বারবার রিজেক্টেড হয়েছেন, সিনেমায় অভিনয় করলেও তার দৃশ্য বাদ দেয়া হয়েছে এডিটিংয়ে; আর এখন তিনিই ভারতের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেতা। অথচ দেড়যুগ ধরে পঙ্কজ কেবল টিকে থাকার সংগ্রাম করে গেছেন, আউটসাইডার হয়েও নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন বলিউডে...

যে পরিবারে পঙ্কজ ত্রিপাঠির জন্ম, সেখানে বিলাসিতার সুযোগ ছিল না। যেখানে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সেই গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে কয়েক বছর হলো, তার শৈশব-কৈশোরে সূর্য ডুবে গেলে গ্রাম ঢাকা পড়তো আঁধারে। স্কুলের বিল্ডিং ছিল না, গাছতলায় চলতো পড়াশোনা। বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে গোপালগঞ্জ নামের জেলাটার দূরত্ব দুইশো কিলোমিটার, জেলাশহর থেকে তার গ্রাম আরও পঁচিশ কিলোমিটার। গ্রাম থেকে পাটনা অবদি যেতে আট-দশ ঘন্টা লেগে যেতো, রাস্তা ছিল ভীষণ খারাপ, এখন একটু ভালো হয়েছে। 

সেই গ্রামে, সেই পরিবারে জন্মে তিনি অভিনেতা হবার আকাশচুম্বী এক স্বপ্ন দেখেছিলেন কুড়ি বছর আগে। সাধনা, পরিশ্রম আর একাগ্রতা দিয়ে সেই স্বপ্নকে ছুঁয়েও দেখিয়েছেন। পঙ্কজ প্রমাণ করেছেন, মেধা আর পরিশ্রমের যুগলবন্দী দিয়ে আউটসাইডার হয়েও বলিউডের মতো জায়গায় সফল হওয়া যায়, সবচেয়ে ব্যাস্ত অভিনেতা হিসেবে নিজেকে পরিণত করা যায়। যতোই নেপোটিজম থাকুক, তোষামোদি চলুক, প্রতিভার ছাইচাপা আগুনকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি কোনদিন, ভবিষ্যতেও পারবে না।

মেট্রিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন গ্রামেই, মেধাবী ছাত্র হিসেবে নামডাক খুব একটা ছিল না, ভাবুক প্রকৃতির ছিলেন ছোট থেকেই। পরিবারের পেশা ছিল কৃষি, বাবা ভাবলেন, ছেলে তাহলে কাজে ঢুকে যাক, একটা ট্রাক্টর কিনে দেবেন, মন লাগিয়ে কাজ করুক। কিন্ত ট্রাক্টর কেনার টাকা জোগাড় হলো না, আর তাই বাবা বললেন, পড়ালেখাটাই শেষ করে ফেলো তাহলে। ডাক্তারী পড়তে ছেলেকে পাঠিয়ে দিলেন পাটনায়। এক ভোরে পাটনার বাসে যখন পঙ্কজ চড়ে বসছেন, তার কল্পনাতেও ছিল না, ক্যামেরার সামনে বসে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তিনি হাসতে হাসতে বলবেন, "সেদিন বাবার কাছে ট্রাক্টর কেনার টাকা থাকলে আমার কোনদিন অভিনেতা হওয়া হতো না, কৃষকই হতাম। জীবনে কিছু অপ্রাপ্তি থাকা খুব ভালো, অন্য গন্তব্যের রাস্তা খুলে দেয় সেই না পাওয়াটা। 

বাবা-মায়ের সঙ্গে পঙ্কজ ত্রিপাঠি

গ্রামে থাকলে স্কুলের নাটকে অংশ নিয়েছেন। পাটনায় এসে মেডিকেলের পরিবর্তে পঙ্কজ ভর্তি হলেন হোটেল ম্যানেজমেন্টে, পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত হলেন, বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্য হলেন পঙ্কজ। বিহারে তখন লালু প্রসাদ যাদবের সরকার, অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিধানসভার বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেন পঙ্কজ। বাড়িতে জানাননি, সাতদিন জেল খেটে বেরিয়ে এলেন, ওই সাতদিনেই তার মধ্যে অনেকটা পরিবর্তন এসে গেছে। বুঝে গিয়েছিলেন, ছাত্র রাজনীতি নষ্টদের অধিকারে চলে যাচ্ছে, কর্মীদের নিবেদনের দুই পয়সা দামও দল দেয় না। তিনি একা স্রোতের বিপরীতে হেঁটে কিছুই করতে পারবেন না। পার্টি মিটিংয়ে যাওয়া কমিয়ে দিলেন, সময় দিতে লাগলেন থিয়েটারে। 

অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসার শুরুটাও সেখান থেকেই। একটা ফাইভস্টার হোটেলে চাকরি করতেন অ্যাসিস্টেন্ট শেফ হিসেবে, দিনে কাজ, রাতে অভিনয়- এই ছিল জীবন। থিয়েটারেই জানলেন দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা সম্পর্কে, নাসিরউদ্দিন শাহ, ওম পুরি, অনুপম খেরের মতো দুর্দান্ত অভিনেতারা পাশ করে বেরিয়েছেন সেই প্রতিষ্ঠান থেকে, এনএসডি থেকে না পড়লে তো অভিনেতাই হওয়া যায় না। কিন্ত এনএসডিতে ভর্তি হবার যোগ্যটা হচ্ছে গ্র‍্যাজুয়েশন পাশ, সেটা তো পঙ্কজের নেই। হোটেল ম্যানেজমেন্টের ডিগ্রিটা ছিল ডিপ্লোমা সমমানের, সেটাকে গ্র‍্যাজুয়েশন ধরা হতো না। 

যেদিন এনএসডিতে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আর যেদিন এনএসডিতে ভর্তি হলেন- এর মাঝখানে ছয়টা বছর হাওয়া হয়ে গেছে। তিন বছর গেছে গ্র‍্যাজুয়েশনে, পরের দুই বছর গেছে এনএসডির ভর্তি পরীক্ষায় রিজেক্ট হয়ে; তৃতীয় চান্সে গিয়ে সুযোগ পেয়েছেন ভারতের সেরা নাট্যবিদ্যালয়টিতে। এই ছয় বছরে হাল ছাড়ার কথা ভাবেননি একবারও, হতাশা গ্রাস করেছে, কিন্ত ভেঙে পড়েননি, কারণ তার কাছে প্ল্যান বি বলে কিছু ছিল না। জীবনে তিনি অভিনেতাই হতে চেয়েছেন, এর বাইরে আর কিছু হবার বাসনা বা পরিকল্পনা- কোনোটাই ছিল না। 

নিউটন সিনেমায় অ্যাসিস্টেন্ট কমান্ডার আত্মারামের চরিত্রে

এনএসডি থেকে তিন বছরের কোর্স শেষ করে মুম্বাই চলে এলেন, সাথে স্ত্রী মৃদুলা, ভালোবেসে যার হাত ধরেছিলেন। সম্বল তখন দুজনের জমানো ৪৬০০০ রূপি। এক রুমের বাসা ভাড়া নিয়ে শুরু হলো সংগ্রামের জীবন, প্রতিদিন নিয়ম করে নিজের ছবি আর বায়োডাটা নিয়ে প্রোডাকশন হাউজগুলোর অফিসে ঘুরে বেড়ানো। বেশিরভাগ সময় তো ঢুকতেই পারতেন না ভেতরে, দারোয়ানই রিজেক্ট করে দিতো গেট থেকে। ঢুকলে 'নট ফিট'  বলে রিজেক্ট করতো অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর বা প্রোডাকশনের লোকেরা। আস্তে আস্তে পাসিং শট পেতে থাকলেন, পুলিশের রোলই আসতো বেশি, 'হ্যান্ডস আপ' বা 'এক থেকে দেশ পর্যন্ত গুণব, এরমধ্যে বেরিয়ে না এলে গুলি করব' টাইপের বাঁধাধরা সংলাপ প্রতিবার। পঙ্কজ তো নিজের খরচে পুলিশের ড্রেসও বানিয়ে ফেলেছিলেন, কাজের প্রতি এমনই ডেসপারেট ছিলেন তিনি। 

ফারহান আখতারের 'লক্ষ্য' সিনেমায় দুটো দৃশ্যের একটা রোলে সুযোগ পেলেন, ঋত্বিক সেখানে নায়ক। কিন্ত সিনেমা দেখতে গিয়ে আবিস্কার করলেন, এডিটিংয়ে তার দৃশ্য দুটো ফেলে দেয়া হয়েছে। খুব মন খারাপ হলো, এত আশা করে বড় পর্দায় নিজেকে দেখবেন বলে এসেছিলেন, এভাবে স্বপ্নভঙ্গ হবে ভাবেননি। এক বছর বাদে 'রান' সিনেমা দিয়ে প্রথমবারের মতো রূপালী পর্দায় জায়গা করে নিলেন, বিজয় রাজের সঙ্গে দুটো সিকোয়েন্সে দেখা গিয়েছিল তাকে। কিন্ত সেই সিনেমায় বিজয় এতই অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন যে, পঙ্কজের উপস্থিতি আলাদা করে নজরেই পড়েনি কারো। এরপর অপহরণ, ওমকারা, শৌর্য্য, রাবন, আক্রোশ, চিলার পার্টি, অগ্নিপথ- ছোট ছোট রোল পেতে থাকলেন, টাকাপয়সার দুশ্চিন্তা ছিল না অন্তত। 

তারপর গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর এলো, অনুরাগ কাশ্যপের সিনেমা। কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া তার নাম প্রস্তাব করেছিলেন সুলতান কোরেশির চরিত্রে। অডিশনে তাকে দেখে ভীষণ মনে ধরলো অনুরাগের, পঙ্কজও ফাটিয়ে অভিনয় করলেন। বিহারের মুসলমান এক কসাইয়ের চরিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয় নিয়ে এখনও কথা হয়, সেটাই ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্রেক-থ্রু। তুমুল প্রশংসিত হলেন পঙ্কজ, জীবন বদলাতে শুরু করলো তারপর থেকে, আসতে শুরু করলো গুরুত্বপূর্ণ রোলের অফার। 

গ্যাংস অফ ওয়াসিপুরের সুলতান কুরেশী

ফুকরে সিরিজ, মাসান, নীল বাটে সান্ন্যাটা, নিউটন, গুরগাঁও, বরেলি কি বরফি, স্ত্রী, সুপার থার্টি বা গুঞ্জন স্যাক্সেনা থেকে শুরু করে ভারতীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই সিরিজ স্যাক্রেড গেমস এবং মির্জাপুর- দুটোতেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কবির খানের ৮৩ সিনেমায় ভারতীয় দলের কোচ মান সিংয়ের চরিত্রে দেখা গেছে তাকে, হলিউডের 'এক্সট্র‍্যাকশন' সিনেমাতেও দেখা গেছে এই অভিনেতাকে, আগামী দেড়-দুই বছরের শিডিউল ফাঁকা নেই তার- সফলতার সংজ্ঞা বোধহয় এটাই! পরিচালকদের কাছে তিনি এখন হটকেক, দর্শকদের কাছে দারুণ পছন্দের অভিনেতা, কারণ সবাই জানে, তিনি পর্দায় থাকলে একটা ম্যাজিক হবেই, চরিত্রের ব্যাপ্তি যেমনই হোক না কেন! রোল ছোট না বড় সেটা নিয়ে পঙ্কজ মাথা ঘামান কম, বরং ছোট রোলেই তার কাছে মনে হয় ছক্কা হাঁকানোর সুযোগটা বেশি, যে ছক্কা তিনি মাসানে হাঁকিয়েছেন, সুপার থার্টিতে মেরেছেন।

মাসান সিনেমায় দুটো দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল তাকে, তাতেই মনে রাখার মতো কাজ করেছেন, তার সেই পায়েসের সিকোয়েন্সের কথা কেইবা ভুলতে পারে? নিউটনে যেভাবে তিনি ঠান্ডা মাথার এক সিআরপিএফ অফিসারের ভূমিকা ফুটিয়ে তুলেছেন, নিজের মতো করে, পরিচালকের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে- সেটাও ভারতীয় দর্শক মনে রাখতে বাধ্য। মির্জাপুরের কালিম ভাইয়া, স্যাক্রেড গেমসের গুরুজি চরিত্রগুলো তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য এক উচ্চতায়। বরেলি কি বরফি বা গুঞ্জন স্যাক্সেনায় বাবার ভূমিকায় যে অনবদ্য অভিনয় তিনি করেছেন, সেটাও কি নিক্তিতে মাপা সম্ভব? বনী কাপুর তো বলেছেনই, "জানভির বাবা হিসেবে বাস্তবে আমিও এতটা পারফেক্ট না, সিনেমায় পঙ্কজ ওর বাবার চরিত্রে যতটা পারফেক্ট ছিল!" এরচেয়ে বড় সার্টিফিকেট আর কি লাগে?
 
পঙ্কজের এই জার্নিটায় তার স্ত্রীর অবদানের কথা উল্লেখ না করলে সবটাই অসমাপ্ত থেকে যাবে। অভিনেতা হতে চাওয়া, আর বলিউডে এসে সফলতার দেখা পাওয়া পাওয়া- এর মাঝখানে প্রায় দেড়যুগ সময়ের একটা টাইমলাইম ছিল। পুরো যাত্রাপথে মৃদুলা তার হাত ধরে ছিলেন, স্বামীর সবচেয়ে বড় শক্তি, ভরসার আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিলেন এই নারী। পঙ্কজ অভিনেতা হিসেবে ভালো কি মন্দ সেটা তিনি জানতেন না, তবে ভালোবাসার মানুষটার চোখে অভিনয়ের জন্য প্যাশনটা তার নজর এড়ায়নি। তাই সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়ে সাপোর্ট দিয়েছেন স্বামীকে। 

স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে পঙ্কজ ত্রিপাঠি

মুম্বাইতে আসার পরে পঙ্কজের হাতে কাজ ছিল না, মৃদুলা একটা স্কুলে শিক্ষকের চাকরি জুটিয়ে নিয়েছিলেন, তার বেতনেই সংসার চলতো। মৃদুলা ছিলেন বলে পঙ্কজ বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন, আমার স্ত্রীর জন্যেই আমাকে কখনও না খেয়ে থাকা লাগেনি। পঙ্কজ বলেন, "স্ত্রীর কথা বলতে গিয়ে আমি হাসতে হাসতে কাঁদতে পারি। একটা ঘরে স্বামী স্ত্রী থাকে না? আমাদের ঘরে দুজন স্ত্রী, একজন আমার স্ত্রী মৃদুলা, আরেকজন মৃদুলার স্ত্রী আমি।" কথাগুলো বলার সময় পঙ্কজের চোখে চিকচিক করতে থাকা অশ্রুবিন্দুই সাক্ষ্য দেয়, হৃদয়ের গভীর থেকে নিঃসরিত বাক্যগুলোতে বাগাড়ম্বর মিশে নেই একটুও। 

পঙ্কজ দারুণ অভিনেতা, সময়ের সেরাদের একজন, তবে তারচেয়ে বড় দার্শনিক তিনি। ইউটিউবে তার এক ঘন্টার ইন্টারভিউ দেখতে বসলেও কখন যে সময় পেরিয়ে যায়, বোঝার উপায় থাকে না। তার সমাজ সচেতনতা, রাজনৈতিক চিন্তা, জীবন দর্শন, তার সেন্স অফ হিউমার- সবকিছুই মুগ্ধ হয়ে শোনা যায়, উপভোগ করা যায়। মেয়ে অংকে উনত্রিশ নম্বর পেয়ে বাসায় ফিরলে তিনি মেয়েকে উল্টো স্বান্তনা দেন, সিনেমায় অভিনয় করে কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক পান, তবু তার পিআর ম্যানেজমেন্ট দেখার জন্য কেউ নেই, এমনকি ব্যক্তিগত কোন সহকারীও রাখেননি তিনি। হাসতে হাসতেই বলেন, দুনিয়াতে এসেছি একা, যাবো একা; এত মানুষজন দিয়ে কি হবে? 

নেটফ্লিক্সের স্যাক্রেড গেমসে তাকে দেখা গেছে গুরুজীর চরিত্রে

জনপ্রিয় তারকা হয়েও তিনি নিজেকে ভিনগ্রহের বাসিন্দা মনে করেন না, তাকে টানে বন-জঙ্গল পাখির ডাক, শান্ত পুকুরঘাটে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা একনাগাড়ে কাটিয়ে দিতে পারেন, ভাবুক স্বত্বাটা ফিরে আসে তার ভেতর। অবসর সময়ে রান্না করেন, প্রচুর বই পড়েন, তারচেয়ে বেশি পড়েন মানুষ, এই ভদ্রলোকের অবজার্ভেশন পাওয়ার ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। সামনে বসে থাকা মানুষটাকে তিনি অনুকরণের চেষ্টা করেন অভিনয়ে, কেউ হয়তো একটু অন্যরকম করে কাশি দিলো, সেটাকেই তিনি চরিত্রের ভেতর ধারণ করার চেষ্টা করেন। 

এখনও তিনি বুকের ভেতর কৃষক হবার স্বপ্ন পুষে রাখেন। চল্লিশ একরের একটা ফার্মহাউজ বানিয়ে সেখানে ট্রাক্টরে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর সাধ তার, যে ট্রাক্টরটা তার বাবা কিনে দিতে পারেননি বলে তিনি অভিনেতা হয়েছেন, সেই ট্রাক্টর বসে ফসল ফলানোর স্বপ্ন দেখেন পঙ্কজ। বিহার থেকে বোম্বের এই জার্নিতে পঙ্কজ প্রমাণ করেছেন, মানুষের জন্য অসম্ভব বলে কিছু নেই। স্বপ্ন দেখার সাহস যে করতে পারে, স্বপ্নটাকে পূরণ করাও তার পক্ষেই সম্ভব; প্রয়োজন শুধু লেগে থাকা, হাল ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে না যাওয়া; সাফল্যের রাস্তা আপনা আপনি তৈরি হয়ে যাবে পরিশ্রম আর ধনুকভাঙ্গা পণের মিশেলে...


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা