জীবনে চড়াই-উতরাই থাকেই। সেটাকে কে কিভাবে সামলাচ্ছেন, গুরুত্বপূর্ণ সেটাই। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে জন্ম নেয়া জেসন মোমোয়া যেমন এই বিষয়টিকে নিয়েছেন হাসিঠাট্টার ছলে। তাই তো, সিনেমা হোক বা বাস্তব জীবন- সদা হাসিমুখেই দেখা যায় তাকে...

যারা 'গেম অব থ্রোন্স' এর ভক্ত, তারা নিশ্চিতভাবে এই টিভি সিরিজের যে কয়েকটি চরিত্রের অনুপস্থিতি নিয়মিত উপলব্ধি করেন, তাদের মধ্যে 'খাল দ্রোগো' অন্যতম। সিজনের শুরুর দিকে পর্দায় যার ভীতিকর উপস্থিতি, একদল হিংস্র আদিবাসী মানুষের দলনেতা হিসেবে অটল মানসিকতার নেতৃত্ব, 'ড্রাগন কুইন' ডেনেরিস টারগেরিয়ান এর সাথে পরিণয়, খালিসির সাথে মিষ্টি খুনসুটি কিংবা অসহায়ের মতন মৃত্যু... 'খাল দ্রোগো' চরিত্রের রূপান্তর হয়েছিলো বেশ খোলতাই। নির্মাতারা বেশ যত্ন নিয়েই বানিয়েছিলেন চরিত্রটিকে। এবং এই চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি জনপ্রিয়  হয়ে গিয়েছিলেন জেসন মোমোয়া। 

সদাহাস্য জেসন মোমোয়া! 

হনুলুলু'তে জন্ম জেসনের। উনিশ বছর বয়সে এক ফ্যাশন ডিজাইনারের চোখে পড়েন তিনি। সেই ডিজাইনারের প্ররোচনাতেই অভিনয়ের চৌহদ্দিতে প্রথম পা রাখা। স্থানীয় এক সার্ফ শপে পার্টটাইম চাকরি আর সময়-সুযোগ পেলে দুয়েকটা নির্মাণে কাজ...এভাবেই চলছিলো। এরইমধ্যে কয়েকটি টিভি শো, সিনেমায় কাজ করার সুযোগ হয় তার। সেখান থেকেই 'গট' ডিরেক্টরদের নজরে পড়েন তিনি। শারিরীক সৌষ্ঠবের জন্যে 'খাল দ্রোগো' হিসেবে মনোনীত করা হয় তাকে। দর্শকেরাও বেশ পছন্দ করে নবাগত এই অভিনেতার দুর্দান্ত অভিনয়। 

খাল দ্রোগো! 

কিন্তু সমস্যা হলো, এই টিভি সিরিজে অভিনয় করে তিনি প্রশংসা পেয়েছিলেন ভালোই। কিন্তু অর্থকড়ি পান নি সেভাবে। 'গেম অব থ্রোন্স' শেষ হওয়ার পরেও অভাব-অনটনে কাটিয়েছেন বহুদিন। তখন সদ্য সদ্য নতুন সংসার পেতেছেন, ঘরে নতুন অতিথি এসেছে। কিন্তু হাতে টাকা-পয়সা নেই, কপর্দকহীন এক অবস্থা যেন। পর্দার দূরন্ত চরিত্রটিই বাস্তবে হয়ে গিয়েছিলো রিক্ত-নিঃস্ব-অসহায়। এমনও সময় গিয়েছে, ঘরের চুলো জ্বলেনি, অনাহারে কেটেছে পরিবারের সদস্যদের দিন৷ 

কিন্তু ভাগ্যদেবী জেসনের দিকে ফিরে তাকিয়েছিলেন খুব তাড়াতাড়িই। ডিসি কমিকসের 'জাস্টিস লীগ' এ কাজ করার সুযোগ পান জেসন। আলাদা করে নজর কাড়েন। এরপর তো ডিসি কমিকুসের 'অ্যাকুয়াম্যান' সিনেমায় লিড রোলে আসেন! ভাগ্য ফিরে যায়। অর্ধ-মানব আর অর্ধ-অ্যাটলান্টিয়ান আর্থার কারি চরিত্রে ফাটিয়ে অভিনয় করেন। জেসন মোমোয়া কে আর ফিরে তাকাতে হয় না। বিশাল এক ফ্যানবেজ হয়ে যায় পর্দার 'অ্যাকুয়াম্যান' এর।

সামনেই আসবে 'অ্যাকুয়াম্যান' সিরিজের নতুন সিনেমা- অ্যাকুয়াম্যান অ্যাণ্ড দ্য লস্ট কিংডম। এই সিনেমার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে 'অ্যাকুয়াম্যান' এর ভক্তকুল। আশা করা যায়, আরেকটি অ্যাকশন-ড্রামার কমপ্যাক্ট পটবয়লারই দেখার সুযোগ পাবে দর্শকেরা। 

অ্যাকুয়াম্যান! 

জেসন মোমোয়া'র জীবন ও ক্যারিয়ারের গ্রাফ থেকে যে বিষয় লক্ষ্যনীয়, জীবনের শত কায়ক্লেশেও তিনি বিমর্ষ থাকেন নি। হ্যাঁ, জীবনে চড়াই-উতরাই থাকেই। সেটাকে কে কিভাবে সামলাচ্ছেন, গুরুত্বপূর্ণ সেটাই। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে জন্ম নেয়া জেসন মোমোয়া যেমন এই বিষয়টিকে নিয়েছেন হাসিঠাট্টার ছলেই। তাই তো, সিনেমা হোক বা বাস্তব জীবন- সদা হাসিমুখেই দেখা যায় তাকে। যেন হাসিমুখে শত প্রতিবন্ধকতাকে উড়িয়ে, জীবনকে উপভোগেই তার আনন্দ কিংবা তৃপ্তি...


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা