তথাকথিত নায়িকা নন, বরং অভিনয়ে তার দক্ষতা এবং পরিশ্রম তাকে এই সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রীতে পরিণত করেছে। মেধাবী সব অভিনেতার সাথে তিনি পাল্লা দিয়ে অভিনয় করছেন, তার অভিনীত চরিত্রগুলোর একটি আরেকটির চেয়ে আলাদা...

মিডিয়াতে তার পথচলার শুরুটা ২০১১ সালে। দেশ টিভির জনপ্রিয় ‘দূরপাঠ’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকা হিসেবে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সেই যাত্রা প্রায় দশ বছর পেরিয়ে পুরোদস্তুর অভিনেত্রী হিসেবে তাকে নিয়ে এসেছে দর্শকদের সামনে। তথাকথিত নায়িকা নন বরং অভিনেত্রী হিসেবেই তার দক্ষতা এবং পরিশ্রম তাকে এই সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী করে তুলেছে। বলছি এলিনা শাম্মীর কথা। 

সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া, সিনেমা নির্মান কমে যাওয়া, মধ্যবিত্ত দর্শকের বানিজ্যিক সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া সহ আরো অনেক কারনেই কঠিন সময় পার করছিলো আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। এরই মাঝে গত বছর করোনা পরিস্থিতি উদয় হলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত শিল্পী-কলাকুশলীরা এককথায় পুরোপুরি দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছিলো। 

তখনই এদেশের দর্শকদের কাছে বিনোদনের নতুন মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নেয় ওটিটি। সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও এটি এখন জনপ্রিয় এবং আলোচিত। তবে অনেক খারাপের মধ্যেও ভালো একটি বিষয় হচ্ছে ওটিটি আসার কারনে গল্পনির্ভর কাজ যেমন বেড়েছে তেমনি আমরা বেশকিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পেয়েছি যারা এই মাধ্যমে অসাধারণ অভিনয় দক্ষতার প্রমান দিয়ে মুগ্ধ করেছেন আমাদের। তেমনই একটি নাম এলিনা শাম্মী। 

এলিনা শাম্মী

এবছরের প্রথমেই রায়হান রাফি'র ‘জানোয়ার’ ওয়েব ফিল্মটি রিলিজ দেয়া হয় ওটিটিতে। সেই অর্থে এই ফিল্মে ছিল না কোনো তারকার উপস্থিতি। তবুও বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে অসাধারন মেকিং, সিনেমাটোগ্রাফি, আর কিছু দক্ষ অভিনয়শিল্পীর পারফরম্যান্স দিয়েই এককথায় বাজিমাৎ করে ‘জানোয়ার’। 

এই সিনেমায় ডাকাতদের কবলে পড়া একজন অসহায় নারীর ভূমিকায় এলিনা শাম্মীর অসাধারণ অভিনয় তাকে নতুন করে লাইমলাইটে নিয়ে আসে। জানোয়ারের সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই মার্চে মুক্তি পায় ‘গন্তব্য’ নামের মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকার ফলে সিনেমা হলেই মুক্তি দেয়া হয় এটি। এই সিনেমাতেও তার অভিনয়ের প্রশংসা হয়। 

এরপরেই অভিনেত্রী হিসেবে একের পর এক ভিন্নধর্মী কনটেন্টের কাজে চুক্তিবদ্ধ হতে থাকেন এলিনা শাম্মী। অভিনয়ের সুযোগ আছে, এমন চরিত্রেই খোজেই ছিলেন এলিনা শাম্মী। আর ওটিটির কল্যানে এখন ব্যতিক্রমী নানা গল্পে নির্মাতারা কাজ করছেন বৈচিত্র‍্যের সন্ধানে। এই ধারায় তিনিও কাজ করে যাচ্ছেন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের মেধা তুলে ধরার জন্য। কিছুদিন আগে আই থিয়েটারে মুক্তি পায় অনন্য মামুনের ‘কসাই’। এটিও ভিন্নধর্মী গল্প এবং কিছু শিল্পী-কলাকুশলীদের অসাধারণ অভিনয়ের কারণে আলোচিত হয়েছিল।  

লকডাউনের আগেই শাম্মী শ্রীমঙ্গলে শেষ করে এসেছেন বন্ধন বিশ্বাসের সরকারী অনুদানের সিনেমা ‘ছায়াবৃক্ষ’র কাজ। নিরব, অপু বিশ্বাস, শতাব্দী ওয়াদুদের সাথে এই সিনেমায় গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন তিনি। শাম্মী’র ভাষ্যমতে ‘ছায়াবৃক্ষ’ সিনেমায় একমাত্র গ্ল্যামারাস চরিত্রটিই তার। এর আগে এলিনা শাম্মি শেষ করেছেন রাসেল মিয়ার পরিচালনায় ‘বিদায় বেলা’ সিনেমার কাজ। ভাই-বোনের গল্প নিয়ে ভিন্নধর্মী একটি কাজ এটি। এতে তার বিপরীতে আছেন সাগর। শিগগিরই এই সিনেমার ডাবিং করার কথা। 

এলিনা শাম্মী

ইফতেখার শুভ’র পরিচালনায় ‘মুখোশ’ সিনেমার কাজও শেষ করেছেন তিনি। মোশাররফ করিম, রোশান, পরীমনি, ইরেশ যাকের, আজাদ আবুল কালামের মতো অভিনয়শিল্পীদের সাথে এই সিনেমায় পাল্লা দিয়েই অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও তাকে দেখা যায় মাঝেমধ্যে। 

এলিনা শাম্মী একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন- জানোয়ার ওয়েব ফিল্মটিতে অভিনয়ের কারণে শুধু দেশের দর্শকের কাছ থেকেই নয়, দেশের বাইরের অনেক দর্শকের কাছ থেকে আমি সাড়া পেয়েছি। জানোয়ার-এ আমার চরিত্রটি ছিলো অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমি বুকে অনেক সাহস নিয়ে চরিত্রটিতে অভিনয় করেছি, যার ফল আমি পেয়েছি। ধন্যবাদ ওয়েব ফিল্মটির পরিচালক রায়হান রাফিকে। আর এখন সত্যি বলতে কী ভালো ভালো সিনেমাতেই আমি কাজ করতে চাচ্ছি। পছন্দমতো গল্প আমার কাছে আসছে। আমি বেছে বেছে কাজ করছি। ছায়াবৃক্ষ, বিদায় বেলা, মুখোশ, ফিরে দেখা সহ প্রত্যেকটি সিনেমাতেই আমার চরিত্রে দর্শক ভিন্নতা পাবেন। একটির সঙ্গে আরেকটির চরিত্রের কোন মিল নেই। অভিনয়ের স্বতন্ত্রতা পাবেন। আমি নিজেও সিনেমাগুলোত কাজ করে সন্তুষ্ট। আশা রাখছি দর্শকেরও ভালো লাগবে।’ 

বলে রাখা ভালো, শাম্মী অভিনীত প্রথম সিনেমা ছিলো শাহ আলম কিরণের 'একাত্তরের মা জননী’। পরবর্তীতে তিনি অরূপ রতন চৌধুরীর ‘স্বর্গ থেকে নরক’ ও আশরাফ শিশিরের ‘আমরা একটি সিনেমা বানাবো’তে অভিনয় করেন। সাম্প্রতিক সময়ের এই গুনী এবং ব্যস্ত অভিনেত্রী সামনের দিনগুলোতে তার অভিনয় দ্যুতি ছড়িয়েই যাবেন ভিন্নধর্মী কাজের মধ্য দিয়ে এই কামনা রইলো।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা