ঢাকায় তখনো অল্প অল্প শীত। সরওঠা ঘন দুধ চা' এর মতন জমাট কুয়াশার পলেস্তারা দেয়া সকালে চাদর গায়ে চাপিয়ে তিনি বের হলেন বড় ভাইয়ের খোঁজে। খুঁজতে খুঁজতে চলে গেলেন অনেক দূরে। এত দূরে, যেখান থেকে ফিরে আসা যায়না আর। এরপর একসময়ে টুপ করেই কুয়াশার মাঝে মিশে গেলেন তিনি। চিরতরে।

তখন আমার বয়স খুব কম। বাসায় ১৭ ইঞ্চি ফিলিপস এর সাদা-কালো টিবি। নব ঘুরিয়ে খট খট করে একটাই চ্যানেল ঘুরেফিরে। বিটিভি। ষোলই ডিসেম্বর, ছাব্বিশে মার্চ, একুশে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সিনেমা- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড। মাঝেমধ্যে আলোর মিছিল, জীবন থেকে নেয়া। জানিনা, কোনো এক অদ্ভুত কারণে- জীবন থেকে নেয়া আমার খুব প্রিয়। 'এ খাঁচা ভাঙ্গবো আমি কেমন করে' গানটাও খুব প্রিয়। যতবারই বিটিভিতে এ সিনেমা দেখাতো, আমি বাবল গামের সাথে দেয়া ফ্রি স্টিকারের মতন আটকে থাকতাম টিভিপর্দার সামনে। অনেক পরে গিয়ে জানতে পারি, এই সিনেমার পরিচালক জহির রায়হান। অনেক পরে গিয়ে জানতে পারি, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সিনেমার তাৎপর্য।  অনেক পরে গিয়ে জানতে পারি, আমাদের একজন জহির রায়হান ছিলেন। যিনি হারিয়ে গিয়েছেন ক্যামেরা হাতে নিয়ে। যিনি আর ফিরবেন না কখনোই। 

কলেজে উঠেছি। একদিন হাতে পেলাম 'বরফ গলা নদী।' দুপুরে ভাত খেয়ে ভাতঘুমের বদলে হাতে বই। একেবারে শেষবেলায় বই যখন শেষ হলো, ভেতরের কোথায় যেন ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছে সব! চোখের কোনে চিকচিক করছে তরল কী যেন! বরফ গলে নদী যেন ভেতরেই গজিয়ে উঠেছে আচমকা! শীতল ক্রোধে ভাসিয়ে দিচ্ছে সব। গল্প-উপন্যাস আর সিনেমা দেখে কান্নাকাটি, ওগুলো কোনোদিনই আসেনি। কিন্তু কয়েক হাজার অক্ষর দিয়ে যে ভেতরকে বিরানভূমি করে দিয়ে যাওয়া যায়, সেটার উপলব্ধি সেই প্রথমবার। ঠিক এই কাজটাই করেছিলেন জহির রায়হান। 

এরকম কাজ তিনি বহুবার করেছেন। কখনো কলম দিয়ে। কখনো ক্যামেরা দিয়ে। ফেনীর মজুপুরে আজ থেকে ঠিক ৮৫ বছর আগে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি, যার পোশাকি নাম আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ, ডাক নাম জাফর। প্রথম বয়সে ছিলেন কলকাতায়। ৪৭ এর দেশভাগের পর আসেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। বরাবরই আক্ষেপ করেছি, দেশভাগের পরে অনেক মানুষই চলে গিয়েছেন কলকাতায়। অনেক কৃতী মানুষ ছিলেন এ দেশেরই জল-হাওয়ায়। থাকেননি। মানচিত্রের মকশোবাজিতে তারা হুট করেই হয়ে গেছেন ও প্রান্তের আগন্তুক। সেখানে আমরা এ মানুষটির ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি উল্টো উপাখ্যান! দূর থেকেই চলে এসেছেন কাছে।  


ম্যাট্রিক পাশ করে ঢাকায় চলে আসেন জহির রায়হান।ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীনই কমিউনিস্ট আন্দোলন নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। সারাদিন বই-খাতার মধ্যে মুখ ডুবিয়ে রাখতেন আর নিজের রাজনৈতিক আর সৃজনশীল চিন্তাভাবনাকে শাণ দিতেন। কমিউনিস্ট কমরেড মনি সিংহ তাঁর নাম দেন জহির রায়হান। এরমধ্যেই শুরু হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান- পশ্চিম পাকিস্তান... সৎ ভাইদের হুটোপুটি। কার্জন হল- জিন্নাহ'র 'উর্দু এ্যান্ড উর্দু শ্যাল বি দ্য স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ অব পাকিস্তান'- ছেলেমেয়ের বিক্ষোভ। বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারির আমতলার সেই সমাবেশে খুঁজলে আমরা সুতির শার্ট আর প্যান্টের সেই ছিপছিপে তরুণকেও পাবো। এখান থেকে দশজন মানুষকে উঠানো হয় পুলিশ ভ্যানে, সেই পুলিশ ভ্যানেও আমরা পাবো তাকে। এই আমতলা, এই শ্লোগান, মিছিলের কালো কালো মাথা... জহির রায়হানের কী সেদিন থেকেই মুক্তিযুদ্ধ আর বাংলাদেশ নিয়ে কিছু করার ইচ্ছে ? জানা নেই কারো। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে বের হয়ে তিনি 'যুগের আলো' পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। সে সময়টা বড্ড কায়ক্লেশের। সারাদিন লেখার পেছনে দৌড়। অক্ষর, কালির গন্ধ, প্রেসের খটখট... কিন্তু মাসশেষে যে টাকা হাতে, সে টাকায় মাসের আলু ভর্তা-পাতলা ডাল-ভাতের  খরচটাও উঠতোনা। এক পত্রিকায় কাজ করে চলছিলো না। খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমা নামের  পত্রিকাতেও কাজ শুরু করতে হয় নিতান্ত বাধ হয়ে। লেখালেখি ছাড়া আর তো কিছু পারেননা। তাই পাগলের মত লিখতেই শুরু করলেন। দুই বেলা খেতে হবে তো। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে গিয়েছিলেন, এই বঙ্গদেশে লেখালেখি করে পেট চালানো খুব শক্ত। জহির রায়হানের প্রিয় লেখক ছিলেন মানিক। প্রিয় লেখকের কথাকে মিথ্যে প্রমাণ করার জন্যেই উঠেপড়ে লাগলেন তিনি। লিখতে লাগলেন। কলমকেই শক্ত করে চেপে ধরলেন, যেভাবে চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে থাকা প্যাসেঞ্জার শক্ত করে ধরে থাকে বাসের লোহার হ্যান্ডেল। 

পঞ্চাশের দশকে জহির রায়হানকে নিয়ে খুব মুখরোচক কিছু গল্প চাউর ছিলো। বলা হতো- জহির রায়হান ঘন্টার পর ঘন্টা চায়ের দোকানে বসে থাকতেন। মানুষের কথাবার্তা শুনতেন। সেই কথাবার্তাকেই তিনি তাঁর গল্পের চরিত্রগুলোর মুখ দিয়ে বলাতেন। লেখালেখি নিয়ে এতটাই পাগলামি ছিলো তাঁর। 

সেই পাগলামি বই হয়ে আসে ১৯৫৫ সালে।   তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। সেই গল্পগ্রন্থের অনেক গল্পেরই প্লট, কথোপকথন বিভিন্ন চায়ের দোকান থেকে নেয়া। গল্পের বইটি প্রকাশিত হওয়ার পরের বছরেই তিনি 'প্রবাহ' পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। আস্তে আস্তে লেখক হিসেবে পরিচিতি বাড়ছিলো। লিখলেন হাজার বছর ধরে। বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ পঞ্চাশটি উপন্যাস করলে যে তালিকায় অবধারিতভাবে আসবে এই উপন্যাস। লিখেছেন আরেক ফাল্গুন, শেষ বিকেলের মেয়ে, তৃষ্ণা সহ আরো কিছু উপন্যাস। গল্পও লিখেছেন অজস্র। ছোট গল্পকার হিসেবে কী দুর্দমনীয় ছিলেন তিনি। গল্পগুলোতে মাঝেমধ্যেই ঘুরেফিরে আসতো বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন। খ্যাতিমান লেখক হুমায়ুন আজাদ মন্তব্য করেন-  কথাসাহিত্যিক জহির রায়হানকে অমন শক্তিমান করেছে এই ভাষা আন্দোলনই। জহির রায়হানের লেখাতে যেন আমরা এই বাক্যকেই সত্য হতে দেখি বারবার। 

কলম হাতে বরাবরই তিনি ছিলেন শক্তিমান

এর পরের বছরে এসেই তিনি কলম ছেড়ে হাতে নিলেন ক্যামেরা। ১৯৫৭ সালে, জাগো হুয়া সাভেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করা শুরু করেন তিনি। এই সিনেমাটি পরবর্তীতে অস্কারেও যায়। এবং এটিই পূর্ব পাকিস্তান থেকে অস্কারে পাঠানো প্রথম সিনেমা। দ্বিতীয় সিনেমা- মাটির ময়না। 

আরো কিছু সিনেমাতেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি, সেসময়ের ডাকসাইটে পরিচালকদের সাথে। হয়তো বুঝে নিচ্ছিলেন এ জগতের হালচাল। এরপরে ১৯৬১ সালে সাহস করে নিজেই বানালেন সিনেমা- কখনো আসেনি। এর তিন বছর পরে তিনি নির্মান করেন- সঙ্গম। যেটি ছিলো পাকিস্তানের প্রথম রঙিন সিনেমা। এর আগে পরেও সিনেমা করেছেন বেশ কিছু। সিনেমায় ব্যবহার করেছেন নিত্যনতুন প্রযুক্তিও। পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন। মাঝখানে রাজনীতি নিয়েও ব্যস্ত হয়ে গেলেন। আইয়ুবের পতনের জন্যে উনসত্তরের গন অভ্যুত্থানের মিছিলের মাথা গুনলে পাওয়া যাবে তাকেও। এতসবের ভীড়ে বায়ান্নোর আমতলার সেই স্মৃতি, সেই উপলব্ধি বুঝি মুছে যায়না। ১৯৭০ সালে এসে নির্মান করেন 'জীবন থেকে নেয়া।' একটা চাবির গোছা, একটি সংসার, একজন জাঁদরেল কর্ত্রী... জীবন থেকে নেয়া হয়ে যায় বাংলাদেশের এমন এক মাস্টারপিস, যে মাস্টারপিসের ধারেকাছেও আসেনি আর বাংলাদেশের কোনো সিনেমা! 

ক্যামেরার চোখ দিয়ে তিনি শাসন করতেন! 

সিনেমাটা তৎকালীন পাকিস্তান শাসকদের খুব একটা ভালো লাগেনা। তারা নানারকম হুমকিধামকি দেন। জহির রায়হান এসব হুমকিকে থোড়াই কেয়ার করেন। সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির ওপরে ঘিয়ে রঙা চাদর জড়িয়ে হয়তো তিনি মুচকি হাসেন। হয়তো মাথার মধ্যে খেলা করছে আরেক সিনেমার প্লট। হয়তো কদিন পরেই আবার গর্জে উঠবে তাঁর ক্যামেরা! 

এরইমধ্যে ভারী মর্টার, গোলাগুলি, বন্দুক। যুদ্ধ নেমেছে। একটা দেশ প্রসব হবে কিছুদিন পরেই। জহির রায়হান চলে গেলেন কলকাতায়। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি রাইফেল ধরেননা। তিনি রাইফেল চালাতেও জানেন না। তিনি চালাতে পারেন ক্যামেরা। তাই থার্টি ফাইভ এম এম ক্যামেরা আর ক্যামেরার রিলকেই বানালেন অস্ত্র। কলকাতায় বসেই বানাতে লাগলেন দেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে তথ্যচিত্র। সে সাথে দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে অর্থ সংগ্রহের কাজও চলতে লাগলো তাঁর। 'জীবন থেকে নেয়া' প্রিমিয়ার করা হলো কলকাতাতেও। এ সিনেমা দেখে মুগ্ধ হলেন তপন-মৃণাল- সত্যজিৎ! প্রচুর হাততালি পেলেন। কিন্তু হাততালিতে পেট কবেই বা ভরেছে কার? পেটে তখন তাঁর তীব্র খিদে। হাতে টাকা নেই। ঘরে চাল নেই। এরমধ্যেই চলচ্চিত্র প্রদর্শনী থেকে কিছু টাকা হাতে পেলেন। পাগলাটে মানুষটা সে টাকা থেকে একটা পয়সাও রাখলেন না। পুরো টাকাটাই মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দিলেন তিনি। কী করবেন? দেশকে ভালোবাসেন তো। হয়তো খিদে পেটে আরো কিছুদিন থাকবেন। কিন্তু তাতে কী? দেশের জন্যে কিছু তো করা গেলো।

যুদ্ধের গোলাবারুদের জবাব তিনি দিচ্ছিলেন স্টপ জেনোসাইড, বার্থ অব নেশন, লিবারেশন ফাইটারস, ইনোসেন্ট মিলিয়নস বানানোর মাধ্যমে। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানিদের বর্বরতার উপাখ্যান। এই ছিপছিপে, রোগা, দুর্বল মানুষটিই গড়ে তুলেছিলেন দুর্বার প্রতিরোধ। ক্যামেরা, শুধুমাত্র ক্যামেরাকে সম্বল করেই। তছনছ করেছেন পশ্চিম পাকিস্তানিদের হিংস্র, বিকৃত চেহারা। একবার না বারবার। করেই গিয়েছেন। যতদিন পেরেছেন। 

জীবনযাপন ছিলো সাধারণ, ছিমছাম, নিপাট 

১৯৭১ সালের ১৭ ই ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। গতকালই তিরানব্বই হাজার পাকিস্তানি সৈন্য নাকে খত দিয়ে এদেশ ছেড়েছে। এরপরেই সব কেমন শান্ত। 'অল কোয়াইট  অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট' এর মতন সব চুপ। যুদ্ধশেষে নেমে এসেছে নীরবতা। কোথাও কোনো টু শব্দও নেই। ইতস্তত পদক্ষেপ। পায়ের নীচে হুটহাট পড়ে যাচ্ছে শুকনো পাতা। সে শুকনো পাতা ভেঙ্গে যাওয়ারও শব্দ আসছে কানে। এত চুপচাপ সব। এরইমাঝে দেশে ফিরলেন তিনি। 

দেশে এসে চুপচাপ বসে থাকা গেলোনা। নিখোঁজ ভাই, আরেক খ্যাতিমান লেখক শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে বের হলেন। যাকে আলবদর বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছে দুই-তিন আগে। কিন্তু কোথায় খুঁজবেন ভাইকে? চারপাশে ধ্বংসস্তুপ, লাশের মিছিল। পঁচা-গলা-তাজা লাশের পাহাড়। রক্ত আর রক্ত। কোথায় আছে ভাই। জহির রায়হান দিশেহারা হয়ে গেলেন। তবু হাল ছাড়েন না। 

ঢাকায় তখনো অল্প অল্প শীত। জানুয়ারিও শেষ হয়ে এসেছে। দুইদিন পরে ফেব্রুয়ারি মাস শুরু। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে প্রথম ভাষার মাস শুরু হবে। সরওঠা ঘন দুধ চা' এর মতন জমাট কুয়াশার পলেস্তারা দেয়া সকালে চাদর গায়ে চাপিয়ে বের হলেন ভাইয়ের খোঁজে। খুঁজতে খুঁজতে চলে যান অনেক দূরে। এতটাই দূরে, যেখান থেকে ফিরে আসা হয় না আর৷ এরপর  টুপ করেই কুয়াশার মাঝে মিশে যান তিনি। আর ফিরে আসেননা। খসে যাওয়া শুকনো পাতার মত মিশে যান সময়ের কোনো এক অজ্ঞাত গলিতে! 

সবাই বলে, নিখোঁজ হয়েছেন জহির রায়হান। কিন্তু কেউ বলে না, এই মানুষটির সাথে নিখোঁজ হয়েছে এ দেশের সিনেমা, এ দেশের  শিল্প আর সংস্কৃতি। যার প্রয়াণে এমন গভীর ক্ষত তৈরী হয়েছে, যে ক্ষত সারেনি আজও। লেট দেয়ার বি লাইট অসমাপ্ত রেখে গিয়েছিলেন তিনি। অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে সবকিছুই।

হুট করেই এক শীতের সকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছেন যে আলোর ডাকপিয়ন, তার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি রইলো। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা