দেশে ও দেশের বাইরে অসংখ্য সফল শো হয়েছে এই নান্দনিক নাটকের। টেলিভিশনের পর্দায় ধারাবাহিক নাটক হিসেবে নির্মান করা হয়েছে ‘যৈবতী কন্যার মন’। এবার সেলিম আল দীনের অনন্য এই সৃষ্টি আসছে সিনেমায়, শুটিং শুরুর আট বছর পর মুক্তির আলো দেখবে এটি...

বাংলা নাটকের শেকড়সন্ধানী নাট্যকার সেলিম আল দীনের অনবদ্য সাহিত্য যৈবতী কন্যার মন। এই সাহিত্য অবলম্বনে আমাদের দেশের মঞ্চের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবেও ধরা হয় এই ‘যৈবতী কন্যার মন’ নাটকটিকে। জনপ্রিয়তা বা প্রশংসা এবং শিল্পমান এতোটাই এই নাটকটির যে দেশের মঞ্চে তো বটেই দেশের বাইরেও অসংখ্য সফল শো হয়েছে এই নান্দনিক নাটকের। এমনকি টেলিভিশনের পর্দায় ধারাবাহিক নাটক হিসেবে নির্মান করা হয়েছে ‘যৈবতী কন্যার মন’। 

তবে এবার বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম চলচ্চিত্র পর্দায় আসতে চলেছে এই নানন্দিক গল্প। মূল নাটকের মতো করেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ‘যৈবতী কন্যার মন’। পরিচালনার দায়িত্বের আছেন দেশের অন্যতম নন্দিত  নির্মাতা নারগিস আক্তার। 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক নারগিস আক্তার নিজের পরিচালনায় সপ্তম সিনেমা নিয়ে হাজির হচ্ছেন আগামী শুক্রবার। সিনেমাপ্রেমীদের সামনে বড় ক্যানভাসে ব্যতিক্রমী এ গল্পটি তুলে ধরার দুঃসাহসী প্রয়াস রেখেছেন গুণী নির্মাতা। সরকারি অনুদান এবং ফেমকম বাংলাদেশের যৌথ প্রয়াসের এই সিনেমায় প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী আবদুর নূর এবং কলকাতার অভিনেত্রী সায়ন্তনী দত্ত।। গাজী আবদুর নূর কলকাতার জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল ‘রানী রাসমনি’ তে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। অন্যদিকে সায়ন্তনী দত্ত কলকাতার এই সময়ের সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমান করেছেন। 

গল্পের প্রধান দুই চরিত্র কালিন্দী আর পরী নামক দুই সময়ের দুই নারী। এই দুই নারী চরিত্রে সায়ন্তনীকে দেখতে পাবো আমরা। এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গায়েন আলাল। এই চরিত্রে আছেন গাজী আবদুর নূর। এছাড়া শক্তিশালী দুই অভিনয় শিল্পী গাজী রাকায়েত এবং গোলাম ফরিদা ছন্দাও আছেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।

যৈবতী কন্যার মন সিনেমার পোস্টার

গত ৩রা মার্চ সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে ‘যৈবতী কন্যার মন’। পরিচালক নার্গিস আক্তার জানিয়েছেন, ‘যৈবতী কন্যার মন’কে বোর্ড আনকাট সার্টিফিকেট দিয়েছে। এইডসের মতো ভয়াবহ ব্যাধি নিয়ে প্রথম সিনেমা ‘মেঘলা আকাশ’ দিয়েই আলোচনায় আসেন নারগিস আক্তার। প্রথম সিনেমাতেই মৌসুমী, ফেরদৌসী মজুমদার, শাকিল খান, পূর্ণিমা এবং বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমী, আইয়ুব খানের মতো অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য এই সিনেমায় অসাধারন অভিনয় করে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন মৌসুমী। 

এরপর একে একে ‘চার সতীনের ঘর’, ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’, ‘পৌষ মাসের পিরিত’, ‘অবুঝ বউ’ এর মতো সাহিত্য নির্ভর এবং ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। স্বীকৃতি হিসেবে দুই বার সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে জয় করে নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।   

‘যৈবতী কন্যার মন’ সিনেমাটি নিয়ে নারগিস আক্তার একটি সাক্ষাৎকারে জানান, এই সিনেমাটি শেষ করতে আমাকে নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত  সিনেমাটি শেষ করে সেন্সর ছাড়পত্র পাবার পরে এখন সামনেই মুক্তি দেবার বিষয়টা আমার জন্য অন্যরকম এক আনন্দ এবং স্বস্তির। 

এছাড়া ‘যৈবতী কন্যার মন’ চিত্রগ্রাহক হিসেবে আছেন এ আর জাহাঙ্গীর। সঙ্গীতের দায়িত্বে আছেন সুজেয় শ্যাম। এবং সম্পাদনায় মানস মুখার্জী। মূল গল্প ঠিক রেখে সিনেমার চিত্রনাট্য সামলেছেন পরিচালক নারগিস আক্তার নিজেই। প্রমোশনের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পোষ্টার রিলিজ দেয়া হয়েছে। গতকাল ট্রেলারও রিলিজ দেয়া হয়েছে। একটি জনপ্রিয় গল্প যেটি মঞ্চ এবং টেলিভিশন মাতিয়েছে এবার সেটি বড় পর্দায় কতোটা আবেদন রাখতে পারে সেটাই দেখার বিষয়। শুভ কামনা রইলো ‘যৈবতী কন্যার মন’ সিনেমার পুরো টিমের জন্য।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা