সত্যিকার অর্থে তিনি তারকা নন আবার তারকাও। রাজু রাহিওয়ার নামের এই লোক শাহরুখ খানের 'লুক অ্যালাইক', বা শাহরুখের মতো দেখতে। কর্পোরেট শো-তে শাহরুখের প্রক্সি দিয়ে, বা কমার্শিয়াল শুটে বডি ডাবল হিসেবে কাজ করতেন এই জুনিয়র শাহরুখ। কিন্ত...

বিশ্বব্যাপী মহামারীতে মুচি থেকে মিলিওনিয়ার- সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যারা শো-বিজনেসের সাথে জড়িত, তাদের বাস্তবতা বড় কঠিন। শ্যুটিং আটকে গেছে, অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না, অসুস্থতা- সবমিলিয়ে অবস্থা বেগতিক। বলিউডেও এর ধাক্কা লেগেছে ভালোভাবেই। তারকারা ছাড়াও জুনিওর আর্টিস্ট আর ক্রু মেম্বাররা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। তাদেরই মধ্যে একজন হচ্ছেন বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খানের  লুক-এলাইক রাজু রাহিওয়ার- সত্যিকার অর্থে তিনি তারকা নন আবার তারকাও। আজকে আমরা শুনবো করোনাকালীন ও করোনা-পরবর্তী বাস্তবতায়  রাজু রাহিওয়ারের গল্প। 

করোনাভাইরাস পৃথিবীকে থামিয়ে দেয়ার আগে কয়েকটি কর্পোরেট শো-তে শাহরুখ খানের প্রক্সি দিয়েছেন। এছাড়াও কমার্শিয়াল শ্যুটে শাহরুখের ডাবল হিসাবেও কাজ করেছেন রাজু। কিন্ত করোনাকালীন এবং করোনা-পরবর্তী বাস্তবতায় কর্মহীন রাজুর দিন কাটছে কষ্টে। কোনো রকম কাজ না থাকায় ইভেন্ট ম্যানেজারদের কাছে বেপরোয়া হয়ে ছুটছেন। গুগল, টুইটারসহ সমস্ত সামাজিক মাধ্যম খুঁজেও পাচ্ছেন না জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায়। দ্বারে দ্বারে হন্যে হয়ে ঘুরে রাজুর বক্তব্য,” কারো সাহায্যের আমার প্রয়োজন নেই। আমার কাজ দরকার, কাজ করে জীবন চালানো দরকার”। 

রাজু রাহিওয়ার ওরফে জুনিওর শাহরুখ খান বা শাহরুখ খানের ডাবল- যাই বলুন না কেন, ঘরে আটকে ছিলেন ৫৬ দিন। লকডাউনের এই বাস্তবতা বিশ্বব্যাপী হলেও তার পেশা তাকে আটকে দিয়েছে। এই পেশা তার জীবন এক সময়ে রাঙিয়ে তুললেও এখন জীবন কাটছে স্থবিরতায়। “অক্টোবর মাসে আমার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিলো, মহামারীর কারনে যেতে পারিনি”।

এমন কঠিন অবস্থায় তার বন্ধু রাজেশ মালায়ারের সঙ্গে মাস্ক ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। “আমার ব্যবসা করার মতো বুদ্ধি নেই, কিন্ত মার্কেটিংয়ে আমি দক্ষ। তাই আমি আমার বন্ধুর মাস্ক আর গ্লাভস নিয়ে ভিডিও বানানো শুরু করলাম। বিভিন্ন জায়গায় ভিডিও পাঠানো শুরু করলাম। আমার বাসার নিচে স্টল দিয়ে নিজেও বিক্রি করা শুরু করলাম একপর্যায়ে।" লকডাউনের কঠিন সময়ে এভাবেই পেট চালিয়েছেন রূপালী পর্দায় শাহরুখের লুক-এলাইক রাজু।

সালমান খানের সঙ্গে রাজু

তবে, বিপদের দিনে তাকে ভুলে যাননি বলিউডের তারকারা। সালমান খান আর অক্ষয় কুমার - এই দুই হেভিওয়েট তারকা তাকে সাহায্য পাঠিয়েছেন মনে করে। এছাড়াও শিল্পীদের বেশ কয়েকটি সংঘটনও তার বিপদের দিনে এগিয়ে এসেছে। ভাগ্য সত্যিই অদ্ভুত, বাস্তবতা খুব কঠিন- মুহূর্তেই ঝলমলে সিনেমা পাড়া থেকে মাস্ক ব্যবসায়ী- এই পুরো রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাজুর এখন স্মৃতিচারণ ছাড়া আর যেন আর কোনো পথ খোলা নেই। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা