পারিন্দা, মুন্না ভাই সিরিজ, থ্রি ইডিয়টস, পিকে, সানজু- দুর্দান্ত সব ফিল্মের সাথে জড়িয়ে আছে যে নাম, তিনি বিধু বিনোদ চোপড়া। নিজে সিনেমার মানুষ, অথচ তার জীবনটা কিন্ত সিনেমার স্ক্রিপ্টের চেয়ে কম কিছু নয়, বরং বেশিই বলা যায়!

পারিন্দা, মুন্না ভাই সিরিজ, থ্রি ইডিওটস, পিকে, সানজু...দুর্দান্ত সব ফিল্মের সাথে জড়িয়ে আছে যে নাম, তিনি একজন বিধু বিনোদ চোপড়া! বলিউড এবং বলিউডের বাইরে- দুই জগতেই তিনি প্রসিদ্ধ। জীবিত কিংবদন্তী এই নির্মাতা-প্রযোজক সম্প্রতি অভিজিত জোশি লিখিত “আনস্ক্রিপটেড” বইতে তার সিনেমাটিক জীবন নিয়ে আলাপ করেছেন- যেই আলাপের মধ্যে জড়িয়ে আছেন সিনেমা জগতের পরাক্রমশালী নির্মাতা-অভিনয় শিল্পীরাও! এমন কিছু ঘটনা নিয়েই আজকে আয়োজন! 

ঘটনা ১: আকিরা কুরোসাওয়ার সাথে মোলাকাত

১৯৭৭ সালে ভারতের আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মশহুর নির্মাতা আকিরা কুরোসাওয়ার সাথে দেখা হয় ভারতের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থীর সাথে। সেই শিক্ষার্থী তুমুল জনপ্রিয় জাপানী নির্মাতা কুরোসাওয়াকে কাছে পেয়ে বুঝে উঠতে পারছিলো না কি করবে। শেষে খুবই সাধারণ এক প্রশ্নের জবাবে অসাধারণ এক জবাব পেয়ে যায় সেই শিক্ষার্থী। প্রশ্নটি ছিলো, আকিরা কুরোসাওয়া কিভাবে দুর্দান্ত সব সিনেমা রচনা করেন সেই বিষয়ে। জবাব মিলেছিলো, “ফেইড ইন। লেখো, লেখো এবং লেখো । ফেড আউট!”। সেই শিক্ষার্থীর নাম আজকের ভারতের তুলকালাম নির্মাতা ও প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া! 

ঘটনা ২: অস্কারের টুকটাক

১৯৭৯ সালে ৫১তম অস্কারে “আন এনকাউন্টার উইথ ফেইসেস” তথ্যচিত্রের জন্য বিধু বিনোদ চোপড়া “বেস্ট শর্ট ডকুমেন্টারি” বিভাগে মনোনীত হন। অস্কারের আসরে বিধু বসেন জনপ্রিয় তারকা জেইন ফন্ডার সাথে। জেইন ফন্ডা বার বার নড়াচড়া করছিলেন আর এদিকে দর্শক সারিতে সবাইকে স্থির হয়ে বসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছিলো। বিধু জেইন ফন্ডাকে শান্ত হয়ে বসতে বলেন। জেইন সমস্যা বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একটু পরে জেইন কামিং হোম চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেত্রীর একাডেমি পুরষ্কার জিতলে বিধু বুঝতে পারেন একটু আগে তিনি কি করেছেন! এবার উলটো তিনি জেইনের কাছে ক্ষমা চান। জেইন হেসে জানান যে, বিধু যা করেছেন, ঠিকই করেছেন! 

অ্যান এনাকাউন্টার উইথ ফেইসেস

সেই আসরেই, বিধুর সাথে দেখা হয় গডফাদারের নির্মাতা ফ্রান্সিসকো ফোর্ড কপোলার সাথে। কপোলা বিধুকে তার স্টুডিও জোট্রপে আমন্ত্রণ জানান, হলিউডে সিনেমা বানাতে অনুরোধ করেন এমনকি কপোলার বিধুকে তার সাথে কাজ করতে বলেন। বিধু খুবই মুগ্ধ হলেও হলিউডে না থেকে নিজ ভূমিতে ফিরে এসে কাজ শুরু করেন। 

ঘটনা ৩: আলফনসো কুয়ারনের সাথে দোস্তি 

২০০১ সালে মেক্সিকান নির্মাতা আলফনসো কুয়ারনের সাথে বিধু বিনোদ চোপড়ার দেখা হয় ভারতে। প্রাগ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দুজনেই জুরি ছিলেন, খুব দ্রুতই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে বিধু কুয়ারনকে তার এক সময়ের সহকারী সঞ্জয় লীলা বানসালীর “দেবদাসের” সেটে নিয়ে যান। ঠিক একই সময়ে, কুয়ারন তার নতুন সিনেমা “ই তু মামা তামবিয়েন” এর জন্য প্রযোজক খুঁজছিলেন। বিধুর কান পর্যন্ত ব্যাপারটি পৌছালে তিনি প্রস্তাব দেন যে পুরো ফিল্মটির শ্যুট ভারতের গোয়ায় করতে পারবেন তিনি এবং কেউ দেখে বুঝতেই পারবে না যে এটি মেক্সিকো ছাড়া অন্য কোথাও চিত্রধারন করা হয়েছে। তবে, কুয়ারন পরবর্তীতে প্রযোজক সহ অন্যান্য ব্যবস্থা করে ফেলায় ব্যাপারটি আর আলোর মুখ দেখেনি, ই তু মামা তামবিয়েন এর শ্যুট মেক্সিকোতেই সম্পন্ন হয় এবং পুরো ফিল্ম সার্কিটেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। 

এরপর সময় গড়ায়, গ্র্যাভিটি (২০১৩), রোমা (২০১৮) ইত্যাদি দুনিয়া কাঁপানো সিনেমা তৈরি করেন কুয়ারন। তবে বন্ধু বিধু বিনোদের অকালের সময় নিজ থেকে এগিয়ে আসা কে ভুলে যাননি তিনি । ই তু মামা তামবিয়েন এর পর তিনি হ্যারি পটার ফ্র্যাঞ্চাইজির “প্রিজনার অব আজকাবান” (২০০৪) নির্মাণ করেন। সেই সময় বিধু আর তার স্ত্রী ছিলেন নিউ ইয়র্কে। স্ত্রী বিধুকে বলেন যেন পুরোনো বন্ধুর কাছে টিকেটের জন্য অনুরোধ করা হয়। বিধু প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও পরে মাত্র একটি টিকিটের জন্য কুয়ারনকে অনুরোধ করেন। কুয়ারন বন্ধুকে ভুলে যাননি। পুরো পরিবারের জন্য হ্যারি পটারের টিকিট দেয়া হয়, এমনকি ফিল্ম দেখার সময় তিনি বিধুর পাশে বসেন আর ফিল্ম শেষ হওয়ার পর ডিনারেও আমন্ত্রণ জানান। একেই  বলে সিনেমাটিক ফ্রেন্ডশীপ! 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা