নারী ফিল্ম-মেকারদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে এক কর্মশালার। বিশ্ব নারী দিবসে ১৬ জন নারী নির্মাতাকে এই কর্মশালায় যুক্ত করা হয়। পুরুষ-শাসিত দুনিয়ায় নারীদের অভিজ্ঞতাই হবে শর্টফিল্মের বিষয়-বস্ত, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার আওয়াজ তোলাই এর লক্ষ্য।

দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের আলো রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এবং তার বই 'সুলতানার স্বপ্ন' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নারী ফিল্ম-মেকারদের একত্র করার জন্য আয়োজন করা হয়েছে এক কর্মশালার। গত ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে ১৬ জন নারী নির্মাতাকে এই কর্মশালায় যুক্ত করা হয়।  এদের মধ্য থেকে তিনজন কে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ প্রজেক্টের আওতায় স্বল্প-দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুদান দেয়া হবে। পুরুষ-শাসিত দুনিয়ায় নারীদের অভিজ্ঞতাই হবে শর্টফিল্মের বিষয়-বস্ত, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার আওয়াজ তোলাই এর লক্ষ্য। একটি অনলাইন সেশনের মাধ্যমে ১৬ জন নারীকে নির্বাচন করা হয়। 

জানুয়ারী মাসে নারী নির্মাতাদের জন্য এক্সক্লুসিভ একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জমা পড়েছিল ১০০টি চিত্রনাট্য, বাছাই করা হয় ১৬টি। এই ১৬ জন চিত্রনাট্যকারকে নিয়ে আয়োজিত হবে একটি কর্মশালা। কর্মশালা পরিচালনা করবেন দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্বরা। 

এই কার্যক্রমের উদ্যোক্তা চলচ্চিত্র নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন। নারীর প্রতি যৌন নির্যাতন রোধে নিরবতা ভাঙার জন্য ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ নামের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, ”নারীদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সুষ্ঠু পরিবেশ আর  সিনেমা অঙ্গনে জেন্ডার ব্যালেন্স আনার জন্য এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।” রুবাইয়াত আরো বলেন-

“আমি ভাবিনি, সবাই আমাদের উদ্যোগটাকে এভাবে গ্রহণ করবেন। আমরা এই ১৬ জনকে চিঠি লিখে অভিনন্দন জানিয়ে “হার স্টোরিজ: অ্যাডভেঞ্চার অব সুপারগার্লস” বইটা পাঠাব। তাঁরা ইতিমধ্যে যৌন নির্যাতন নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন। আমরা চাই, নারীরা তাঁদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতন নিয়ে কথা বলুক। প্রতিবাদ করুক, তা নিয়ে সিনেমা বানাক। সবার সিনেমা প্রযোজনা করা সম্ভব হবে না। তবে ওয়ার্কশপটা তাঁদের প্রজেক্টকে সামনে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে। এই ১৬ জনের ভেতর থেকে ৩ জনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রযোজনা করা হবে।”

রুবাইয়াত হোসেন

খনা টকিজ ও গ্যোটে ইন্সটিউট বাংলাদেশের সাথে যৌথ ভাবে চলচ্চিত্র সম্পর্কিত বিভিন্ন আয়োজন করা হবে ভবিষ্যতে। এর আয়োজক রুবাইয়াত হোসেন ‘মেহেরজান’, ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একজন নির্মাতা। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা