অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন ছিলো। হতে পারেননি। সেই ক্ষোভেই কি না, মুখের কদর্য ভাষায় তিনি ক্রমশ আক্রমণ করেন অভিনেতাদের। নোংরা গালিগালাজই তার একমাত্র অস্ত্র...

অন্তর্জাল বা ইন্টারনেট বিশাল বড় এক গোলকধাঁধা। নানা মানু্ষ বিচিত্র তরিকায় লোকচক্ষুর সামনে চলে আসে এখানে। কেউ ভুলভাল কার্যকলাপ করে অথবা কেউ ভুলভাল অভিনয় করে আবার কেউ অহেতুক গালিগালাজ করেই মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বহাল তবিয়তে আসীন হচ্ছেন এখানে৷ শেষ শ্রেণির মানুষের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প 'বিলাসী'র একটি কালজয়ী লাইন ছিলো এরকম-

অন্যের অপমান দেখার নেশা বড় নেশা 

কিছু শ্রেণির মানুষ গজিয়ে গিয়েছে যারা অন্যকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে, অকথ্য গালিগালাজ করে বিমলানন্দ অনুভব করেন। বাকিরা আবার এই গালিবাজদের সমর্থন দিয়ে তাদের উৎসাহ দিতে থাকেন। প্রশ্ন উঠতে পারে- এরকম সমালোচক বা গালিবাজ তো যুগে যুগে, প্রত্যেক কালেই ছিলো, তাহলে এখন এত কথা উঠছে কেন! হ্যাঁ, সমালোচক আগেও ছিলো৷ সত্যি৷ কিন্তু এখন যারা আছে, তারা সমালোচক তো একেবারেই না, বরং সভ্যতা-ভব্যতার সীমা অতিক্রম করা কিছু নিরেট উচ্ছৃঙ্খল মানুষ। এই মানুষদের মধ্যে সম্প্রতি নজর কেড়েছেন একজন, যিনি নিজেকে ডাকেন 'কেআরকে।' যার আসল নাম- কামাল রশিদ খান। যিনি বেশ কিছু বছর ধরেই বি টাউনের 'টক অব দ্য সিটি।'

সম্প্রতি সালমান খানের সাথে বিরোধে জড়িয়েছেন তিনি! 

একেবারেই শূন্য থেকে শুধুমাত্র মুখ অর্থাৎ গালিগালাজের জোরে এতদূর চলে এসেছেন তিনি৷ তথাকথিত 'শিল্প-সমালোচক' হওয়ার আগে অভিনেতা হওয়ারও ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিলেন বেশ ক'বার৷ 'দেশদ্রোহী' নামক এক সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। 'এক ভিলেন' সিনেমাতেও ছোটখাটো এক রোলে অভিনয় করেছিলেন। এটুকুই। রিয়েলিটি শো 'বিগ বস' থেকে বাদ পড়েছিলেন, বাজে ব্যবহারের কারণে৷ শিল্প-সংস্কৃতিতে তার অবদান এটুকুতেই সীমাবদ্ধ। 

অভিনয় করেছিলেন 'দেশদ্রোহী' নামের সিনেমাতে

এক অদ্ভুত চরিত্র তিনি। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসে আমরা কিছু পাগলাটে, ঝগড়াটে চরিত্র পেতাম, তিনি যেন সে চরিত্রেরই জীবন্ত প্রতিমূর্তি। নিজেকে শাহরুখ খানের মতন সেলিব্রেটি ভাবেন। তাই, 'এসআরকে কপি করে নিজের নাম করেছেন 'কেআরকে।' দুবাইয়ে নিজের বাড়ির নাম দিয়েছেন জান্নাত। বলাই বাহুল্য, শাহরুখ খানের বাড়ির নাম 'মান্নাত।' 

যাই হোক, মনে মনে নিজেকে 'হামবড়া' ভেবে শান্ত থাকলেও হতো। তা না৷ কঙ্গনা রানাউতের মতন মুখের খিস্তিখেউড়ে তিনি নির্বিশেষে আক্রমণ করেন সবাইকে৷ সম্প্রতি সালমান খানের 'রাধে' রিভিউ করার পরে যেমন তিনি আবার আলোচনার টেবিলে চলে এসেছেন। এতটাই কদর্যভাবে এই সিনেমার রিভিউ তিনি করেছেন, সালমান খানের প্রযোজকেরা মানহানির মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন, এই মানুষটির বিরুদ্ধে। 

অনেকে তাকে বলিউডের 'পুরুষ কঙ্গনা রানাউত'ও ডাকেন! 

শুধু সালমান খান না, বেশ কিছুদিন আগে তিনি শাহরুখ খানের নামেও গুজব ছড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে শাহরুখ খান যেই টুইটের বিপরীতে তাকে বেশ কড়া একটি জবাবও দিয়েছিলেন অনলাইনে। বিক্রম ভাটকেও  একবার অকথ্য গালিগালাজ করেছিলেন তিনি। ভাট তখন মানহানির মামলা করেছিলো এই লোকের বিরুদ্ধে। অজয় দেবগনের 'শিভা' মুভি রিলিজ করার সময়ে আবারও গোল পাকিয়েছিলো এই 'কে আর কে।' 

ধানুশের চেহারা, সানি লিয়নের দৈহিক আকৃতি, এলজিবিটি কমিউনিটি নিয়ে নোংরামো করেছেন প্রায়শই। সময়ে অসময়ে ভেতরের ক্লেদ উগরে দিয়েছেন মুখের ভাষা দিয়ে৷ এখনো দিচ্ছেন। পেশায় এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসা করা মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষটি হয়তো এই বাক্যটিকেই বেদবাক্য ভেবে এসব করে যাচ্ছেন- 

Negative publicity is the best publicity. 

বর্তমানের পৃথিবী এমনিতেই অশান্ত। মানুষের সহ্যশক্তিও এখন ক্রমশই কমছে। সেখানে কামাল রশিদ খানের মত মানুষে এসে পরিস্থিতিকে করছে আরো ঘোলাটে। এটা দেখে আরো হতাশ লাগছে, তার এই নোংরামোর বেশ বড়সড় এক সমর্থকগোষ্ঠিও আছে। যারা এই অসুস্থ মানসিকতাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঐক্যবদ্ধভাবে নোংরা মানসিকতার এই অপ-সংস্কৃতি দূর করার বদলে ভস্মে ঘি ঢালছে অগুনতি মানু্ষ। এতে যা হচ্ছে, এই উদ্ভট মানুষগুলো সমর্থনের প্রবল স্রোতে রাতারাতি পেয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয়তা, প্রচার, প্রসার, আত্মবিশ্বাস৷ গজিয়ে উঠছে একেকটা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন৷  যেটা আখেরে লাভ বয়ে আনছে না কারোরই। ক্ষতি আর বিদ্বেষই বাড়ছে শুধু। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা