নভেম্বর স্টোরি দারুণ এক ক্রাইম থ্রিলার! তামিল সিনেমাতে থ্রিলারের দারুণ দারুণ কাজ তো হচ্ছিলোই, এবার সিরিজে এসেও দেখিয়ে দিলো। ৭ পর্বের এই ক্রাইম থ্রিলার খুবই স্লো বার্ন কিন্তু সাসপেন্সফুল...

নভেম্বর স্টোরি দারুণ এক ক্রাইম থ্রিলার! তামিল সিনেমাতে থ্রিলারের দারুণ দারুণ কাজ তো হচ্ছিলই এবার সিরিজে এসেও দেখিয়ে দিলো। ৭ পর্বের এই ক্রাইম থ্রিলার খুবই স্লো বার্ন কিন্তু সাসপেন্সফুল। এক বিখ্যাত ক্রাইম নোভেলিস্ট আলঝাইমারে আক্রান্ত, তিনি খুব করে চেষ্টা করছেন শেষ একটা ক্রাইম নোভেল লিখে যাওয়ার পুরোপুরি স্মৃতিশক্তি হারানোর আগে। 

ওদিকে তার মেয়ে বাবার চিকিৎসার খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। নিজেদের পুরনো প্রায় বিধ্বস্ত বাড়িটা বিক্রি করবার জন্য বারবার সে বাবাকে প্রেশার দিচ্ছে কিন্তু কোনভাবেই রাজি করাতে পারছে না। একদিন হুট করে ঘটনাচক্রে তার বাবাকে সে আবিষ্কার করে তাদের সেই পুরনো বাড়িতে, পাশে রক্তাক্ত একটি লাশ। তার বাবা কিছুই মনে করতে পারছে না কী হয়েছিল? কীভাবে সে এখন তার বাবাকে উদ্ধার করবে? ঘটনা কি এতোটাই সরল, নাকি পেছনে রয়েছে বিশ বছর আগের এক ইতিহাস!

প্রথমে খুব সরলরৈখিক স্টোরিলাইন মনে হলেও প্রতি এপিসোডে পরতে পরতে গল্পের ভাঁজ খুলেছেন ডিরেক্টর। আমরা দর্শকরা তাই কিছু করতে না পেরে একের পর এক ডট বসিয়েই যেতে থাকি। অপেক্ষায় থাকি কেবল একটামাত্র সুযোগের যখন একটা লাইন টেনে মিলিয়ে দিতে পারবো সবগুলো ডটকে। সেরকম সুযোগ মাঝেমাঝেই আসে এই গল্পে। কিন্তু তবুও পরিষ্কার হয় না কিছুই। তাই আরও বেশি মজা লাগতে থাকে, কারও হয়তো বিরক্তও লাগতে পারে যে কেন এতো টানছে! 

ক্রাইম নোভেল, মেডিকেল থ্রিলার, ভায়োলেন্স বর্তমান সময়ে থ্রিলার জনরার কাজে যেসব উপাদানগুলো বেশি 'চালু' এখন তার প্রতিটি উপাদানই আছে এই গল্পে। সাথে পুলিশের ক্লামসি ইনভেস্টিগেশন থেকে একটু স্মার্ট হওয়া, অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো এসব বিষয় আনায় নতুনত্বও লেগেছে।

নভেম্বর স্টোরির একটি দৃশ্যে তামান্না ভাটিয়া

অভিনয়ের দিক থেকে বলতে গেলে সবাই যার যার চরিত্রে দারুণ কাজ করেছে। একসময় শরীরসর্বস্ব কাজ করা তামান্নাকে এরকম সিরিয়াস ক্যারেক্টারে দেখে বেশ ভালো লেগেছে। যদিও কিছুটা মিসকাস্টিং, তবুও তামান্নার কারণেই হয়তো এই সিরিজ এতোটুকু আলোর মুখ দেখতে পেরেছে। সিনিয়র এক্টররা বিশেষ করে তাদের যার যার চরিত্রে অসাধারণ ছিলেন। 

ডিরেকশনের কথা আলাদা করে বলতে হবে, প্রতিটা এপিসোডের শুরুর অংশটুকু বেশ এঙ্গেজিং ও একইসাথে কনফিউজিং মনে হয়েছে। কনফিউশনটা এখানে পজেটিভ অর্থে, কারণ আমি একটা গল্প দেখছি এর মাঝে যদি টের পাই আরেকটা গল্প দেখানো হচ্ছে শুরুতে যেটা পরে গিয়ে মেলানো হবে তখন স্বাভাবিকভাবেই কনফিউশন লাগে। মাথার ভেতর মেলানোর চেষ্টা করতে থাকি দর্শক হিসেবে। এইটুকু ব্রেইন ওয়ার্ক করানো যেকোনো রাইটার, ডিরেক্টরের জন্য দারুণ অর্জন। 

কমতি বলতে তেমন কিছু নেই। ৭ এপিসোড হওয়ায় আমার বোর লাগে নি। অল্পতেই শেষ হয়েছে মনে হয়েছে। তবুও আরেকটু স্পিড আপ করলে স্ক্রিনপ্লে, মন্দ হতো না। তখন শেষে এসে এতো তাড়াহুড়ো লাগতো না। বইকে ফোকাস করে, কোন রাইটারের অনুষঙ্গ এনে যেকোনো থ্রিলারে বেশি এঙ্গেজ হই আমি। আমার বারবার মনে হয় যিনি লেখক আছেন তিনিই সব করাচ্ছেন, তার হাতেই দাবার সব ঘুঁটি। কখন কোন ঘুঁটি চালতে হবে, তার চেয়ে ভালো কেউ জানেন না। ইনভেস্টিগেটর, পুলিশ, ভিক্টিম, সবাই অপেক্ষায় কখন লেখক কলম ঘুরাবেন সাদা পাতায়, আর একে একে সবাই যার যার বরাদ্দকৃত রোল প্লে করতে শুরু করবে। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা