চরের মাস্টার যার কারণে এক বসায় দেখা যায়- তিনি খায়রুল বাশার। এত ন্যাচারাল মানুষটার কাজ! কোন ধরনের ভান নেই। লুৎফর রহমান জর্জ যে ধরনের রোলে সবচেয়ে ভাল করেন, সেই ধরনের একটি রোল পেয়েছেন...

বাল্যবন্ধুর হঠাৎ মৃত্যুর কারণে তার শহরের বন্ধু সিদ্ধান্ত নেয়, বাল্যবন্ধু যেখানে থাকতো- অর্থাৎ চর অঞ্চলে- সেখানে গিয়ে সে থাকবে আর বন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করবে, গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত করবে। তাতে নিজের প্রেমিকার সাথে বিয়েটা পাকাপাকিভাবে হোক বা না হোক। কিন্তু চরের মাস্টার হওয়া কি এতই সোজা? বাল্যবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ কি তারমানে অধরা থেকে যাবে? 

রাহিতুল ইসলামের 'চরের মাস্টার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার' নামক বই থেকে ভিকি জাহেদ এই প্রোডাকশন নির্মাণ করছেন। গল্পের খরা আর একই ধরনের গল্প দেখে দেখে যখন ক্লান্ত, তখন এরকম বই সিলেক্ট করে তা থেকে কিছু নির্মাণ আশাবাদী করে। 

চরের মাস্টার যার কারণে এক বসায় দেখা যায়- তিনি খায়রুল বাশার। এত ন্যাচারাল মানুষটার কাজ! কোন ধরনের ভান নেই। আমাদের নির্মাতারা আশা করি আরও সুদৃষ্টি দেবেন এই চমৎকার অভিনেতার প্রতি। লুৎফর রহমান জর্জ যে ধরনের রোলে সবচেয়ে ভাল করেন, সেই ধরনের একটি রোল পেয়েছেন আর যথারীতি ভাল করেছেন। বিদ্রোহী দীপনের ক্যামেরায় চরের চমৎকার সব প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখাটা ছিল চোখের আরাম। শেষেরদিকে একটা গান রয়েছে, খুবই ভাল লেগেছে সেটা। 

যে ইস্যুতে চরের মাস্টার নির্মিত, সেই ইস্যুতে কাজ হওয়া খুবই জরুরি। তবে বিশ্বায়নের যুগে সেম ইস্যুতে এর চেয়েও বেটার কাজ দেখেছি বলে এক্সপেকটেশন স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি থাকে। স্বদেশ সিনেমার সাথে তিনটা জায়গা বেশ মিলে যায়, এই মিলটা হয়ত না থাকলেই দর্শক হিসেবে ভাল লাগতো। গ্রামে যাওয়ার পর একজন শহরের ছেলেকে দৈনিক আর কী কী স্ট্রাগলের মাঝ দিয়ে যেতে হয়; চেয়ারম্যানের হুমকি ধামকি ছাড়া- সে ব্যাপারে আরও ডিটেলিং দেখতে পেলে খুশি হতাম। 

ভিকি জাহেদ নিজের একটা স্টাইল তৈরি করেছেন। অনেকেই মিস্টার টুইস্ট বলেন তাকে তার বেশিরভাগ কাজের শেষে একটা টুইস্ট থাকার কারণে। তবে টুইস্ট দিতেই হবে, এই যদি সবসময় মনোভাব থাকে তবে সেটা সবসময় "ওয়ার্ক" নাও করতে পারে। চরের মাস্টারের শেষের ধাক্কাটা খুবই খেলো লাগলো, এর চেয়েও বেটারভাবে দেখানোর ক্ষমতা ভিকি জাহেদের আছে। বইটা যেহেতু পড়া হয় নাই, এটা বইয়ের ছিল না পরিচালকের নিজের উদ্ভাবন- জানা হল না। 

শহরের আরাম আয়েশের জীবনকে ছেড়েছুড়ে যারা আসলেই গ্রামাঞ্চলের জন্য কিছু করার চেষ্টা করছেন, তাদের প্রতি একটা শ্রদ্ধা চলে আসে এই প্রোডাকশনটি দেখার পর। "গ্রামের মানুষ তো খুবই সহজ সরল"- এই ধারণাটা যে কতটা মিথ্যা, সেটাও টের পাই এই ধরনের প্রোডাকশন দেখলে। 

আফসোস এটাই, পর্দায় শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হলেও, বাস্তবে সেই জিনিসটা হয় কদাচিৎ।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা