ। যেন বোলার হিসেবে এসে সেঞ্চুরিই করে ফেলেছেন মিঃ চেল্লাম!  

'চেল্লাম স্যার' মিমে সয়লাব নেটদুনিয়া! 

এই অদ্ভুতুড়ে চেল্লাম স্যার কে নিয়ে ঝড় আর কতদিন চলে, এটাই দেখার বিষয়। তবে ঝড়ের মেয়াদ যতদিনই হোক না কেন, 'দ্য ফ্যামিলি ম্যান' এর নেক্সট সিজনে আমরা যে আবার চেল্লাম স্যারকে দেখতে যাচ্ছি, তা নিয়ে আশাবাদী হবার মতন যথেষ্ট কারণ আছে বলেই বিশ্বাস৷

দর্শক ভালোবেসে চেল্লাম স্যারকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, চেল্লাম স্যারের সেখান থেকে খুব তাড়াতাড়ি পতন নেই। আশা করি, আরো নানা নির্মাণে বিভিন্ন অবতারে ফিরে আসবেন চেল্লাম স্যার অথবা উদয়াভানু মহেশ্বরী৷ 

শুভকামনা রইলো।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা