বিশাল ফ্যানবেজ নেই তার, নাটকে নেই মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ। তার মধ্যে আছে মেধা, আছে নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার তীব্র চেষ্টা। অথচ এই অভিনেতাকে নিয়ে যতটা এক্সপেরিমেন্ট হবার কথা ছিল, তার সিকিভাগও হয় না বলতে গেলে...

আমাদের দেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় এবং দক্ষ অভিনেতা রওনক হাসান। এটা ভিন্ন বিষয় যে, মেধাবী এই অভিনেতাকে নিয়ে যতটা কাজ বা এক্সপেরিমেন্ট হওয়া উচিত ছিলো বা হওয়া উচিত- সেটা হচ্ছেনা ভিউয়ার বা ফ্যান ক্লাব ইস্যুর কারনে। তবে নিজের মেধা এবং শক্তিশালী অভিনয় দক্ষতা দিয়েই অল্প কাজের মধ্য দিয়ে বরাবরই দর্শকদের কাছাকাছি থাকেন তিনি। 

টেলিভিশন মিডিয়াতে রওনক হাসানের শুরুটা হয়েছিল ২০০৪ সালে একজন নাট্যকার হিসেবে। ঠিক তার এক বছরের মাথায় অভিনেতা হিসেবেও নিজের দক্ষতা এবং মেধা নিয়ে হাজির হন তিনি। অবশ্য টেলিভিশনে অভিনয়ের আগে থেকেই এই শক্তিশালী অভিনেতা মঞ্চের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দেশের প্রথমসারির থিয়েটার সংগঠন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। 

দুই যুগের বেশি সময় ধরে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেতা হিসেবে একের পর এক নান্দনিক কাজ উপহার দিয়েছেন তিনি। ‘নোয়াশাল’, ‘দ্বন্দ্ব সমাস’  ‘ভিডিওম্যান’ ‘মইষাল’ বা সাম্প্রতিক সময়ের ‘যে শহরে ভালোবাসা নেই’ ‘লেখকের মৃত্যু’ ‘আড়াই মন স্বপ্ন’ এর মতো নান্দনিক কাজ নিয়ে আবারও আলোচনায় রওনক হাসান। 

বহুরূপী রওনক হাসান!

তবে ‘হ্যামলেটের ফিরে আসা’ নাটকের মধ্য দিয়ে প্রমান করেছেন যে, সুযোগ পেলে এখনো জ্বলে উঠার সামর্থ্য রাখেন তিনি। এতো শক্তিশালী অভিনয় দক্ষতা সচারাচর দেখার সৌভাগ্য হয়না আমাদের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে। সাহিত্য নিয়ে আমাদের দেশে আগে একটা সময় অনেক কাজ টেলিভিশন মিডিয়াতে হলেও এই সময়ে এসে তেমনভাবে কাজ হচ্ছেনা। তবে শেক্সপিয়ারের ’হ্যামলেট’ অবলম্বনে এই নাটকে দেশের দুই শক্তিশালী অভিনেতা মোশাররফ করিম এবং রওনক হাসান একে অন্যের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। গত ঈদে রওনক হাসানের পরিচালনায় ‘মা’ নাটকটিও নান্দনিক একটি কাজ হিসেবেও ব্যাপকভাবে প্রশংসা পায়। 

গুনী এই অভিনেতা টেলিভিশনে নিজের মেধা এবং দক্ষতার প্রমান দেবার পরেও  বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন রওনক হাসান। তবে এন্থলজি সিনেমা ‘ইতি তোমারই ঢাকা’ এবং ভাষা আন্দোলন নিয়ে তৌকির আহমেদের ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সিনেমায় তার অভিনয় নজর কেড়েছে সবার। রওনক হাসানের মতো অভিনেতাকে চলচ্চিত্রে মতো বিশাল ক্যানভাসে সেভাবে আগে কাজে না লাগালেও সম্প্রতি পাঁচটি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। দীপঙ্কর দীপনের ‘অপারেশন সুন্দরবন’, নুর ইমরান মিঠুর ‘পাতাল ঘর’, আকরাম খানের ‘নকশীকাঁথার জমিন’, পঙ্কজ পালিতের ‘না বলা কথা’ এবং তৌকীর আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’। শেষ সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ১৭ই মার্চ।

স্ফুলিঙ্গ সিনেমায় রওনককে দেখা যাবে আআইনজীবীর চরিত্রে


 
প্রতিটা সিনেমাতেই ভিন্নধর্মী গল্প, নান্দনিক নির্মান এবং রওনক হাসানের চরিত্রের গুরুত্ব দর্শকদের কাছেও আলাদা একটা মাত্রা যোগ করবে সেকথা বলা যায় নিঃসন্দেহে। এরমধ্যে ‘না বলা কথা’ সিনেমায় মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা গল্পে রওনক হাসান একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করছেন। অন্যদিকে ‘স্ফুলিঙ্গ’ সিনেমায় একজন আইনজীবীর চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।  

তবে সিনেমার পাশাপাশি নাটকেও নিয়মিত অভিনয় করছেন রওনক হাসান। তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘রূপালি জোছনায়’, সোহাগ গাজীর ‘বউ বিরোধ’ এবং তার নিজের পরিচালনায় ‘বিবাহ হবে’ নামের ধারাবাহিক নাটকগুলোতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। উল্লেখ্য ‘বিবাহ হবে’ নাটকের মধ্য দিয়ে এই প্রথমবারের মতো ধারাবাহিক নাটকের পরিচালক হিসেবেও তার ক্যারিয়ারের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করেছেন। সামনে তার আপকামিং কাজগুলো দিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে যাবেন এক নান্দনিক স্বতন্ত্র জায়গায়, সেটাই কামনা করি।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা