খোকন চরিত্রে অপূর্বের অভিনয় প্রশংসার পাবার মত, আঞ্চলিক ভাষাটাও বেশ ভালোভাবে রপ্ত করেছেন। বড় ছেলের তুমুল জনপ্রিয়তার পর তার যে গতানুগতিক ইমেজ দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, সেটা এই 'ট্রল' দিয়েই ভালোভাবে ভেঙে বেরিয়ে এলেন...

আধুনিক প্রযুক্তির সৃষ্টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের জীবনকে আরো আনন্দময় করে দিয়েছে, ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু বিকৃতমনস্ক মানুষের খারাপ ব্যবহারের কারনে সামাজিক মাধ্যম তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ। আর তাদের করা সেই বিকৃত কাজগুলো নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ট্রল পেজগুলো। কিন্তু যাদের ভিকটিম বানানো হয়, তাদের মানসিকতার কথা চিন্তা করে না কেউ, আশেপাশের মানুষদেরও প্রতিক্রিয়া পালটে যায়৷ খুব একা হয়ে পড়ে, একসময় নিজের জীবনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়ে ফেলে। 

সঞ্জয় সমদ্দারের ওয়েব ফিল্ম 'ট্রল' এর গল্প গড়ে উঠেছে এই বিষয়ের উপর ভিত্তি করে। শহরে একের পর এক খুন হচ্ছে, সবার খুনের কান্ড একই রকম। এর রহস্য ভেদ করতে মরিয়া পুলিশ বাহিনী, তাদের বিশেষ সহচর থাকে খোকন। এদিকে জনপ্রিয় নায়িকা মীরা একটা বিশেষ দৃশ্যের ক্লিপিংস নিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার হচ্ছেন, এভাবেই গল্প এগিয়ে যায়।  

ট্রেলারেই প্রকাশ পেয়েছে, খোকনই সব খুন করছে,কিন্তু কেন! প্রথমেই নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দারকে বিশেষ ধন্যবাদ এই ধরনের গল্প বেছে নেয়ার জন্য, যা এই সময়ের জন্য ভীষণ প্রাসঙ্গিক। অভিনয়ে খোকন চরিত্রে অপূর্বের অভিনয় প্রশংসার পাবার মত, বিশেষ আঞ্চলিক ভাষাটাও বেশ ভালো ভাবে রপ্ত করতে পেরেছেন। বড় ছেলের তুমুল জনপ্রিয়তার পর তার যে গতানুগতিক ইমেজ দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, সেটা এই 'ট্রল' দিয়েই ভালোভাবে ভেঙে বেরিয়ে এলেন। এখন সামনের দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা। 

ট্রল ওয়েব ফিল্মের একটি দৃশ্যে অপূর্ব

নায়িকার চরিত্রে তাসনিয়া ফারিনের অভিনয় বেশ ভালো, ইতিমধ্যেই যে তিনি অনেককে ছাপিয়ে যাচ্ছেন সেটার প্রমাণ দিয়েছেন। জামশেদ শামীম ভীষণ ভালো করেছে, সৈয়দ নাজমুস সাকিব এই প্রথম বড় কোন প্লাটফর্মে নিজেকে দেখানোর সুযোগ পেল। দুইজনের জন্যই রইলো শুভকামনা। অপূর্বের বোনের চরিত্রে লরেন মেন্ডিস ও ভালো করেছে, আফসোসের বিষয় বাস্তব জীবনে আত্বহত্যার শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। শতাব্দী ওয়াদুদের শেষ অংশের অভিনয় বাদে প্রথমদিকে বিশেষ কিছু মনে হয়নি, অবশ্য সেভাবে কিছু করার ছিল না এই চরিত্রের। রাশেদ মামুন অপু ভালো অভিনয় করলেও তার চরিত্র নিয়ে চিত্রনাট্য সাজানোর সময় আরো সচেতন থাকা জরুরী ছিল কিংবা অপরিচিত অভিনেতা নিলেই ভালো হত মনে করি। 

চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন স্বরুপ চন্দ্র দে, এই গল্প আরো জমজমাট রোমাঞ্চ পাওনা করলেও মোটামুটি ঠিকঠাক, নির্মাতা হিসেবে সঞ্জয় সমদ্দার এখন পর্যন্ত সেরা কাজটাই করলেন। তার নির্মাণ নিয়ে আশঙ্কা ছিল অর্ধেকের পর গল্পের খেই হারিয়ে ফেলার,  তবে ট্রল- এ তিনি উতরে গেছেন ভালোভাবেই। গল্পের আবহে অপ্রাসঙ্গিক ভাবে প্রেম না আনার জন্য বাহবা পাবেন, তবে অপূর্বের কপালে কাটা দাগের পেছনের কথা জানা গেল না। ক্যামেরার কাজে রাজু রাজ ভালোই, আবহ সংগীতে আহমেদ হুমায়ুন বেশ জমজমাট করেছেন, তার ধন্যবাদ প্রাপ্য। মৌসুমী ভৌমিকের গাওয়া 'আমি শুনেছি সেদিন' এর আয়োজন মুগ্ধ করেছে। আরেকটা সাধুবাদ পাবেন এই ওয়েব ফিল্মের শিল্প নির্দেশক কামরুজ্জামান সুমন।

সব মিলিয়ে আমাদের দেশের ওটিটি প্লাটফর্মের যে নবজাগরণ ঘটছে তার জন্য 'ট্রোল' বেশ ভালো কাজ। সিনেমাটিক অ্যাপে এই ওয়েব ফিল্ম টা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা