লন্ডনে এক রাতে সিনেমা দেখে সত্যজিৎ রায়ের মাথায় ঢুকলো সিনেমা বানানোর ভূত। নিজের জীবন বিমার টাকা, স্ত্রী'র গয়নাগাটি বন্ধক রেখে সিনেমা বানানো হলো। এত যত্নের সিনেমা, তার রিলগুলো আগুনে পুড়ে হলো ছাই! পথের পাঁচালী'র নির্মানের রুদ্ধশ্বাস গল্প নিয়েই আরেকটা সিনেমা হয়ে যায়!

লন্ডনে বেশ কিছুদিন ধরেই থিতু হয়েছেন স্বামী-স্ত্রী দুইজন। প্রায় ছয় মাস থাকবেন তাঁরা। কাজের ফাঁকে প্রায় প্রতিদিন রাতেই নিয়ম করে সিনেমাহলে সিনেমা দেখা হচ্ছে। এরমধ্যেই এক রাতে দেখলেন ভিত্তরিও ডি সিকা'র 'লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে'। আচ্ছা, নামটা অপরিচিত লাগছে? আরেকটু সোজা করে দেই- 'দ্য বাইসাইকেল থিভস।' এই সিনেমা শেষের পর দুইজনেই চলে গেলেন ঘোরের মধ্যে। হাতে হাত ধরে সিনেমাহল থেকে বেরিয়ে এলেন দুজন। সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, তারাও বানাবেন সিনেমা। মানুষ দুটি সত্যজিৎ ও বিজয়া রায়। সত্যজিৎ রায় সেদিনই বুঝলেন, সিনেমা বানাতে উচ্চ প্রযুক্তি, কাড়ি কাড়ি টাকা লাগে না। লাগে সিনেমা বোঝার চোখ আর একটা সুন্দর গল্প। লন্ডনের বাড়িতে ফিরে বারবার স্ত্রী'কে বলছিলেন-

ভাবতে পারো কত সস্তায় ওই ধরনের ছবি করা যায়? পুরোটাই প্রায় লোকেশান, স্টুডিও ভাড়া করার হাঙ্গামা নেই বললেই চলে। আর সব থেকে বড় কথা হল নন- অ্যাক্টর্স নিয়ে কাজ করা। তাতেও তো খরচা কমে যায়।

মানিক বাবুর ছটফটানি কমছিলোই না৷ তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাসাহিত্যে খুঁজলে এরকম সুন্দর গল্প পাওয়া যাবে, যা দিয়ে তিনি সিনেমা বানাতে পারবেন। খুঁজেটুজে পেয়েও গেলেন একটি বই- আম আঁটির ভেপু। যেদিন বিলেত থেকে আবার দেশের জাহাজে চড়লেন, জাহাজে উঠেই কেবিনে ঢুকে বই নিয়ে বসলেন সত্যজিৎ। চিত্রনাট্যও বানানো শুরু করলেন তখনই। বিজয়া রায় জিজ্ঞেস করেছিলেন-

তুমি তো কখনো গ্রামে থাকোনি। গ্রাম চোখেও দেখোনি। তুমি কীভাবে এ সিনেমা করবে?

সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন-

বিভূতিভূষণের বর্ণনার পরে পুরো গ্রাম আমার চোখের সামনেই ভাসছে। এ সিনেমা আমি বানাবোই, মঙ্কু।

দেশে ফিরেই সিনেমা নিয়ে তোড়জোড় শুরু। প্রথমেই অপু আর দুর্গাকে খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো দক্ষযজ্ঞ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। পেপারে বিজ্ঞাপন দেয়া হলো, হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে ইন্টারভিউ করিয়ে শেষমেশ অপুকে পাওয়া গেলো পাশের বাড়ি থেকেই। দুর্গাকেও এরপর তাড়াতাড়ির মধ্যেই পাওয়া গেলো। মেইন দুই প্রোটাগনিস্ট রোলকে খুঁজে পাওয়ার পর সর্বজয়া, চুন্নিবালাকেও পাওয়া হলো বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে। এগুলো অনেকেই জানেন। তাই চর্বিতচর্বন না করাই সমীচীন। কুশীলব পাওয়ার পরে শুরু হলো সিনেমার অন্যান্য ধাপ নিয়ে দৌড়ঝাঁপ।

প্রযোজকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চিত্রনাট্য পড়ে আসতেন সত্যজিৎ রায় ও তাঁর টীম। অনেকেই অবাক হতো স্ক্রিপ্ট শুনে। নায়ক, নায়িকা, ভিলেন, নাচগান নেই। এ সিনেমা কে দেখবে? কেন দেখবে? একজন প্রোডিউসার ছবিটার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সময়েই তার প্রযোজিত আরেকটা ছবি আসার কথা ছিলো। তিনি জানালেন, যদি সেই ছবিটা হিট হয়, তাহলে 'পথের পাঁচালী'কে ব্যাকআপ দেবেন তিনি। কিন্তু সেই সিনেমাটা হয়ে যায় ফ্লপ। পথের পাঁচালী'কে আর সাহায্য করা হয় না।

সত্যজিৎ রায়েরও তখন রোখ চেপে গিয়েছে। সিনেমা তিনি বানাবেনই। নিজের জীবনবিমার টাকা, ভালো ভালো আর্টবুক, কাছের আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার করে শুরু করলেন শ্যুটিং। কিন্তু সে টাকাপয়সা দিয়ে শ্যুটিং চললো মাত্র সপ্তাহখানেক। এরপর আবার টাকাপয়সার সংকট। কোনো প্রযোজকই কিছু জানাচ্ছে না৷ কেউ রাজিও হচ্ছে না৷ স্ত্রী'র গয়না বন্ধক রেখে কিছু টাকাপয়সার জোগাড় হলো। সে টাকা দিয়ে কিছুদিন শ্যুটিং চললো। আবার কাজ বন্ধ হয়ে গেলো, টাকা ফুরোতেই।

এরপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাহায্য নেয়া হলো। মুখ্যমন্ত্রী তখন বিধান রায়। তার সাহায্য পাওয়ার পরেই মোটামুটি সিনেমা নিয়ে টাকার  অভাব দূর হলো। তাও অপু-দুর্গার আনকোড়া অভিনয়, টেকনিক্যাল বিভিন্ন সমস্যা... এগুলো দূর করতে পুরো টীমকেই অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এভাবেই বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনায় তিন বছর পর সিনেমার শ্যুটিং ও কাজ শেষ হলো।

সিনেমার দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন সত্যজিৎ রায়!  

সিনেমার শ্যুটিং চলাকালীন ভারতে এসেছিলেন নিউ ইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের (এমওএমএ) প্রদর্শনী ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান মনরো হুইলার। কলকাতায় বসেই তিনি 'পথের পাঁচালী' সম্পর্কে শোনেন এবং সত্যজিৎ রায়ের সাথে দেখা করেন। সত্যজিৎ রায়ের সাথে দেখা করার সময়ে তিনি সিনেমার কিছু অংশও দেখেন। বুঝতে পারেন, এই সিনেমা আসলে অন্যরকম কিছু একটা হতে যাচ্ছে। তিনি খুব তাড়াতাড়ি সিনেমার কাজ শেষ করে সিনেমাটিকে মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের কাছে পাঠাতে বলেন। যাতে করে আগামী বছর বার্ষিক প্রদর্শণীর সময় সিনেমাটি তারা দেখাতে পারেন। এই ঘটনার মাস ছয়েক পরে ভারতে আসেন পরিচালক জন হিউস্টন। তাঁর সিনেমা 'দ্য ম্যান হু উড বি কিং' এর শ্যুটিং স্পট দেখার জন্যে। তিনিও সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালী'র অসমাপ্ত কিছু অংশ দেখেন এবং অনেকটাই মুগ্ধ হয়ে যান। তিনিও আমেরিকায় গিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেন সিনেমার।

শ্যুটিং শেষের পরে সত্যজিৎ রায় ও তার টীম নির্মাণ-পরবর্তী ধাপে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করেন, যাতে মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের ১৯৫৫ সালের মে মাসের প্রদর্শনীতে ঠিক সময়ে জমা দিতে পারেন সিনেমাটিকে। এমনও হয়েছে কাজের প্রেশারে  টানা সপ্তাহখানেক ধরে পুরো টীম স্টুডিও এর মধ্যেই সময় কাটিয়েছেন। বাইরে নামেননি। তড়িঘড়ি করতে হয়েছিলো অনেকটাই। সময় ফুরিয়ে আসার কারণে সাবটাইটেল দেয়াও সম্ভব হয়নি। 'দ্য স্টোরি অব অপু অ্যান্ড দুর্গা' নামে একেবারে শেষমুহুর্তে জমা দেয়া হয় সিনেমাটিকে। ৩ মে প্রদর্শণী হওয়ার পর সেখানে প্রচুর সাড়া পায় সিনেমাটি। দেশ-বিদেশের মানুষ সাবটাইটেল ছাড়াই শুধুমাত্র ঘটনা ও দৃশ্যাবলী দেখে একাত্ম হয়ে যান সিনেমার সাথে।

কলকাতার প্রেক্ষাগৃহগুলোতে 'পথের পাঁচালী' মুক্তি পায় ২৬শে আগস্ট, ১৯৫৫। কিন্তু এর আগে কলকাতার অ্যাডভার্টাইজিং ক্লাবের বার্ষিক সভায় স্থানীয় উদ্বোধনীতে প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি। কিন্তু মানুষজন কেন যেন খুব একটা সাড়া দেয়নি। সত্যজিৎ রায় এ ঘটনায় একটু হতাশও হয়ে পড়েন। তবে হাল তো ছাড়া যাবে না। সিনেমা মুক্তির আগে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বড় বড় পোস্টার লাগানো হয় 'পথের পাঁচালী'র। এই ব্রাণ্ডিং এর পর লোকজন বেশ ভালোই সাড়া দেয়। কলকাতা সহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষজন রীতিমতো হৈ-হুল্লোড় করে সিনেমা দেখতে আসেন। একটা 'নন- স্টেরিওটাইপ' 'নন-কমার্শিয়াল' সিনেমার জন্যে এটি ছিলো এক বড় বিষয়। হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন সত্যজিৎ রায়।

'পথের পাঁচালী'র পোস্টার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন জওহরলাল নেহরু৷ পশ্চিমবঙ্গে সিনেমাটির বিশেষ প্রিমিয়ার করা হয়, যেখানে তিনি আসেন। সিনেমাটি দেখে মুগ্ধ হন। এই ঘটনাটির একটি তাৎপর্য আছে। 'পথের পাঁচালী'কে 'কান' এ পাঠানো নিয়ে ভারতের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আপত্তি ছিলো। তাদের কথা, সিনেমায় ভারতের দারিদ্র্যকে দেখানো হয়েছে। এই সিনেমা বিদেশে পাঠালে দেশের ভাবমূর্তির বারোটা বাজবে। জওহরলাল নেহরু সিনেমাটি নিয়ে এতই মুগ্ধ হন, তিনি নিজ উদ্যোগে সবার প্রতিবাদের মুখে সিনেমাটিকে 'কান' এ পাঠানোর অনুমতি দেন। সেখানে এ্যাওয়ার্ড আর পরিচালকদের প্রশংসাবাক্যে ঋদ্ধ হন সত্যজিৎ রায় ও পথের পাঁচালী।

সিনেমাটি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র সবখানেই যায়। ব্যবসাও করে প্রচুর। এরকম মাস্টারপিসের সাথে 'ব্যবসা' শব্দটি ঠিক যায় না। বলা ভালো, জনগন ব্যাপক সাড়া দেয় সিনেমাটিকে নিয়ে। নিউ ইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউ প্লেহাউজে আটমাস ধরে চলে 'পথের পাঁচালী'। বিশ্বব্যাপী বক্সঅফিসে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ইনকাম করে সিনেমাটি।

এ বিষয়টি হয়তো অনেকেই জানেন, আগুন লেগে পুড়ে গিয়েছিলো 'পথের পাঁচালী'র অরিজিন্যাল নেগেটিভগুলো। সত্যজিৎ রায়ের সবগুলো সিনেমার অরিজিন্যাল নেগেটিভগুলো সংরক্ষণের জন্য মোশন পিকচার একাডেমিতে পাঠানো হয়েছিল। পথের পাঁচালীও ছিলো সেখানে। কিন্তু ১৯৯৩ সালের দিকে এক অগ্নিকাণ্ড হয় মোশন পিকচার একাডেমিতে। অনেকগুলো সিনেমার নেগেটিভের সাথে 'পথের পাঁচালী'র অরিজিনাল নেগেটিভও পুড়ে যায় অনেকটুকুই। পরে এই ক্ষতিগ্রস্ত নেগেটিভগুলো ইতালির বোলোনিয়ায় লিমাজিন রিত্রোভাতা পুনরুদ্ধার গবেষণাগারে পাঠানো হয়। প্রায় এক হাজার ঘন্টা ব্যয়ে সিনেমার নেগেটিভ পুনরুদ্ধার করা হয়। তাও পুরোটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পথের পাঁচালীর ৪০% নেগেটিভ পুনরুদ্ধার করা গিয়েছিলো। যেগুলোর নেগেটিভ পাওয়া যাচ্ছিলো না, সেগুলোর নকল বানানো হয় এবং বিভিন্ন কমার্শিয়াল জায়গার ফুটেজ থেকে যতটুকু পারা যায় কালেক্ট করা হয়। সেও এক অসাধারণ জার্নি। ইউটিউবে এই ঘটনাটি নিয়ে বেশ তথ্যবহুল ভিডিও আছে। আগ্রহীরা দেখতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়ার এক সুন্দর বর্ণনা আছে সেখানে।

যাই হোক, নেগেটিভ পাওয়ার পর 'পথের পাঁচালী'কে আবার দেখানো হয় ট্রিবিউট হিসেবে। ২০১৫ সালের ৪ঠা মে পুনরুদ্ধারকৃত 'পথের পাঁচালী' মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে প্রদর্শিত হয়, সিনেমার প্রথম প্রদর্শণীর ঠিক ৬০ বছর পরে। মানুষজন হামলে পড়েছিলো আবারো, সিনেমাটি দেখার জন্যে।

সিনেমাটি কয়টা এ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বা কতগুলো সম্মাননা পেয়েছে, সেগুলো নিয়ে বলতে গেলে মাত্রাতিরিক্ত দীর্ঘ হয়ে যাবে বর্ণনা। তাই সে ভুল করছিওনা। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, কানাডা, জাপান, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ফিলিপাইন, ইতালি... থেকে সিনেমাটি পেয়েছে অগুনতি পুরস্কার ও সম্মাননা। এ কথা বলতে দ্বিধা নেই, এই উপমহাদেশে এরকম সিনেমা আর আসেনি। কখনো আসবে কী না, সেটাও এক বড়সড় প্রশ্নের বিষয়। এই সিনেমার সবচেয়ে বড় গুণ, এটি আসলে সিনেমা না। পথের পাঁচালী এক দর্শন। যে দর্শন এখনো অনুপ্রাণিত করেছে সারা পৃথিবীর অজস্র সিনেমা পরিচালককে।

আমাদের বাংলাদেশের খ্যাতিমান পরিচালক তারেক মাসুদের কথাই ধরিনা কেন!  প্রজেক্টরে এই 'পথের পাঁচালী' দেখেই সিনেমা বানানোর অনুপ্রেরণা পান তিনি। নির্মাণ করেন 'মাটির ময়না'। একটা কথা আছে, ওয়াইন যত পুরোনো হয়, তত তার দাম বাড়ে। 'পথের পাঁচালী'ও যেন সেরকমই। সময় গড়াচ্ছে, পথের পাঁচালী ক্রমশই যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার খুব উপরে। কালের ব্যবধানে  'পথের পাঁচালী' রূপান্তরিত হয়েছে এক আগাগোড়া আইডিওলজিতেই।

অপু-দুর্গার রসায়ন ছিলো এ সিনেমার মূল উপজীব্য

কিছুদিন আগেই নির্মাণের ৬৫ বছর পার করলো 'পথের পাঁচালী। এই ক্ষণে তাই শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছি সিনেমার সাথে সম্পৃক্ত কাছে-দূরের প্রত্যেক মানুষের প্রতি। এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, 'পথের পাঁচালী' বাংলা চলচ্চিত্রজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল, দামী ও সবচেয়ে বড় রত্ন। মানিকবাবুর হাত ধরে যে 'মানিক' আমরা পেয়েছি, সে জন্যে তাঁর প্রতিও রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা