মার্ভেলের রমরমা সময়েও বক্স অফিসে ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অফ ম্যাডনেসের আয় হঠাৎ করেই কমে গিয়েছিল। জারেড লেটোর মতো অভিনেতা থাকার পরও মরবিয়াস বারবার রিলিজ করেও ফল পাওয়া যায়নি। রবার্ট প্যাটিনসনের ব্যাটম্যান ভালো করেছিল, কিন্তু একটা সময় গিয়ে তারও যাত্রা থেমে গেছে। কিন্তু সেই বাজারে উড়াল দিলো টম ক্রুজের টপ গানের সিক্যুয়াল টপ গান ম্যাভেরিক?

হলিউডে এই মৌসুমটা আসলে ততটা ভালো যায়নি। বেশকিছু সিনেমা খুব ভালো করেছে তাই বক্স অফিসের অবস্থা সামাল দেওয়া গেছে কিন্তু সিনেমা হলে দর্শক যেভাবে ফেরার কথা তা ফেরেনি। মার্ভেলের রমরমা সময়েও বক্স অফিসে ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অফ ম্যাডনেসের আয় হঠাৎ করেই কমে গিয়েছিল। জারেড লেটোর মতো অভিনেতা থাকার পরও মরবিয়াস বারবার রিলিজ করেও ফল পাওয়া যায়নি। রবার্ট প্যাটিনসনের ব্যাটম্যান ভালো করেছিল কিন্তু একটা সময় গিয়ে তারও যাত্রা থেমে গেছে। কিন্তু সেই বাজারে উড়াল দিলো টম ক্রুজের টপ গানের সিক্যুয়াল টপ গান ম্যাভেরিক।

মুক্তির ১৫ সপ্তাহ পরও থিয়েটারে আছে টম ক্রুজের এই সিনেমা। আসলে টম ক্রুজ নামটাই কেন ম্যাজিকের মতো কাজ করে। তার মিশন ইম্পসিবল নিয়ে দর্শক এখনও অপেক্ষা করে বসে থাকে। পত্রিকার পাতায়, অনলাইনে তার আসন্ন সিনেমা নিয়ে লেটেস্ট নিউজটা সবাই আগে আগে দিতে চায়। ষাটের ঘরে এসে এখনও তরুণের মতো কাজ করে যাচ্ছেন টম। তার এই তুমুল জনপ্রিয়তা টপ গান ম্যাভেরিকের সফলতার অন্যতম কারণ। সে জন্যেই ১৫ সপ্তাহ পর লেবার ডে উপলক্ষ্যে সেই সপ্তাহেও ৭০ লাখ ডলার আয় করেছে সিনেমাটি। সব মিলিয়ে এই সিনেমা বর্তমানে বক্স অফিস আয়ের ক্ষেত্রে টাইটানিকের মতো সিনেমাকে পেছনে ফেলেছে।

টপ গান সিনেমার একটি দৃশ্যে টম ক্রুজ

টম গান: ম্যাভেরিক মূলত কয়েক প্রজন্মের আগ্রহের সিনেমা। আশির দশকে প্রথম সিনেমাটি আসার পর সেটি হিট করেছিল। তখন যারা টপ গান দেখেছিলেন তারা এখন প্রৌঢ়। পরবর্তী সময়েও এ সিনেমার বহু ভক্ত তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে তরুণ এ প্রজন্ম অ্যাকশন সিনেমার নতুন ধারার সঙ্গে পরিচিত। সুপার হিরো সিনেমার দিন চলছে এখন। এর মধ্যেই পুরনো ধারার এই অ্যাকশন সিনেমা দর্শকের মুখে নতুন স্বাদ দিয়েছে। সে কারণে সিনেমাটি পরখ করতেও অনেকে গেছেন থিয়েটারে। আর তাই মুক্তির প্রথম চারদিনে ১৮ কোটি ডলার আয় করেছিল সিনেমাটি। 

কৃতিত্ব যায় সিনেমার সাথে জড়িত সকলের কাছে। সিকুয়েল নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব প্রজন্মের দর্শকদের কথা মাথায় রাখতে হয়েছে কোসিনস্কির। এ কাজে পরিচালক পুরোপুরি সার্থক। পুরনো চরিত্রদের নতুন করে আনা, ট্রেনিদের সাথে পিটের সম্পর্ক দর্শককে বোঝাতে হয়েছে তাদের। এর মধ্যে অবশ্য ভ্যাল কিলমারের অসুস্থতার মধ্যে তাকে নিয়ে আসার ব্যপারটা নিয়ে জল ঘোলা হয়েছিল তবে তা কেটে যায়। সিনেমায় ম্যাভেরিকের পাশাপাশি সাইক্লোন ও রুস্টারের চরিত্র সমান কৌতূহলোদ্দীপক এবং উপভোগ্য। ব্র্যাডলি ব্র্যাডশর (রুস্টার) পরিণতির জন্য দর্শক এখনো ম্যাভেরিককে দোষারোপ করে, কিন্তু ম্যাভেরিকের প্রতি ক্ষোভ রাখা সম্ভব হয় না। ম্যাভেরিকের গল্পের এটিই অন্যতম শক্তিশালী দিক। 

টপ গান সিনেমার একটি দৃশ্যে টম ক্রুজ

সিনেমার শুটিংয়ে প্রচুর প্লেন ওড়াউড়ির ব্যপার ছিল। সেটার জন্য আলাদা করে অভিনেতা অভিনেত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা নিজেরা এক একজন পাইলট হয়ে ওঠেন। সিনেমার দৃশ্যগুলো এ কারণে রিয়েলিস্টিক হয়েছে। অন্যদিকে তরুণ দর্শকরাও ভিএফএক্স ভিত্তিক সিনেমা থেকে বের হয়ে এসে এমন রুদ্ধশ্বাস সিনেমার স্বাদ নিতে পারল। সব মিলিয়ে সুপারহিরোদের পেছনে ফেলে উড়ে গেছেন টম ক্রুজ আর তার সিনেমা। করোনার পরে এ ধরনের একটা সিনেমা বিলিয়ন ডলার ক্লাবে ঢুকবে তা কেউ ভাবেনি। কিন্তু সে কাজটিই করেছেন টম আর তার টিম। আর পুরোটাই সম্ভব হয়েছে নস্টালজিয়ায় ভর করে বর্তমানের সঙ্গে সামঞ্জ্যস্য রেখে সিনেমা বানানোর কারণে।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা