ডার্ক কমেডি জনরায় ইউটিউমার হয়তো ক্লাসিক কিছু হয়নি। তবে যেখানে এই জনরাটাই নতুন, কন্সেপ্ট নতুন সেখানে সুপ্রচেষ্টা হিসেবে ইউটিউমার সাধুবাদ পাবার যোগ্য। সাথে পলাশ ও প্রীতমের দারুণ অভিনয় বাড়তি পাওয়া...

ইউটিউমার নামটা শুনলেই দু ধরণের চিন্তা খেলা করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একে তো ইউটিউবার জিনিসটাই নেগেটিভ হয়ে গেছে তাই ইউটিউমার শুনলে স্বাভাবিকভাবেই মনে হয় সেসব ইউটিউবারদেরকেই ইউটিউমার বলা হচ্ছে। আর দ্বিতীয়ত, এই ইউটিউবারদের আমাদের সমাজে অনেকটা টিউমারের মতোই ট্রিট করা হয়; এমনকি যারা ভালো কাজ করে, ভালো কন্টেন্ট প্রডিউস করে তাদেরও অনেক চোখ বাঁকা করে দেখে। তো আদনান আল রাজীবের প্রজেক্টের নাম চয়েসটাই বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। 

আদনান আল রাজীবের কাজের জন্য অপেক্ষা করা দর্শক হিসেবে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ। তাকে নিয়মিত ফিচার ফিল্ম, নাটক, সিরিজে দেখার ইচ্ছা আমাদের সকলেরই। কিন্তু রাজীব আসেন অনেক বিরতি নিয়ে, এবার যেমন আসলেন পুরোদস্তুর ফিল্ম নিয়েই। ইউটিউমার- ওটিটিতে যখন ক্রাইম থ্রিলারের রমরমা অবস্থা, ঠিক সেসমইয় রাজীব এলেন ডার্ক কমেডি নিয়ে। ইউটিউবার কন্সেপ্ট, ভাইরাল হবার নেশা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরো ব্যাপারটা কীরকম হতে পারে সেসব সিচুয়েশনাল কমেডি নিয়েই ইউটিউমারের গল্প। কন্সেপ্ট নতুন, জনরাটাও, তাই চ্যালেঞ্জও প্রচুর।

ইউটিউমারের গল্প দুটো ভ্যাগাবন্ড ছেলেকে ঘিরে। একজনের নাম ডন আর অন্যজনের নাম মন্টি। দুজনেই মাস্কট সেজে বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলার চাকরি করে দিনাতিপাত করে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা উপায় খুঁজতে থাকে কীভাবে শর্টকাটে পপুলার হওয়া যায়, টাকা কামানো যায়!

ইউটিউমারের একটি দৃশ্যে প্রীতম ও পলাশ

এভাবেই একদিন তারা আবিষ্কার করে ভাইরাল হবার তরিকা। এক মেয়ে সুইসাইডের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ সাবস্ক্রাইবার বানিয়ে পরেরদিন মেকাপের টিউটোরিয়াল করে। এসব দেখে মন্টির মাথায় আইডিয়া আসে ডনের অভিনয় প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে হলেও তাকে ভাইরাল বানাতে হবে। কিন্তু সে ভাইরাল হতে গিয়ে একের পর এক মিথ্যা বলে আর হুজুগে পড়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনে তারা। 

এই সিনেমার মূল ক্যারেক্টার ডন চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রীতম হাসান। ডনের মাঝে যে শঙ্কা, দ্বিধা, ভয় ছিল প্রীতমের অভিনয় ও অভিব্যক্তিতেও সেটা উঠে এসেছে। ঠিক এ জায়গাটায় তাকে কমপ্লিমেন্ট করেছে জিয়াউল হক পলাশ। পলাশের আত্মবিশ্বাস, সব জায়গায় বন্ধুকে উদ্ধারের চেষ্টা দারুণভাবে মানিয়ে গেছে মন্টি ক্যারেক্টারের সাথে। 

প্রীতম-পলাশের জুটি মানিয়েছে চমৎকার

এই দুজনের সাথে শরাফ আহমেদ জীবন, শরীফ সিরাজ, গাউসুল আলম শাওন, তাপস মৃধাদের অভিনয়ও ছিল উপভোগ্য। এ ধরণের সিনেমায় সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হতে হয় ডায়লগ। সে ডায়লগের দিক থেকে ইউটিউমার অনেক প্রশংসা পাবার যোগ্য। অনেক ডায়লগেই ইউটিউমার টিম সুগারকোট করে ক্রমাগত পিঞ্চ করে গিয়েছে বাংলাদেশের সোশিও-ইকোনমিক্যাল ওয়েদার, পলিটিক্যাল ও পার্সোনাল গেইন ও যার যার স্বার্থসিদ্ধিকে। পরিচালক কোন রাখঢাক রাখেননি এসব ক্ষেত্রে। এমনকি গানের লিরিকেও তার আভাস পাওয়া যায়-

"সুযোগের অভাবে হুজুগে বাঙালি,
বানরের খেলা দেখে দেয় যারা হাততালি..."

ইউটিউমারের টেকনিক্যাল দিক খুবই শক্তিশালী। কালার গ্রেডিং, প্রোডাকশন সবকিছুতেই বেশ ভালো বাজেট খরচ করা হয়েছে। মিউজিকও ছিল বেশ উপভোগ্য, বিশেষ করে টাইটেল ট্র্যাকটা। ডার্ক কমেডি জনরায় ইউটিউমার ক্লাসিক কিছু হয় নি। তবে যেখানে জনরাটাই নতুন, কন্সেপ্ট নতুন সেখানে সুপ্রচেষ্টা হিসেবে ইউটিউমার সাধুবাদ পাবার যোগ্য। সাথে পলাশ ও প্রীতমের দারুণ অভিনয় বাড়তি পাওয়া। আদনান আল রাজীবকে নিয়মিত পর্দায় কাজ করতে দেখতে চাই, তার ক্যালিবার আছে আরও ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দেয়ার। ইউটিউমারের পাগলা ঘোড়া টগবগাইয়া ছুইট্যা চলুক...


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা