হিন্দি, তামিল, তেলেগু, বাংলা- সব ভাষাই এলো ক্রমে ক্রমে। গানের ফাঁকে ফাঁকে। এই সিরিজের ব্যাপ্তি বোঝাতে গৃহকর্মী থেকে কর্পোরেট কর্মচারী... সবার সাথেই যুক্ত করা হলো 'লা কাসা দে পাপেল' এর নানা উপাদান! ভারতে যেন উৎসব নেমেছে মানি হেইস্ট সিরিজকে ঘিরে, সেই বার্তাকেই বানানো হলো এই প্রমোশনাল নির্মাণের মূল সূর...

স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম 'নেটফ্লিক্স' এর মার্কেটিং স্ট্রাটেজি অনেকেই বেশ আগ্রহ নিয়ে ফলো করেন। এবং একটা জিনিস অবধারিতভাবে সত্য, প্রপার রিসার্চ এবং হিউমার ব্লেন্ড করে যেভাবে 'নেটফ্লিক্স' তাদের ব্রান্ডিং এর কাজ করে, তা অনেকের জন্যেই রীতিমতো ঈর্ষার ব্যাপার। গ্রাহকদের ইন্টারেস্টিং সব ইমেইল পাঠানো থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া কন্ট্রোল, নিজেদের কন্টেন্ট নিয়ে মিমস, জোকস, ভিডিও বানানো, সমসাময়িক ইস্যুগুলোকে খুব সাটলভাবে নিজেদের কন্টেন্টে, প্রমোশনে প্লেসমেন্ট করা...এসব কাজে 'নেটফ্লিক্স' এর মতন সিদ্ধহস্তও কেউ নেই। তাছাড়া তরুণ প্রজন্মকে যেভাবে তারা আগ্রাসীভাবে কানেক্ট করে রাখে নিজেদের কাজগুলোর সাথে, তাও অনেক ইন্সটিটিউট এর জন্যে 'সলিড কেস স্টাডি' হওয়ার ক্ষমতা রাখে। 

নেটফ্লিক্সের 'মার্কেটিং এবং প্রমোশনাল স্ট্রাটেজি'র সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করতে এই লেখা লিখছি না। বরং এই লেখার উপজীব্য নেটফ্লিক্সের সাম্প্রতিক এক প্রমোশনাল কন্টেন্ট। এই স্ট্রিমিং সাইট এর অন্যতম আলোচিত টিভি সিরিজ 'লা কাসা দে পাপেল' শেষ হচ্ছে এ বছরে। সেপ্টেম্বরে এবং ডিসেম্বরে দু'দফায় দুই ধাপে আসবে দশটি পর্ব। যারা 'লা কাসা দে পাপেল' এর পাঁড়ভক্ত তারা তো অধীর আগ্রহে 'সিজন ফিনালে'র জন্যে অপেক্ষা করছেনই, যারা এই সিরিজকে খুব একটা গা করেন না, তারাও যে লুকিয়ে-চুরিয়ে এই সিরিজের পর্বগুলো দেখবেন, তাতেও ভুল নেই মোটেও। বহু আলোচনা-সমালোচনার এই সিরিজে ক্রমশই জমাট বাঁধছে অপেক্ষা, এবং ভক্তদের সেই অপেক্ষা বুঝতে পেরেই যেন নেটফ্লিক্স রিলিজ করেছে 'জলদি আও' নামের এই স্পেশাল ভিডিও। এবং বরাবরের মতনই নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করেছে আরেকবার!  

কন্টেন্টের শুরুতে সরব রইলেন অনিল কাপুর! 

ভারতের অডিয়েন্সকে টার্গেট করা বানানো এই ভিডিওতে কে নেই? অনীল কাপুর, রাধিকা আপ্তে, শ্রুতি হাসান, ভিক্রান্ত মাসে, রানা দাজ্ঞুবাতি, হার্দিক পান্ডিয়া এলেন ক্ষণে ক্ষণে। 'লা কাসা দে পাপেল' এর মাধ্যমে ট্রিবিউট দেয়া হয়েছিলো যে আইকনিক 'বেলা চাও' গান কে,  সেটির সুরেই শুরু হলো এই প্রমোশনাল কন্টেন্ট। ভিডিওতে একে একে আনা হলো 'লা কাসা দে পাপেল' এর টিপিক্যাল সব দৃশ্যাবলি এবং চরিত্রকে। বার্লিনের মৃত্যুর সময়ের সেই সিন, ডেনভারের টাকার উপরে শুয়ে গড়াগড়ি, নাইরোবির মৃত্যুশয্যা, প্রফেসরের আইকনিক মুভমেন্ট, বিশেষ লাল টেলিফোন, সিরিজের ট্রেডমার্ক জাম্পস্যুট আর দালি মাস্ক পরা মানুষজনের অদ্ভুত পাগলামি, সিরিজ নিয়ে ফ্যান থিওরি এবং চরিত্রগুলোর আলাদা আলাদা ফ্যান বেইজের চড়াই-উৎরাই... এলো সবই। ভালো লাগলো একাধিক ভাষার ব্যবহারও। হিন্দি, তামিল, তেলেগু, বাংলা...সব ভাষাই শুনলাম ক্রমে ক্রমে। গানের ফাঁকে ফাঁকে। এই সিরিজের ব্যাপ্তি বোঝাতে গৃহকর্মী থেকে কর্পোরেট কর্মচারী... সবার সাথেই যুক্ত করা হলো 'লা কাসা দে পাপেল' এর নানা উপাদান-উপাচারকে। ভারতে যেন উৎসব নেমেছে এই সিরিজকে ঘিরে, সেটাকেই বানানো হলো এই প্রমোশনাল নির্মাণের মুলসূর! 

যেন উৎসব শুরু হয়েছে এই সিরিজকে ঘিরে! 

নিউক্লেয়া'র কম্পোজিশনের এ গানে এসেছে ভারতের সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গও। ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র, হাওড়া ব্রিজ, ধূসর ট্রাম, রঙিন দোল উৎসব এমনকি 'দহি হান্ডি' উৎসবেও এলো লাল কটকটা জাম্পস্যুট, দালি মাস্ক! মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট এমনভাবে করা হলো, গোমড়ামুখো কারো মুখেও হাসি চলে আসবে নির্ঘাত।  কৃত্রিমতার বালাই নেই ছিটেফোঁটাও। দেদারসে সবাই নাচছে, গাইছে, সিজন ফিনালের জন্যে অপেক্ষা করছে। এই প্রমোশনাল ভিডিও দেখে তাই একটা কথাই মনে আসতে বাধ্য- 

প্রমোশন হলে হওয়া উচিত এরকমই! 

স্ট্রিমিং সাইট 'নেটফ্লিক্স' এমনিতেই ভারতীয় বাজার ধরার চেষ্টা করছে অনেকদিন ধরে। অনেকটুকু তারা সফলও। দারুণ দারুণ সব ভারতীয় সিনেমা, সিরিজ রিলিজ পাচ্ছে এই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে। দারুণ দারুণ সব প্রমোশনেও দেখাচ্ছে তারা চমক। কয়দিন আগে মুক্তি পাওয়া সিনেমা 'মিমি'র সময়ে তারা দেখিয়েছিলো আরেক চমৎকারিত্ব। 'মিমি' সিনেমা নেটফ্লিক্স থেকে মুক্তির আগেই লিক হয়ে যাওয়ায় তারা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সেটিকে অফিশিয়ালি রিলিজ করেন এবং সুন্দর একটা ক্যাপশনে বলে দেন- ডেলিভারি টাইমের আগেই বাচ্চার জন্ম দেয়া হলো। এই বিষয়টি দারুণভাবে মিলে যায় 'মিমি' সিনেমার কনসেপ্টের সাথেও। এই ঘটনার সময়েও অনেকে নেটফ্লিক্সের এই বুদ্ধিদীপ্ত উইটি মার্কেটিং স্ট্রাটেজির প্রশংসা করেছিলো। 

বাংলা ভাষাকেও দেখা গেলো প্রমোশনে! 

'লা কাসা দে পাপেল' এবার ভারতে তিনটি ভাষায় মুক্তি পাবে। তামিল, তেলেগু এবং হিন্দিতে যে মুক্তি পাচ্ছে এবারের সিজন, এই প্রমোশনাল ভিডিও'র মধ্যে দিয়ে তারা সেটিও জানিয়ে দিলেন অডিয়েন্সকে, অথচ আলাদাভাবে বোঝার সাধ্যি নেই মোটেও! আরোপিত নয় কিছুই। তাছাড়া নিজেদের কন্টেন্টের মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়, তা তো নেটফ্লিক্স জানেই। কিন্তু এই ভিডিওর মাধ্যমে 'মার্কেটিং এবং পাবলিসিটি'কে যে লেভেলে নিয়ে গেলো তারা, তা দীর্ঘশ্বাস বাড়াবে সমসাময়িক বহু প্রতিদ্বন্দ্বীরই। নেটফ্লিক্স এ জায়গাটিতেই বরাবর ছড়ি ঘোরায়, এবারেও ঠিক একই কাজই করলো তারা...


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা