প্রথম মিশনেই পাশমার্ক পেয়ে উতরে গেছেন মিঠু-শাহাদুজ্জামান জুটি। বঙ্গ ববের প্রথম ভিজ্যুয়াল ফিকশনটা প্রত্যাশার পারদ বেশ খানিকটা বাড়িয়েই দিলো তাই...

Bongo BOB এর প্রথম ভিজ্যুয়াল ফিকশন 'শহরে টুকরো রোদ' দেখলাম। ঈদে আসা প্রজেক্টগুলোর মাঝে বঙ্গ ববের প্রজেক্টগুলোর প্রতিই বাড়তি আকর্ষণ আমার। কেননা, এই প্রজেক্টের প্রতিটা টেলিফিল্মের গল্পই তারা বই থেকে নিয়েছে। 'শহরে টুকরো রোদ' জনপ্রিয় কথাশিল্পী শাহাদুজ্জামানের দুটি গল্প- উবার ও টুকরো রোদের মতো খাম থেকে নেয়া।

টেলিফিল্মটি নিয়ে দুটো দিক আমাকে আকৃষ্ট করেছে বেশি-

১) শাহাদুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতা (চিত্রনাট্যও লিখেছেন উনি)

২) শাহাদুজ্জামান ও নূর ইমরান মিঠুর দ্বিতীয় কোলাবরেশন একসাথে (এর আগে কমলা রকেট একসাথে করেছিলেন)

কমলা রকেটেও নূর ইমরান মিঠু দুটি গল্পকে সন্নিবেশিত করেছিলেন তাই যারপরনাই চিন্তা ছিল যে এখানেও হয়তো দুটি গল্প একে অপরের সাথে মিশে যাবে। কিন্তু নাটকের শুরুতেই পরিচালক পরিষ্কার করে দেন যে- তিনি এখানে দুটো গল্প আলাদাভাবে দেখাবেন। প্রথম গল্পের নাম- শহরে ও দ্বিতীয় গল্প- টুকরো রোদ। 

প্রথম গল্পে আমরা দেখা পাই অভিজাত এক নারীর যে কীনা উবারে চড়ে একটা রেস্টুরেন্টে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড বিরক্তি ও চিন্তার ছাপ স্পষ্ট তার চেহারায়। ফোনের ওপাশে বারবার নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছেন সবকিছু ঠিক আছে কীনা সেখানে। ফাইভ স্টার একটি হোটেলের সামনে উবার থামলে হুট করেই সে অভিজাত আধুনিকা স্লিভলেস টপের ওপর জড়াতে শুরু করেন কালো বোরকা। তা দেখে উবার ড্রাইভার বেশ অবাকই হয়ে যায়। ড্রাইভারকে অপেক্ষা করতে বলে সে নারী ঢুকে পড়েন হোটেলে। এরপর থেকেই শুরু হয় নানান বিড়ম্বনা।

শহরে অদ্ভুত রোদ

এই গল্পে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। বেশিরভাগ সময় বোরকাতেই তার মুখ ঢাকা ছিল তাই অভিনয়ের অভিব্যক্তি সেভাবে টের পাওয়া যায় নি। তবে যতটুকু ডায়লগ ছিল, সুযোগ ছিল তিনি সদ্ব্যবহার করেছেন। শাহাদুজ্জামানের মূল গল্পের সাথে অনেককিছুই নতুন যুক্ত করেছেন পরিচালক এখানে। একটা মিস্ট্রি ক্রিয়েট করতে পেরেছেন বেশ ভালো ভাবেই। তবে বারবারই ছোটখাটো ইনডিকেশন দিয়ে গেছেন শুরু থেকে যে গল্প যেভাবে আগাচ্ছে মূল গল্প আসলে সেটি না। হিল, স্লিভলেস পরা, বোরকায় আনইজি ফিল করা এই অভিজাত নারী মূলত যে উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন সেটাই রিভিল হয়ে গল্পের ক্লাইম্যাক্সে।

দ্বিতীয় গল্প 'টুকরো রোদ' প্রথম গল্পের চেয়ে বেশ খানিকটাই এগিয়ে থাকবে আমার কাছে। একজন কর্পোরেট ইনডিভিজুয়ালের ইনার স্ট্রাগলের সাথে টিনেজ নস্টালজিয়ার অদ্ভুত সমন্বয় দেখিয়েছেন এখানে মিঠু-শাহাদুজ্জামান জুটি। কর্পোরেটের মেইলকেন্দ্রিকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একদিন হাতে লেখা চিঠির কাছে ফিরে গিয়েছেন পরিচালক পার্থ বড়ুয়ার চরিত্রটির মাধ্যমে। প্রাতিষ্ঠানিক একটা খাঁচার মধ্যে আবদ্ধ এক কবুতরের একদিন যেন শখ হয়েছে ঠোঁটে পত্র নিয়ে প্রিয়জনের খবরের বাহক হতে। দারুণ এক মেলানকোলিক এন্ডিং যেন পুরোপুরি জাস্টিস করেছে শাহাদুজ্জামানের লেখনির সাথে। 

এই গল্পে পার্থ বড়ুয়ার কাজ ছিল খুবই দারুণ। নীল হুরেজাহান অল্প সময়ের জন্য এসেছিলেন কিন্তু অভিব্যক্তি দিয়েই নিজের ক্যাপাবিলিটি ভালোমতো বুঝিয়ে দিয়েছেন। এই পুরো গল্পটায় যে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ব্যবহার করা হয়েছে সেটা এতো সুন্দর ও সুদিং ছিল যে আলাদা করে নামিয়ে রাখতে ইচ্ছে করছিল।

শেষমেশ, বঙ্গ ববের প্রথম ভিজ্যুয়াল ফিকশনটা প্রত্যাশার পারদ বেশ খানিকটা বাড়িয়েই দিলো। বাকি কাজগুলোর অপেক্ষায় রইলাম। বই থেকে নেয়া এই গল্পগুলো প্রতিনিয়ত ভাষা খুঁজে পাক নাটক-সিনেমায়, এটাই প্রত্যাশা।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা