তিনি বলেছিলেন, “আমার কাছে জীবনের সততা ও নাটকের সত্যের মধ্যে কোন বিবাদ নেই, কলহ নেই। নাটকের সত্য বার বার আমাকে বলে, সত্য যে কঠিন, কঠিনের ভালবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।”

প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রাতেই, রাজশাহী কলেজের নিউ মুসলিম হোস্টলের মেইন গেটে। সেখানকার ঠিকাদারের শ্রমিকদের নিয়ে রাতারাতি ঐ শহীদ মিনার শহীদ মিনার নির্মিত হয়, যা ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের সকাল ৭টায় উদ্বোধন করা হয়। এই শহীদ মিনারের নির্মানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি বাংলাদেশের স্বনামধন্য নাট্যকার, অভিনেতা, ভাষাসৈনিক ও তৎকালীন ছাত্রনেতা 'মমতাজউদ্দীন আহমেদ'।

বাংলাদেশের নাট্যজগতে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁরই লেখা 'কূল নাই কিনার নাই' নাটকটি তো ইতিহাসবিখ্যাত। অভিনেতা হিসেবেও তিনি পেয়েছেন কিংবদন্তির মর্যাদা। ১৯৯৭ সালে নাট্যকলায় পেয়েছেন একুশে পদক।

মমতাজউদ্দীন আহমেদ
বরেণ্য নাট্যকার ও অভিনেতা মমতাজউদ্দীন আহমেদ

এখন পর্যন্ত বাংলা চলচ্চিত্রে যত 'বাবা'র চরিত্র সৃষ্টি হয়েছে, তার মধ্যে প্রিয় তালিকায় থাকবে শঙ্খনীল কারাগারের মতিনউদ্দিন সাহেব। হুমায়ূন আহমমেদ তার প্রতিটি ছবিতে বাবা চরিত্রকে বিশেষ করে তুলতেন। মতিনউদ্দিন চরিত্রে মমতাজউদ্দীন আহমেদের মুগ্ধ করা অনবদ্য অভিনয় এখনো স্মরণীয়। চিত্রা নদীর পাড়ে সিনেমায় শশীভূষন উকিলের চরিত্রে অভিনয় আরেকটি অনবদ্য কাজ। এছাড়া অভিনয় করেছেন এমিলের গোয়েন্দাবাহিনী, নদীর নাম মধুমতি, হাছন রাজা সিনেমায়। চাষী নজরুল ইসলামের হাছন রাজা, শাস্তি, সুভা সিনেমাতে চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচয়িতা ছিলেন। আফসোস, তিনি একবারও জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন নি। জীবনের ৮৫ তম বছর পার হবার আগেই মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন মৃত্যুর ওপারে।

শুভ জন্মদিন মমতাজউদ্দীন আহমেদ!


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা