এই মানুষটির নামের পাশে খুব বেশি সিনেমা না থাকলেও এমন একটি সিনেমার নাম ভূমিকায় তিনি ছিলেন, যে সিনেমা কোটি কিশোরের শৈশবকে করেছে রঙিন। হ্যাঁ, টারজানের কথাই বলছি...

যারা নাইন্টিজের কিড আছি, আমাদের ছোটবেলায় টিভিতে বহুবার যে সিনেমা দেখে ক্রমশ বড় হয়েছি আমরা, সে সিনেমার নাম- টারজান। পাঠ্যবইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে-চুরিয়ে টারজানের কমিকস পড়তে পড়তে একসময়ে যখন টিভির পর্দায়ও পশুপাখির সহচর সুঠামদেহি এই মানুষটিকে পেলাম, তার বিচিত্র কর্মকাণ্ডের প্রভাবে আমাদের শৈশবই যেন ক্রমশ রঙিন হয়ে উঠতে লাগলো। সে হিসেব করলে আমরা ও আমাদের প্রজন্ম এই সিনেমার কাছে অনেকটুকুই ঋণী।

 ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া তুমুল জনপ্রিয় 'ট্রেজার আইল্যান্ড' সিনেমায় 'টারজান' চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন উইলিয়াম জোসেফ লারা। সেই মানুষটির সম্প্রতি বিমান দূর্ঘটনায় নিহত হওয়ার সংবাদে একখণ্ড শৈশবকেই মরে যেতে দেখলাম যেন। স্বজন হারানোর শোকও অনুভব করলাম সে সাথে। 

'টারজান ইন ম্যানহাটন' সিনেমার দৃশ্য!
​​​

জো লারা খুব বেশি যে অভিনয় করেছেন এরকমটাও না৷ যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা এ মানুষটি অভিনয়ের পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন মার্শাল আর্ট ও মিউজিকের সাথেও। ১৯৮৮ সালে ‘নাইট ওয়ার্স’ সিনেমায় এক সৈন্যের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি। এর পরের বছরেই  'টারজান ইন ম্যানহাটান' সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করে রাতারাতি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে যান তিনি। 

পরবর্তীরে ‘গানস্মোক: দ্য লাস্ট অ্যাপাচি’ ও ‘ডেঞ্জার আইল্যান্ড’ নামে দুটি টেলিভিশন ফিল্মেও অভিনয় করেছিলেন। এরপর এক টিভি সিরিজেও অভিনয় করেন তিনি। যে টিভি সিরিজের নামও টারজান: দ্য এপিক অ্যাডভেঞ্চারস। ক্রমশ আরো কিছু অ্যাকশন মুভিতে অভিনয় করার পরে ২০০২ সালে ইস্তফা দেন সিনেমা-জগৎ থেকে। যুক্ত হন কান্ট্রি মিউজিকের সাথে৷ 

সস্ত্রীক জো লারা

দূর্ঘটনার দিনে নিজের ব্যক্তিগত চার্টার্ড বিমানে তিনি রওয়ানা হয়েছিলেন ফ্লোরিডার পাম বিচ থেকে। যাত্রা শুরুর অল্পক্ষণের মধ্যেই ন্যাশভিলের পার্সি প্রাইস্ট লেকে ক্রাশ করে বিমানটি৷ বিমানে সস্ত্রীক লারা ছাড়াও ছিলেন আরো পাঁচজন। কাউকেই আর জীবিত পাওয়া যায়নি বিমান থেকে। উদ্ধারকর্মীরা পরবর্তীতে বিমানের কিছু ধ্বংসাবশেষ এবং মৃতদেহের কিছু অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে বিমান দূর্ঘটনার জায়গাটির আশপাশ থেকে। লেকের পানিতেও তল্লাশি চলে বিস্তর। ধারণা করা হয়, পর্দার 'টারজান' এর প্রয়াণ ঘটেছে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথেই।

জীবন খুব অদ্ভুত এক মঞ্চ। হুটহাট কারণ ছাড়াই এখানে মানুষের আবির্ভাব এবং প্রস্থান ঘটে। যেমনটি ঘটলো- টারজানের ক্ষেত্রেও। মাত্র আটান্ন বছর বয়সেই এই মানুষটি রহস্যময় 'কমলালেবু গোলক' গ্রহ ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে আমাদের শৈশবের এক বড়সড় স্মৃতিভূমিকেই সজাগ করে দিয়ে গেলেন যেন। সে সাথে আবারও বোঝালেন সেই অমোঘ তত্ত্ব- জীবনের অনিশ্চয়তা। 

বিদায় টারজান, ওপারে ভালো থাকবেন। বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা