সবমিলিয়ে এই অ্যান্থোলজির চতুর্থ পর্বও বাকি পর্বগুলোর মতন নিজগুণে অনবদ্য। তবে এই গল্পে আরো কিছু অনুষঙ্গ যোগ করলে, ন্যারেশন স্টাইল আরেকটু ছিমছাম ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করলে হয়তো পুরোপুরি জম্পেশ হতে পারতো পুরো বিষয়। প্লট যেরকম বিস্তীর্ণ, তাতে আরো কিছু থ্রিলার অথবা ড্রামাটিক এলিমেন্টস আনলে মন্দ হতো না...

ক্যামেরার সেতু দিয়ে সংযোগ ঘটে পর্দার চরিত্র ও বাস্তবের দর্শকের...

কথাটা মেটাফোর। 'ক্যামেরা' নামক জড়বস্তু ভেদ করে কারো পক্ষে কোথাও যাওয়া সম্ভব না, বাস্তবিক কোনো সংযোগ ঘটানোও সম্ভব না। সর্বোচ্চ হয়তো কিঞ্চিৎ আবেগের আদানপ্রদান স্থানান্তর সম্ভব। এর বাইরে আর কিছু নয়। 

তবে এমন যদি হয়, ক্যামেরার মধ্যে দিয়ে কোনো একজন দেখতে পাচ্ছেন ওপ্রান্তের সবকিছু, খুঁটিনাটি কোনোকিছুই এড়াচ্ছে না সে মানুষটির চোখ...তাহলে কেমন হবে! কতটা উদ্ভট হবে তখন প্রেক্ষাপট? সেটা কী আসলেই বাস্তব? নাকি পুরোটাই ভ্রম? 

লেখক শিবব্রত বর্মণের যে চারটি গল্প অবলম্বনে 'ঊনলৌকিক' সিরিজ এর নির্মাণগুলো দেখলাম, সেখানে যে জিনিস প্রথমে ভালো লেগেছে, গল্পগুলোর স্বকীয়তা। মোটা দাগে সবই সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি। তবুও নির্মাণগুলোর রক্ত-মাংস-অস্থি-মজ্জায় আলাদা অভিনবত্বের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। দ্বিতীয় ভালো লাগার বিষয়, প্রোটাগনিস্টের রকমফের। প্রথম গল্পে প্রোটাগনিস্ট- গল্পের শিরোনাম। দ্বিতীয় গল্পে এসে শিরোনাম টপকে প্রোটাগনিস্ট গল্পের কনসেপ্ট। তৃতীয় গল্পে আবার দুই চরিত্র এবং তাদের হেঁয়ালিপূর্ণ কথোপকথন হয়ে গেলো মূখ্যচরিত্র। চতুর্থ গল্পে এসে সবাইকে ছাপিয়ে লিড রোলে এক্সপেরিমেন্ট। নির্মাতা আগেই জানিয়েছিলেন, এই অ্যান্থোলজির গল্পগুলো অর্থোডক্স স্ট্রাকচারের হবে না। তবে প্রত্যেকটা পর্বেই যে এভাবে খোলনলচে পালটে ফেলা হবে সব, ভাবার বাইরে ছিলো সেটিও। 

ব্ল্যাক-হোয়াইট ন্যারেশন স্টাইল ছিলো অনবদ্য! 

সিরিজের চতুর্থ পর্ব 'হ্যালো লেডিজ' এ আসা যাক। এই পর্বের গল্পের সাথে আগের তিন পর্বের গল্পে মিল নেই এতটুকুও, তা বলাই বাহুল্য। দ্বিতীয়ত- এ গল্পের ব্ল্যাক-হোয়াইট স্ক্রিন টোনের ন্যারেশন স্টাইলেও খানিকটা অভিনবত্ব আনা হলো, কিছুটা এক্সপেরিমেন্টও করা হলো। মেলানকোলিক কিন্তু ইন্টারেস্টিং এক গল্পের ট্রিটমেন্টটাও বেশ খোলতাই করলেন নির্মাতা রবিউল আলম রবি। স্লোবার্ণ গল্প, প্রোপার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, দারুণ অভিনয়...সব মিলিয়ে এ পর্বও চমৎকার। 

অনেকদিন পর পর্দায় ইরেশ যাকেরের অভিনয় ভালো লেগেছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী'র ওয়েব কন্টেন্ট 'লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন' এ সিআইডি অফিসার হিসেবে ইরেশ যাকেরের অভিনয় খুব একটা ভালো লাগেনি। সে খেদ মিটেছে, এই নির্মাণে। তিনি যে চরিত্রে ছিলেন, সে চরিত্রে অপরাধবোধ, ভয়, চমক, নিষ্পৃহতা...এই উপাদানগুলোর উপস্থিতি একের পর এক প্রমাণের এক বিষয় ছিলো। সে দায়িত্ব ভালোভাবেই সামলেছেন তিনি। রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা'র রানটাইম খানিকটা কম। তবে যতটুকু পেয়েছেন, তার পুরোটুকুই উসুল করেছেন চোখের ভাষায়৷ সবমিলিয়ে দুজনের দ্বৈতশৈলী তাই বেশ উপভোগ্য। এছাড়াও টুকটাক যারা এলেন পর্দায়, তারাও ভালো। খুব একটা অভিযোগ নেই।

ইরেশ যাকের দুর্দান্ত অভিনয় করলেন! 

সবমিলিয়ে এই অ্যান্থোলজির চতুর্থ পর্বও বাকি পর্বগুলোর মতন নিজগুণে অনবদ্য। তবে এই গল্পে আরো কিছু অনুষঙ্গ যোগ করলে, ন্যারেশন স্টাইল আরেকটু ছিমছাম ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করলে হয়তো পুরোপুরি জম্পেশ হতে পারতো পুরো বিষয়। প্লট যেরকম বিস্তীর্ণ, তাতে আরো কিছু থ্রিলার অথবা ড্রামার অনুষঙ্গ যুক্ত করা যেতেই পারতো। এটুকুই যা খেদ। 

আলাদা করে নজর কেড়েছেন মিথিলাও! 

বাকিটুকু ঠিকঠাক, সুন্দর। 'ঊনলৌকিক'' এর মান ধরে রেখেছে এই পর্বও। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা