যতদিন বাংলাদেশের ইতিহাস বিস্মৃত হবে না, যতদিন বর্ষপঞ্জির কালো কালো অক্ষরে পহেলা আগস্ট আসবে, ততদিন জর্জ হ্যারিসনও আসবেন নিয়মিত। কখনও গিটারের নীরব কান্নার সুরে, কখনো ম্যাডিসন স্কয়ারের বহু মাথার ভীড়ে। তিনি আসবেন। আসতে হবেই...

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে 'বাংলাদেশ' নামক ভূখন্ডের জন্মলগ্নে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যেসব বিদেশি মানুষ, নানা মাধ্যমের কল্যানে তাদের সম্পর্কে যতটুকু জানা সম্ভব হয়েছে, তাতে ক্রমশই বিনম্র শ্রদ্ধাবোধে মাথা নত হয়েছে। প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার ও জীবনের মায়া ত্যাগ করে বাংলাদেশে গনহত্যার কথা তুলে ধরেছেন পৃথিবীর সমুখে। যুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে লিখেছেন- দ্য রেপ অব বাংলাদেশ,  দ্য লেগ্যাসি অব ব্ল্যাড এর মতন অসাধারণ দুই বই।

আমেরিকার সিনেম্যাটোগ্রাফার লিয়ার লেভিন যুদ্ধকালে চলে এসেছেন বাংলাদেশে, মাসের পর মাস অক্লান্ত পরিশ্রমে তুলেছেন যুদ্ধের একেকটি অবিস্মরণীয় ইতিহাস। সেসব ফুটেজ তিনি দিয়ে গিয়েছেন গুণী নির্মাতা তারেক মাসুদ কে। তারেক মাসুদ সেসব ফুটেজ এবং আরো কিছু অনুষঙ্গ যুক্ত করে নির্মাণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র- মুক্তির গান। ১৯৭১ সালের ১লা আগস্টে সাধিত হয়েছে আরেকটি অসাধ্যসাধন। যুদ্ধের টানা নয় মাস,  যে রাষ্ট্রের কূটকৌশলে পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব বাংলার বুকে চড়াও হওয়ার রসদ পেয়েছিলো...সেই আমেরিকার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে সমবেত হয়েছে একদল মানবিক মানুষ৷ তারা এক মহাযজ্ঞে নেমেছে, যে মহাযজ্ঞের নাম- দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। 

দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ! 

পণ্ডিত রবিশঙ্করের উদ্যোগে আয়োজিত এ কনসার্টের পুরোভাগে ছিলো একটাই উদ্দেশ্য- যুদ্ধাহত বাংলাদেশের ক্ষতে সামান্য হলেও প্রলেপ দেয়া। তুমুল সাড়া জাগানো এ কনসার্ট থেকে উঠে আসে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫০ ডলার। যার পুরোটাই পৌঁছে দেয়া হয় ইউনিসেফের বাংলাদেশের শিশু সাহায্য তহবিলে। কনসার্টের শুরুতে রবিশঙ্করের 'বাংলাদেশ ধুন', সঙ্গীতের সাহিত্যিক বব ডিলানের 'আ হার্ড রেইন ইজ গোননা ফল' কিংবা 'বিটলস' ব্যান্ডের একের পর এক সূরের মূর্ছনায় কেঁপে কেঁপে ওঠে ম্যাডিসন স্কয়ারে উপস্থিত হাজার চল্লিশেক দর্শক। যেন পৃথিবীর বুকে নেমে আসে একখণ্ড সঙ্গীত-স্বর্গ। এই খণ্ডাংশের স্বর্গের শেষভাগে মঞ্চে ওঠেন দাড়িগোঁফের জঙ্গল-ময় এক শিল্পী। রবিশঙ্কর এই কনসার্টের উদ্যোগ নেয়ার পর প্রথম যোগাযোগ করেছিলেন এই শিল্পীর সাথেই। এই কনসার্টের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও থাকেন অবিরল শ্মশ্রুময় এই মানুষ। 

তিনি মঞ্চে উঠলেন। হাতে নিলেন প্রিয় গিটার। গাইলেন টানা আটটি গান। কন্ঠে যেন ভর করেছে সরস্বতী। সেই ভর করা গলায়, নিজের লেখা শেষ গান 'বাংলাদেশ, বাংলাদেশ' এ আর্তনাদের সুরে জানালেন, বাংলাদেশের জন্যে সাহায্যের কথা। উপস্থিত দর্শকসারিতে বইয়ে দিলেন হাহাকার। মানুষটির নাম জর্জ হ্যারিসন। বিশ্বখ্যাত 'বিটলস' ব্যান্ডের অজস্র কালজয়ী গানের গায়ক। 'দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' নামক এই অবিস্মরণীয় উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা। 

বাস কন্ডাক্টর বাবা হ্যারল্ড হ্যারিসন এবং দোকান সহকারী মা লুইসের চতুর্থতম সন্তান হ্যারিসনের ছোটবেলা থেকেই গান নিয়ে পাগলামি। হবে নাও বা কেন, হ্যারিসনের মা নিজেও ছিলেন সংগীতের ভীষণ অনুরাগী। লুইস মাঝেসাঝে গান গাইতেনও। হ্যারিসন যখন তার গর্ভে, তখন তিনি নিয়মিত 'রেডিও ইন্ডিয়া'র সাপ্তাহিক শো শুনতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ইন্ডিয়ান মিউজিকের এই তবলা ও সেতারের আধ্যাত্মিক যুগল হয়তো তার গর্ভের সন্তানটিকে সুস্থ, স্বাভাবিক, শান্ত রাখবে। 

হ্যারিসন জন্মের পর স্বাভাবিক আর পাঁচটা বাচ্চার মতই বড় হতে থাকে। স্কুলে পড়াশোনা শুরু হয়। একদিন কৌতূহলী হয়ে ছোট্ট হ্যারিসন চলে যায় স্কুলের গানের ক্লাসে। সেখানে বাদ্যযন্ত্রের সারিতে গিটার দেখতে না পেয়ে অভিমান করে গানের ক্লাস থেকে চলে আসে চিরতরে। বাড়ির ক্যাসেট প্লেয়ারে প্রিয় শিল্পীদের গান আর ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে গিটারের ছবি এঁকে হোমওয়ার্কের খাতার পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরিয়ে রাখার দিনগুলোতে কাটে তাঁর শৈশব, কৈশোর। গান শুনতে শুনতে ততদিনে তার কিছু প্রিয় শিল্পীও তৈরী হয়েছে। জর্জ ফর্মবি, ক্যাব ক্যালোওয়ে, জ্যাংগো রেইনহার্ড সহ অনেকের গানই ভালো লাগে তার। তবে একজন একটু বিশেষভাবে প্রিয়। তিনি স্লিম হোয়াইটম্যান। ছোট্ট হ্যারিসন এই শিল্পীকে বিশেষ পছন্দ করে তার গিটারের কারণে। হোয়াইটম্যানের সব ছবিতেই তার সাথে একটি গিটার বরাবরের সঙ্গী। কিশোর হ্যারিসনের মন্ত্রমুগ্ধের চোখের ফাঁকে গিটার নিয়েই তাই আটকে পড়েন হোয়াইটম্যান। হ্যাঁ, গিটার নিয়ে এতটাই পাগলামি হ্যারিসনের! 

ছোট্ট হ্যারিসন! 

একদিন বাসার সামনে দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময়ে সে শুনতে পায় এলভিস প্রেসলি'র 'হার্টব্রেক হোটেল।' এই গান শুনেই সে হঠাৎ করে লক্ষ্য ঠিক করে নেয়, 'রক অ্যান্ড রোল' এর এক শিল্পীই হবে সে। এদিকে হ্যারিসনের বাবা করে ফেলেছেন আরেক কাজ। ছেলের গিটার নিয়ে পাগলামি তিনি জানতেন, টাকাপয়সা জমিয়ে ছেলেকে তিনি কিনে দিলেন ডাচ এগমণ্ড ফ্ল্যাট-টপ অ্যাকোয়াস্টিক গিটার। গিটার কিনে দিয়ে নিজের এক বন্ধুর কাছে পাঠিয়ে দিলেন ছেলেকে, গিটার শেখার জন্যে। খুব অল্পদিনের মধ্যেই গিটারের সাত-সতেরো শিখে নিলো হ্যারিসন।

এরপর নিজের ভাই পিটার ও কিছু বন্ধুকে যোগাড় করে গানের প্রাকটিস শুরু হয় হ্যারিসনের। বাসে করে স্কুলে যাওয়ার সময় পরিচয় হয় আরেক গান-পাগল পল ম্যাককার্টনির সাথে। হ্যারিসনের সাথে পলের বন্ধুত্ব প্রগাঢ় হয়। এই পলের সূত্রেই হ্যারিসন একদিন উপস্থিত হয় 'দ্য বিটলস' এর প্রাকটিসের আসরে। অবশ্য তখনও ব্যান্ডটি প্রারম্ভিক পর্যায়ে, 'দ্য বিটলস' হয়ে ওঠেনি তারা। 'দ্য কোয়ারিমেন' নামে টুকটাক শো করছে উঠতির দিকের এই ব্যাণ্ড। সেখানে অডিশন দেয় হ্যারিসন। কিন্তু ব্যান্ডের প্রোটাগনিস্ট জন লেনন একটু চিন্তিত হন। চিন্তার কারণও আছে। হ্যারিসনের বয়স তখন মাত্র পনেরো। এত অল্প বয়সে কাউকে ব্যান্ডে নেয়া যায় নাকি? ফলাফলঃ নাকচ হয়ে যায় হ্যারিসনের 'দ্য কোয়ারিমেন' এর সাথে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা।  

কিন্তু পল ম্যাককার্টনি নাছোড়বান্দা। বন্ধুকে এই ব্যান্ডের অংশ করার জন্যে তিনি জন লেননের সাথে আরেকটা মিটিং এর ব্যবস্থা করেন, লিভারপুলের এক বাসের দোতলায়। দ্বিতীয়বারের সাক্ষাতে জন লেনন মুগ্ধ হন জর্জ হ্যারিসনের লিড গিটারের পারফরম্যান্সে। এবার আর আটকাবে কে? হ্যারিসন যুক্ত হন 'দ্য কোয়ারিমেন' এর সাথে। যদিও হ্যারিসনের বাবা চাচ্ছিলেন, ছেলে লেখাপড়া করুক। কিন্তু হ্যারিসনের তখন অন্য চিন্তা। ষোল বছর বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি। একটা দোকানে কিছুদিন কাজ করেন। এরপর টাকা জমিয়ে 'দ্য কোয়ারিমেন' ব্যান্ডের সদস্যদের সাথে ট্যুরে চলে যান স্কটল্যান্ডে। গুটি গুটি পায়ে শুরু হয়  নতুন এক পথচলা।

দ্য বিটলস! 

নাইটক্লাবের কায়ক্লেশের দিন থেকে সুপারহিট সব অ্যালবাম.. 'দ্য বিটলস' এর উত্থানের পর থেকে যাপিত সুখ-দুঃখের সাথে জড়িয়ে থাকেন হ্যারিসন। স্টেজে তিনি গম্ভীর থাকতেন দেখে তার নাম হয়ে যায় 'কোয়ায়েট হ্যারিসন।' লিড গিটার থেকে মাঝেসাঝে ভোকাল হিসেবেও আসেন সামনে। গান কম্পোজিশন, সুর, লিরিক্স থেকে শুরু করে অনেক কাজেই থাকেন অগ্রভাগে। 'দ্য বিটলস' এর নানা এক্সপেরিমেন্টাল গানেরও জনক তিনি। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে- 'লাভ ইউ টু' গানের কথা। এই গানের সাথে সেতার ও তবলার কম্বিনেশন এনে 'দ্য বিটলস' মূলত শ্রদ্ধা জানায় ভারতীয় সঙ্গীতের প্রতিই। গানটিও হয় তুমুল জনপ্রিয়।

এই গানটির ঐতিহাসিক মূল্যও আছে। যে সময়ের কথা বলছি, তখন পাশ্চাত্যের মানুষজন এশিয়ার সংস্কৃতিকে খানিকটা হেয় করেই দেখতেন। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই গান যেন সেসব দুষ্কৃতিকারীর মুখে এক চপেটাঘাতে পরিণত হয়। হ্যারিসন ক্রমশই ওয়েস্টার্ন মিউজিক এর সাথে যুক্ত করেন এশিয়ান মিউজিক। এক্সপেরিমেন্টাল এবং ফিউশনাল মিউজিক নিয়ে মাতামাতি করতে করতে একসময়ে পরিচিত হন 'দ্য মহারাজা অব রাগা-রক' নামেও। 

পরবর্তীতে তিনি আগ্রহী হন ভারতীয় মিউজিক নিয়ে। তিনি ভারতবর্ষে আসেন। যুক্ত হন ভারতের নানা আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরুর সাথে৷ হ্যারিসনের গানে এশিয়ান সঙ্গীতের নানা ধারা ও বাদ্যযন্ত্র যুক্ত হতে থাকে৷ গানে ক্রমশই তিনি আনতে শুরু করেন ধর্মীয় নানা অনুষঙ্গ। তিনি একসময়ে হিন্দুত্ববাদের দিকেও ঝুঁকে পড়েন। 'হরেকৃষ্ণ' মন্ত্রে দীক্ষিত হন। স্ত্রী'কে নিয়ে ভারতের বিভিন্ন উপাসনালয়ে নিয়মিত আসা শুরু হয় তার। একদিকে যেমন ধর্মীয় নানা বিষয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছিলেন তিনি, ওদিকে 'দ্য বিটলস' এর সাথে নানা বিষয়ে দ্বন্দ্ব, মনোমালিন্য বাড়ছিলো নিয়মিত গতিতে৷ তবু এর মধ্যেও হ্যারিসনের গাওয়া, লেখা, সম্পাদনা করা গানগুলো তুমুল জনপ্রিয় হতে থাকে। কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন সুর কেটে গিয়েছিলো। হ্যারিসন বেড়িয়ে আসেন 'দ্য বিটলস' থেকে। নিজের লেখা কিছু গান ছিলো। সেগুলো নিয়ে অ্যালবাম বের করেন। সেই অ্যালবাম তুমুল জনপ্রিয়ও হয়। মাঝে গানের কপিরাইট নিয়ে করা এক মামলায় খানিকটা ঝক্কিঝামেলাও পোহাতে হয় তাকে। 

সাল একাত্তর। বাংলাদেশে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ। জর্জ হ্যারিসন আমেরিকা থেকে যুদ্ধের খবর আঁচ করতে পারেন অনেকটাই৷ যেহেতু পণ্ডিত রবিশঙ্করের সাথে তার ঘনিষ্ঠ এক সম্পর্ক রয়েছে, সেহেতু যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা তার কাছে অনেকটাই পরিষ্কার। কিন্তু অবাক হন, আমেরিকার সংবাদপত্রগুলোর 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকা' সংবাদে। পক্ষপাতদুষ্ট এই সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় আচরণে তিনি বিরক্তও হন। বুঝতে পারেন, এই যুদ্ধ, এই রক্তপাতের পেছনে তার দেশও অনেকাংশে দায়ী। কিন্তু কী করবেন? অদ্ভুত এক আত্মদহনে ক্রমশই যখন বিড়ম্বিত হচ্ছিলেন, তখনই রবিশঙ্কর যোগাযোগ করেন তার সাথে। জর্জ হ্যারিসন আত্মতুষ্টির অভিনব এ সুযোগ পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন সঙ্গে সঙ্গেই৷ এরপর পহেলা আগস্ট-ম্যাডিসন স্কয়ার- ইতিহাসের মহামিলন। 

পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসন! 

এই কনসার্টের পরে আরো কিছু গান নিয়ে কাজ করেন তিনি। একটা সময়ে এসে হ্যারিসনের গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। ক্যান্সারের চিকিৎসা হিসেবে তাকে রেডিওথেরাপি দেয়া হয়। পরবর্তীতে তার ফুসফুস থেকে ক্যান্সার টিউমার অপসারণও করা হয়। কিন্তু তাও কর্কট রোগের প্রকোপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান না তিনি। রোগে ভুগে মাত্র আটান্ন বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর হিন্দুরীতি অনুযায়ী তার সৎকার করা হয়। দেহভস্ম উৎসর্গ করা হয় গঙ্গা ও যমুনার জলে। 

ক্যালেন্ডারের আগস্ট মাস বরাবরই ভিন্ন সব দ্যোতনা নিয়েই আসে বাংলাদেশের মানুষের কাছে। তবু এসবের মধ্যেও পহেলা আগস্ট স্বকীয় এক আবহে রূপান্তরিত হয় সৃজনশীল একঝাঁক মানুষের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের বিনম্র দৃষ্টান্তে। দান্তে যেমন বলতেন- সংকটে নিরপেক্ষ থাকাও অপরাধ, সেটি মেনেই দেখি এই মানুষদের সময়োপযোগী ত্যাগ। তাদের পুরোভাগে থাকেন আবার জর্জ হ্যারিসন। এই উপমহাদেশ, এই উপমহাদেশের সংস্কৃতি বা ইতিহাসে তিনিও মিশে থাকেন স্বীয় কৃতিত্বে। যতদিন বাংলাদেশের ইতিহাস বিস্মৃত হবে না, যতদিন বর্ষপঞ্জির কালো কালো অক্ষরে পহেলা আগস্ট আসবে, ততদিন 'জর্জ হ্যারিসন'ও আসবেন নিয়মিত। কখনও গিটারের নীরব কান্নার সুরে, কখনো ম্যাডিসন স্কয়ারের বহু মাথার ভীড়ে। তিনি আসবেন। আসতে হবেই। হয়তো এটাই মহাকালের অমোঘ নিয়তি।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা