ফারুকী'র নির্মাণ নিয়ে এমনিতেই আগ্রহ তুঙ্গে থাকে। সেখানে সমসাময়িক এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এবং একঝাঁক তারকা নিয়ে ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ 'লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন'... আশাবাদী না হয়ে উপায় আছে?

গত দুইদিন ধরে টাইমলাইনে খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন এক নির্মাণের টুকরো টুকরো কিছু 'বিহাইন্ড দ্য সিন' নিয়ে বানানো কম্প্যাক্ট ভিডিও ঘুরঘুর করছিলো। আগ্রহোদ্দীপক এই ভিডিও দেখে বুঝলাম, ফারুকীর নতুন কোনো কাজ আসতে চলেছে এবং প্রচারণার জন্যে এ ভিডিও বানানো হয়েছে। ক্রিয়েটিভ এই প্রচারণা মন্দ লাগলোনা। তাছাড়া মোস্তফা সরয়ার ফারুকী'র কাজ বলে কথা!  সে কাজের প্রচারণাও যে একটু ইনোভেটিভ হবে, তাতে আর সমস্যা কী? পরে জানলাম, পর্দার পেছনের এই দৃশ্যগুলো ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ 'লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন' থেকে নেয়া। যে ওয়েব সিরিজের ট্রেলার রিলিজ করেছে গতকাল। 

ট্রেলারের প্রথমেই যে বিষয়টা ভালো লেগেছে, একটানা ভায়োলিনের ব্যবহার৷ একেবারে প্রথম থেকেই বোঝা যাচ্ছিলো, খুব ইনটেনসিভ কিছু পেতে যাচ্ছি সামনে। দুই মিনিট বাইশ সেকেন্ডের ট্রেলারে অনেক কিছুর আঁচ পাওয়া গেলো। অনেককিছু রইলো অস্পষ্টও। 'ভ্যারাইটি'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফারুকী যেমন বলেছিলেন- কর্মক্ষেত্রে পেশাজীবী নারীদের উপরে যে বৈষম্য ও নির্যাতন হয়, সেটিকে তিনি এই ওয়েব সিরিজে এক প্রোটাগনিস্ট চরিত্রের মধ্য দিয়ে তুলে ধরবেন৷ ট্রেলারে সেটারই প্রতিফলন দেখা গেলো। সিরিজের মেইন চরিত্র সাবিলা৷ লিড ক্যারেক্টার সাবিলা এবং তার সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু মানুষের গল্প মিলেমিশে ওয়েব সিরিজ 'লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন।' 

ট্রেলার থেকে পাওয়া তিনটি বিশেষ ডায়লগ যদি একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করি

যেই প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ একসাথে মেলামেশা করে, সেই প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের ঘটনা হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। 

এই যে সাবিলা যে বলতেছে নারী হিসেবে সে বৈষম্যের স্বীকার, তো পুরুষ হিসেবে আমিও তো বৈষম্যের স্বীকার। সেই কথা তো আপনারা কেউ বলতেছেন না।

সে দিন আপনি একধরণের উত্তেজক পোশাক অর্থাৎ স্লিভলেস ব্লাউজ পড়ে গিয়েছিলেন কী না? 

এই কথাগুলো কোনো একজন আলাদা মানুষের না। সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন মানসিকতার মানুষজন এই মন্তব্যগুলো করেছেন৷ তারা ভিন্ন পেশা, ভিন্ন জীবন-বিধান অথবা ভিন্ন রুচিবোধের হলে কি হবে, এই তিনটি লাইনে তারা যেন একই তন্ত্রকে লালন করছেন সযত্নে।

পুরুষতন্ত্র! 

এই ওয়েব সিরিজে লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে কথা হবে, তা স্পষ্ট। তার পাশাপাশি পুরুষতান্ত্রিক এক সমাজে পেশাজীবী এক নারী ঠিক কতটুকু প্রতিকূল সমীকরণে দিনানিপাত করেন, কথা হবে তা নিয়েও। 'লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন' এ সমাজের এই বিষাক্ত বাস্তবতাটুকু মোটামুটি অবয়বেও যদি উঠে আসে, তাহলে সেটা অবশ্যই দারুণ কিছু হবে বলেই বিশ্বাস করি৷ সাথে ফারুকীর ডিরেকশন তো রইলোই। খুবই প্রাসঙ্গিক এই কনসেপ্ট বিবেচনা করে এই সিরিজের জন্যে অপেক্ষা থাকবে।

অনেকদিন পরে পর্দায় ফিরলেন আফজাল হোসেন! 

এবার আসি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথায়৷ শেষ কবে কোন ওয়েব সিরিজে বাংলাদেশের এতগুলো প্রিয়মুখকে একসাথে দেখেছি জানি না। আফজাল হোসেনকে দেখলাম অনেকদিন পর। সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবয়বে। গুণী অভিনেতা হাসান মাসুদও ফিরলেন। হাসান মাসুদ ট্রেলারে যে কয়টা কথা বললেন, সেগুলোর অধিকাংশই তীব্র সারকাস্টিক আর চটকদার। প্রত্যাবর্তন দারুণ হলো তারও। প্রোটাগনিস্ট চরিত্রে আছেন তাসনিয়া ফারিন। এছাড়াও পার্থ বড়ুয়া, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, ইরেশ জাকের, তানভীর হোসেন, মুকিত জাকারিয়া, মারিয়া নূর'কে দেখলাম ট্রেলারের বিভিন্ন অংশে৷ তবে আসল চমক পেলাম ট্রেলারের শেষের দশ সেকেন্ডে, চোখে চশমা আর গায়ে ছাইরঙা চাদর জড়িয়ে যখন পর্দায় এলেন চঞ্চল চৌধুরী!

ট্রেলারের শেষে এসে চমকে দিলেন চঞ্চল চৌধুরী! 

দুর্দান্ত সব কুশীলবের 'লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন' এর ট্রেলার আশাবাদী করেছে বেশ। আট পর্বের এই ওয়েব সিরিজ আগামী ৯ জুলাই আসবে 'জি ফাইভ' অ্যাপে৷ ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা থাকুক। ট্রেলার দেখে প্রত্যাশা যেভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে, সেটা মূল সিরিজে মোটামুটি বজায় থাকে কি না, লক্ষ্য থাকবে সেদিকে। পাশাপাশি নির্মাতা ফারুকী গুণী কুশীলবদের ঠিকঠাকমতো ব্যবহার করতে পেরেছেন, নাকি, অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট হয়েছে এখানে, দেখার বিষয় হবে এটিও। 

শুভকামনা! 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা