জন্মদিনে একজন আরেকজনকে শুভেচ্ছা জানাবে, এমনটাই নিয়ম। প্রথিতযশা অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ডুব দিলেন আক্ষেপের সাগরে। কী সেই আক্ষেপ?

চঞ্চল চৌধুরী: 

যখন আমার অভিনয়ের যাত্রা শুরু, তখন অধিকাংশ নাটক সিনেমা ছিল সামাজিক এবং পারিবারিক। কত কত চরিত্র, দাদা-দাদী, নানা-নানী, বাবা-মা,ভাই-বোন! বহু চরিত্রের সার্বক্ষনিক উপস্থিতি ছিল আমাদের নাটক সিনেমায়। প্রায় প্রতিটি নাটক বা সিনেমা ছিল চলমান সমাজ এবং বাঙালী সংস্কৃতির বাস্তব প্রতিফলন।

কালান্তরে সেই সব দিন গুলো কিভাবে যেন শেষ হয়ে গেল! অধিকাংশ চরিত্র এখন আমাদের নাটকে অনুপস্থিত। অধিকাংশ নাটক নির্মাণ হচ্ছে প্রধানতঃ দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে। পুরো নাটকে নায়ক আর নায়িকার প্রেমের প্যানপ্যানানি, ঘ্যানঘ্যানানী। সকল নাটক প্রেমে ভরপুর। মুক্তিযুদ্ধ বা একুশে ফেব্রুয়ারীর নাটকেও অসংলগ্ন প্রেমের উপস্থিতি মূল বিষয়টির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

হুমায়ুন আহমেদের সেই সময়ের নাটকগুলো দেখলেই পরিবারের একটা চমৎকার চিত্র পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে হাতে গোনা কয়েকজন নাট্যকার, যেমন মাসুম রেজা বা বৃন্দাবন দাসের গল্পে বাবা-মা, দাদা-দাদী, ভাইবোন সহ অনেক চরিত্রের উপস্থিতি মেলে। কিন্তু ইদানিং পারিবারিক বা সামাজিক নাটকের গল্পে ভয়াবহ চিত্র দেখতে পাই। দাদা-দাদী, নানা-নানী নিখোঁজ! 

নাটকে বাবার চরিত্র থাকলে মা মৃত, মায়ের চরিত্র থাকলে বাবা পরলোকগত। যেখানে বাবা-মাকেই একসাথে পাওয়া যায় না, সেখানে ভাইবোন আসবে কোত্থেকে? আর অন্যান্য চরিত্রের কথা তো বলাই বাহুল্য। 

অনেক গুলো কারনের মধ্যে, নির্মান বাজেটের স্বল্পতা এবং খরচ বাঁচিয়ে কোন মতে নাটকের নামে ফুটেজ কালেকশান এর জন্য দায়ী।

স্পষ্ট মনে পড়ে,প্রথম দিকের কাজে সহশিল্পী হিসাবে সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিল্পী এটিএম ভাই, ফরিদী ভাই, মধু দা, বাচ্চু ভাই, আমিরুল ভাই, মহসিন ভাই, মামুন ভাই, এনাম আংকেল, সবুজ ভাই, কে এস ফিরোজ ভাই, নরেশ দা, আসাদ ভাই, হায়াত ভাই, পীযূষদা, রহমতদা, দিলারা আন্টি, ফেরদৌসী আপা, মায়া ঘোষ, শর্মিলী আপা, জলি আপা, ডলি ভাবী, আফরোজা আপা, সুবর্না আপাসহ অনেককেই বাবা-মা, দাদা-দাদী, বড় ভাই বা বোনের চরিত্রে পেয়েছি। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি তাঁদের কাছে। 

এদের মধ্যে অনেকেই অতৃপ্তি আর হতাশা নিয়ে বেঁচে আছেন, কেউ কেউ পৃথিবী ছেড়ে চলেও গেছেন। অনেক অভিজ্ঞ আর সিনিয়র শিল্পীদের অভিনয়ের জন্য ডাকা হয় না। এভাবেই আমাদের নাটক সিনেমাও আজ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এখন টুক টাক মা হিসেবে যাদেরকে মাঝে মধ্যে পাই,গ্রামের নাটকেও তাদের চুল স্ট্রেইট করা, ভ্রু প্লাক করা। তাদের সাথে অভিনয়ের সময় সন্তান হিসেবে কোন আবেগই কাজ করে না।

এত কথা বলার কারন, আমরা আমাদের নাটকে বাবা মা কে ফেরত চাই, দাদা-দাদী ফেরত চাই, বড় ভাই বোন ফেরত চাই। জম জমাট পরিবার চাই। আমার ফেরত চাওয়া মায়ের মধ্যে, একজন মায়ের আজ জন্মদিন।

প্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ, শুভ জন্মদিন মা! সন্তানদের কাছে ফিরে আসুন সবাই। 

বিঃ দ্রঃ- লেখাটি চঞ্চল চৌধুরীর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত।

ছবি কৃতজ্ঞতা: চয়নিকা চৌধুরী


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা